ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. নুসরাত জাহান

সহযোগী  অধ্যাপক (গাইনী-অবস),

ডেলটা মেডিকেল কলেজ।

চেম্বার: ডিপি আর সি হসপিটাল, শ্যামলী, ঢাকা।


সৌদি অপারেশন থিয়েটার বনাম আমাদের অপারেশন থিয়েটার

সৌদি আরবে প্রথম অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার দিনটা আমার কাছে মনে রাখার মত একটি দিন। কারণ ডাক্তার হয়েও এভাবে সিস্টারদের ধমক খেতে হবে সেটা আগের অভিজ্ঞতায় ছিল না। ওখানে অপারেশন থিয়েটারের ঢোকার যে প্রসিডিউর তা আমার কাছে তখন মহাকাশ যাত্রার মতো। 

এক রুম থেকে আরেক রুমে যাত্রা, ড্রেস চেঞ্জ করা, পোশাকের কোথায় ধরতে হবে, কোন জায়গায় ফেলতে হবে, কত মিনিট ধরে হাত ধুতে হবে- সবই ছিল গাণিতিক হিসেবে। তাই প্রথম দিন যখন ওলট পালট হয়ে গেল এবং সিস্টার এই নিয়ে বিরক্ত ভাব দেখাচ্ছিল, মনে মনে ভেবেছিলাম এক্ষুনি এই দেশ থেকে চলে যাই। কিন্তু পরে যখন দেখলাম এই সিস্টারদের আদেশ বড় বড় কনসালটেন্ট বিনা বাক্য ব্যয়ে পালন করছে- তখন আর এই দুঃখটা ছিল না।

পান থেকে চুন খসলেই দেখতাম তারা সার্জনদের আবার স্ক্রাবিং করতে বলতো। কোন সার্জনের চুল বেরিয়ে আছে কিনা, হাতে কিছু লাগলো কিনা, নাক ঠিক ভাবে ঢাকা আছে কিনা কিংবা সে ঘেমে যাচ্ছে কি না- সবকিছুই সিস্টাররা নোটিফাই করত। তাদের কথার উপর কোন কথা নেই। ওখানে ওটিতে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে ভাবতাম এরা যদি একবার আমাদের অপারেশন থিয়েটার গুলো দেখত তাহলে হয়তো এদের পূর্বের অর্জন করা বিদ্যা-বুদ্ধি সব ভুলে বসত।

বহুদিন আগে আমার এক সরকারি চাকরি করা কলিগ আমাকে একটা ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমেই সে বলে রেখেছিলো আমি যাতে ওই ক্লিনিক দেখে অবাক না হই। দেখলাম অবাক হওয়ার মতই একটা ব্যাপার। আবাসিক এরিয়ার মধ্যে পুরানো একটি বাসা। সরু সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় উঠলাম, ছোট্ট খুপরীর মত ড্রইংরুমে কয়েকটি খাট বিছানো, সেখানে অপারেশনে আসা রোগীরা শুয়ে আছে। তাদের অপরিষ্কার পোশাক- আশাক দেখে ভয়ঙ্কর লাগলো। এর পরে দেখলাম পাশের রুম, হয়তো বেডরুম, সেখানে কেবিন এর মত করা হয়েছে। আর বাড়ির রান্নাঘরটা বানানো হয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ভাত খাওয়ার আগে যেভাবে হাত ধুয়ে রেডি হতে হয় ঠিক সেইভাবে অপারেশন এর জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।

রোগীর এন্ডোমেট্রিওসিস ছিল তাই অপারেশন টাও জটিল। আমাদের সাথে একজন সার্জনও ছিল। অপারেশনের পরে ভেবেছিলাম কোন এক সময় হয়তো শুনবো রোগী ইনফেকশন নিয়ে এসেছে। কিন্তু কিছুই হয়নি, রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেল। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এরকই চিত্র- এরকম নোংরা পরিবেশে অপারেশন হচ্ছে এবং বেশিরভাগই সুস্থ হচ্ছে, কোনরকম কম্প্লিকেশন ছাড়াই- এটা আমার কাছে একটা মিরাকল।

তাহলে কি আমাদের ফরমালিন এবং ভেজাল খাওয়া শরীর দেখে জীবাণুরাও ভয়ে পালিয়ে যায়? আর আমরা সার্জনরও মাশাআল্লাহ অকুতোভয়। যেখানে দেওয়া হোক না কেন সাকসেসফুলি অপারেশন কমপ্লিট হয় -তা হোক না- কোন বাসার বারান্দা, রান্নাঘর, মোমবাতির আলো, প্রয়োজনীয় জিনিসের স্বল্পতা… কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এভাবেই চলছে আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ: আমার দেখা একটি বিভৎস ঘটনা

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ: আমার দেখা একটি বিভৎস ঘটনা

শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কাজ করাকে পেডোফেলিয়া বলে। আর যাদের এই আকর্ষণ…

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় ইরানের এগিয়ে চলার গল্প 

যতদিন যাচ্ছে ইরানের মেডিকেল সায়েন্স গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অভূতপূর্ব সব অবিষ্কার। বিশ্ব…

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

বিদেশে চিকিৎসা: শোনা কথায় কান দিবেন না

যখন গাইনী আউটডোরে চাকরি করি তখন এক জুনিয়র এসে বলল "আপু তোমরা abnormal…

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

সাইমন্ড্স ডিজিজ রোগ ও তার প্রতিকার

আমাদের মাথার ভেতরে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নানা রকম হরমোন…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর