ঢাকা      বুধবার ২১, অগাস্ট ২০১৯ - ৫, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অবসরে লেখালেখি করতে পারে: মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ও বিএসএমএমইউতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এ চিকিৎসক বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মেডিকেল কোরে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার বিশেষ প্রবন্ধের বই ‘পৃথিবীর প্রতি ধূলিকণায়’। একুশের গ্রন্থমেলায় বুক স্টলে বসে তিনি মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন লেখালেখি ও তাঁর নানা স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর তনয়

মেডিভয়েস: আপনার বেড়ে ওঠা ও লেখক হয়ে ওঠার গল্প বলুন।

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: আমার জন্ম রাজশাহীতে। বাবা চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইলে।  প্রায় সব বাঙালির মত শৈশবে আমিও স্পর্শকাতর ছিলাম। 'অ - তে  অই অজগর আসছে তেড়ে' পড়ে ছন্দের অনুরক্ত হয়ে পড়ি। সময়টা ক্লাশ সেভেন থেকে শিশু সংগঠন কচি কাঁচার মেলায় জড়িয়ে পড়ি। দেখি মেলার বন্ধুরা অনেকেই লেখালেখি করছে। আমিও শুরু করলাম। 

প্রথম লেখা ছাপা হল সংবাদে। ছড়া। তারপর কচিকাঁচার মেলা, ধান শালিখের দেশ, নবারুন, শিশুসহ বিভিন্ন কাগজে প্রায় দু’হাতে লিখেছি। বাবার চাকরির সুবাদে তখন টাঙ্গাইলে ছিলাম। শহরটি সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় অগ্রবর্তী ছিল। তার প্রভাব আমার ওপরেও পড়ে।

মেডিভয়েস: এর আগে আপনার আর কোনো বই প্রকাশিত হয়েছে?

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: ধন্যবাদ। এ পর্যন্ত আমার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম বইটি হলো, `যে গল্প ত্রাসের যে গল্প দুঃসাহসের’ আর এ বছর প্রবন্ধটি হলো, 'পৃথিবীর প্রতি ধূলিকণায়'।

মেডিভয়েস: আপনার প্রথম বইটি সম্পর্কে জানতে চাই

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে ওয়েস্টার্ন সাহারায় কাজ করি। সেই সোনালী অভিজ্ঞতা খেরো খাতায় লিখে রাখতাম। বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও লিখি। বন্ধু ও পুস্তক প্রকাশকরা সেই লেখাগুলিকে বই আকারে লিপিবদ্ধ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এভাবেই স্মৃতিকথন 'যে গল্প ত্রাসের যে গল্প দুঃসাহসের' আলোর মুখ দেখেছে।

মেডিভয়েস: লেখক হিসেবে কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন?

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: আমি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। অনেক নিয়ম মানতে হয়। 

মেডিভয়েস: পেশাগত দায়িত্ব পালন ও লেখালেখি, দুটো কীভাবে সমন্বয় করেন?

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: কেউ যে পেশায় থাকুক না কেন কিছুটা হলেও অবসর থাকে। আমি অবসরের সময়কে লেখালেখিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।

মেডিভয়েস: যারা নতুন লিখিয়ে, বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষার্থী তাদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন?

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অন্য যে কোন বিষয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম ও সাধনা দিয়ে পেশাগত পড়ালেখা করতে হয়।আবার এই বিষয়ে শুধু মেধাবীরাই পড়তে পারে। এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে অবসরের সময় লেখালেখির চর্চা করতে পারে। তবে ভাল লেখতে গেলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে পাঠক হিসেবেও প্রচুর পড়ার প্রয়োজন আছে।

মেডিভয়েস: আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে বলুন ।

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিজ্ঞান। মুক্তচিন্তা, প্রগতিমনস্ক আলোকিত ব্যক্তিদের সান্নিধ্য আমার কাছে স্বপ্নের মতই আনন্দ ও শিক্ষনীয়।

মেডিভয়েস: আপনার জীবনের বিশেষ কোনো স্বপ্ন কী?

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: অনেক অনেক স্বপ্ন। সবই দেশকে ঘিরে, এই প্রজন্ম ঘিরে। পৃথিবীর অন্তত ২০টি জনপদ ঘিরে আমার এই প্রতীকী জন্ম হয়েছে যে, আমরা, বাঙালিরা মেধায় কারো চেয়ে কম নয়। শুধু প্রয়োজন-স্বল্প, মধ্যম, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। দিন বদলের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই সমন্বয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।

মেডিভয়েস: স্যার, মেডিভয়েস সম্পর্কে  কিছু বলুন।

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: মেডিভয়েসকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।প্রথম সমস্যা সম্ভবত অর্থনৈতিক। এ ব্যাপারে আমাদের পেশার উঁচু স্থানে যারা আছেন, তাঁদের এগিয়ে আসা উচিৎ। চিকিৎসকরা সামাজিকভাবে ক্রান্তিলগ্ন পেরুচ্ছে।মিথ্যা প্রোপাগান্ডা আমাদের এই মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমাদের শত প্রতিবাদী স্বরকে একই সুরে একতাবদ্ধ করে উঁচু গলায় গাইতে মেডিভয়েস কাজ করে যাবে বলেই আমি আশাবাদী। 

মেডিভয়েস: মূল্যবান সময় দেওয়ায় আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে আপনার সুস্বাস্থ্য এবং উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করছি।

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ: আপনাদেরও ধন্যবাদ। পাঠকদের সঙ্গে আমাদের সেতুবন্ধন তৈরিতে আপনাদের ভূমিকা অনন্য।

একনজরে বই পরিচিতি

গ্রন্থ: পৃথিবীর প্রতি ধূলিকণায়
লেখক: মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ
প্রকাশক: বিদ্যাপ্রকাশ
বইমেলা স্টল নং: ২৪৩-২৪৬

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর