২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০২:০৫ পিএম

ক্যান্সার প্রতিরোধে হাঙ্গরের ডিএনএ ম্যাপিং

ক্যান্সার প্রতিরোধে হাঙ্গরের ডিএনএ ম্যাপিং

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাদা রঙের হাঙ্গরের বৃহদাকার প্রজাতিটি হয়তো ক্যান্সার এবং বয়স জনিত রোগ নিরাময়ের গোপন রহস্য ধারণ করে রেখেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি গ্রেট হোয়াইট শার্কের ডিএনএ'র প্রথম ম্যাপিং প্রকাশিত হবার পর এ ধারণা করছেন তারা। ডিএনএ'র ম্যাপিংয়ে দেখা যায়, সেখানে জিনের ডিএনএ গঠনের স্থায়ী পরিবর্তন বা ‘মিউটেশন’এর যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে, তা প্রাণীকে ক্যান্সার ও বয়স জনিত রোগ থেকে রক্ষা করে।

এ অবস্থায় বিজ্ঞানীরা এ বিষয়টিতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। আরো গবেষণার মাধ্যমে এ থেকে প্রাপ্ত ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে বয়স জনিত রোগ নিরাময়ে কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় এই সাদা হাঙ্গর নিজে থেকেই তার নিজের ডিএনএ মেরামত করার ক্ষমতা রাখে, যেমনটি মানুষের নেই।

এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ফ্লোরিডার নোভা সাউথ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী, ‘সেভ আওয়ার সিজ শার্ক রিসার্চ সেন্টারের’ ব্যানারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের কিছু 'পরিবর্তনশীল জিন' বয়স জনিত রোগ ও ক্যান্সারের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

হাঙ্গরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান করে আসছে। আর সেজন্যেই নিজেরাই তাদের জিন মেরামত করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষতি কাটিয়ে সহনশীল হবার বিকাশ ঘটেছে।

গবেষণাটির সহ-অধিনায়ক ড. মাহমুদ শিভজি বলেন, জিনোমের অস্থিতিশীলতা বা পরিবর্তনশীলতা মানুষের বহু গুরুতর রোগের জন্যে দায়ী।

এসব বৃহদাকার ও দীর্ঘজীবী হাঙ্গরগুলোর ক্ষেত্রে প্রকৃতি জিনোমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুচতুর কৌশল বিকাশ করেছে।

তার মতে, বিবর্তনের এইসব বিস্ময়কর বিষয় থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এসব তথ্য থেকে ক্যান্সার এবং অধিক বয়সের বিভিন্ন রোগ কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে তা যেমন জানা যাবে, তেমনি ক্ষত নিরাময়ের কৌশলও পাওয়া যাবে, যা প্রাণী জগতে অনেকেই করে আসছে।

প্রায় ১৬ মিলিয়ন বছর ধরে সাগরে বিচরণ করছে এই গ্রেট হোয়াইট শার্ক। এদের সবচেয়ে বড় প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে হয় ২০ ফিট এবং ওজন হয় ৩ টন।

হাঙ্গরের ডিএনএ মানুষের চেয়ে কমপক্ষে দেড় গুণ বড় হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন, ডিএনএ-তে সংরক্ষিত সেইসব তথ্য বা কোড-এর অর্থ বের করতে। এর মাধ্যমে হাঙ্গর তার সমস্যার সমাধান কিভাবে করছে সেই রহস্য কাজে লাগানো যাবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাঙ্গর সাধারণত গুরুতর আহত অবস্থা থেকে নিজেদের দ্রুত নিরাময় করে তুলতে পারে। সুতরাং কাঙ্ক্ষিত তথ্য তাদের ক্ষত নিরাময় ও রক্ত জমাট বাধার সমস্যার সমাধানও দেবে।

প্রকৃতির অন্যতম ভয়ঙ্কর এই প্রাণীটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরবে এই গবেষণা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে