ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২২, অগাস্ট ২০১৯ - ৭, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

বেসরকারিখাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ মেডিকেল কলেজ

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ

মেডিভয়েস ডেস্কঃ  বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হল অনেক প্রতিযোগীর জন্য সীমিত সংখ্যক আসন। এই নির্মম বাস্তবতায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে ব্যর্থ হয় সরকারী মেডিকেল কলেজ গুলোতে। এদের মধ্যে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তাদের জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলো। তবে এক্ষেত্রে সেই মেডিকেল কলেজই পছন্দ করা উচিত যারা শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হতে পারে একটি সুন্দর সমাধান। 
বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল দেশের সর্বপ্রথম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ। ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় এর যাত্রা শুরু হয় ২৪ এপ্রিল ১৯৮৬ সালে এবং ক্লাস শুরু হয় ১ জুলাই ১৯৮৬ তে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টাডি এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট (বিএমএসআরআই)। এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা। 

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ১০ মে  ১৯৮৮ সাল হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এম. এম. জামান, প্রফেসর আবু আহম্মদ চৌধুরী, প্রফেসর কে. এ. এম কামরুদ্দীন, প্রফেসর এম. আই. চৌধুরী, প্রফেসর চৌধুরী হুমায়ুন কবীর, প্রফেসর শামসুল হক, আব্দুল বারিক চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হলেন প্রফেসর ডা. তাইমুর দেওয়ান । 

দেখতে দেখতে এ ক্যাম্পাস পা দিয়েছে ২৮ তম বর্ষে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৫৯ জন শিক্ষক ও ৫৫০ জন শিক্ষার্থী। প্রতি ব্যাচে ৫ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সুযোগ সম্পন্ন ক্যাম্পাসটিতে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম, লাইব্রেরী, মিউজিয়াম, বয়েজ কমন রুম, লেডিস কমন রুম, উন্নত মানের ক্যান্টিন প্রভৃতি। কলেজটির লাইব্রেরীতে রয়েছে প্রায় ৫ সহস্রাধিক পাঠ্য বই ও শতাধিক জার্নাল। শিক্ষকদের জন্যও রয়েছে পৃথক লাইব্রেরী। রয়েছে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। 

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাসটিতে প্রতি বছর বিভিন্ন দিবস, নবীনবরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর, আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রতিবছরই কয়েকটি সাংস্কৃতিক সপ্তাহের আয়োজন করা হয়। এতে নাটক, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, ইনডোর ও আউটডোর গেমস অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ব্যাচে রয়েছে ফুটবল ও ক্রিকেট টিম। যা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

এতসব কর্মকান্ডের পরও পেশাগত পরীক্ষায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ। প্রতিবছরের পরীক্ষায় শতকরা পাশের হার সন্তোষজনক। এছাড়া মাঝে মাঝে মেধাতালিকায়ও স্থান করে নিচ্ছে এই কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। 

রোগীরাই হচ্ছে একটি হাসপাতালের চিকিৎসদের চিকিৎসক হয়ে উঠার মূল সোপান। এদিক থেকেও বাংলাদেশ মেডিকেল হসপিটালে রয়েছে দারুন সমৃদ্ধ এক অবস্থান। সেখানে রয়েছে প্রায় ৫৫০ টি বেড। এর মধ্যে ১২০ টি বেডে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এছাড়া রোগীদের রোগ নির্ণয়ে প্রায় সকল রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

অত্যন্ত সুলভ মূল্যে জরুরী বিভাগ ও আউটডোর বিভাগ গুলো দিনরাত নিরলসভাবে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। 

আদর্শ চিকিৎসক তৈরীর মূলমন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অবিচল, একসময় এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের দরবারে স্বাস্থ্যসেবার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে এমনটিই স্বপ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। 

 

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৩, বর্ষ ১, নভেম্বর ২০১৪ তে প্রকাশিত)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ


































জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর