ঢাকা      রবিবার ২২, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

বিজ্ঞান বাস্তবতাকে আবিষ্কার করবে আর ইসলামই বাস্তবতা - ডা. শক্তি

ডা. শামসুল আরেফীন শক্তি ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ লিখে বেশ সারা ফেলে দিয়েছিলেন তরুণদের মাঝে। এবারের একুশে বইমেলায় বের হয়েছে তার আরও দুটি বই। উদীয়মান এ লেখকের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেডিভয়েস প্রতিনিধি মাসুদ বিন হক। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর লেখালেখির নানা দিক। প্রিয় পাঠক শুনুন তবে সেই গল্প।

মেডিভয়েস: আপনি একজন চিকিৎসক এবং সেই সঙ্গে আপনার আরো একটি পরিচয় আছে—আপনি একজন লেখক। এবারের বই মেলায় আপনার কি কি বই বের হয়েছে?

ডা. শামসুল আরেফীন: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে এবারের বই মেলায় আমার দুটি বই পাবলিশড হচ্ছে। আল্লাহ তৌফিক দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘মানসাঙ্ক’—যা সমর্পণ প্রকাশনী হতে প্রকাশিত হচ্ছে এবং অপরটি হচ্ছে ‘কুররাতু আইয়ুন, (যে জীবন, জুড়ায় নয়ন)’। এ বইটি প্রকাশিত হচ্ছে ‘মাকতাবাতুল আসলাফ’ প্রকাশনী থেকে।

মেডিভয়েস: আপনি একজন উদীয়মান লেখক। এরই মধ্যে আপনার আরো দুইটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে আপনার প্রথম বই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’র ১০ম সংস্করণ পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল, যার প্রতি সংস্করণে বই সংখ্যা ছিল ২ হাজারের মতো। তাছাড়া আপনার লেখা ২য় বই ‘কষ্টিপাথর’ ও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। একজন চিকিৎসকের হঠাৎ করে এমন জনপ্রিয় লেখক বনে যাওয়ার রহস্য বলবেন?

ডা. শামসুল আরেফীন: আমার বাবা সবসময় আমাকে একজন লেখক হতে অনুপ্রাণিত করতেন। চিকিৎসক হিসেবে নয়, বরং আমাকে একজন লেখক হিসেবেই বেশি দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। আমার ডাক্তারি পড়ার ব্যাপারে বাবার খুব একটা সায়ও ছিল না। তিনি আমাকে ছোট বেলা থেকেই একজন লেখক হিসেবেই বেশি দেখতে চাইতেন। কিন্তু কেন—তা আমি জানি না!এরই মধ্যে অনেক সময় গড়িয়েছে, লেখক হওয়ার ইচ্ছা আমার মনে জাগেনি। কখনোই ভাবিনি বই লিখবো। একসময় আল্লাহ আমকে তৌফিক দিলেন, ইসলামের জন্য কিছু লিখালিখি করার। লিখে ফেললাম আমার প্রথম বই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’।

মেডিভয়েস: ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বইটি লেখার পেছনে নিয়ামক কি ছিল, বলবেন?

ডা. শামসুল আরেফীন: আসলে আমি সব সময় খেয়াল করেছি, যে একটা বিষয়ে কোনো কাজ যদি কোনো সেক্যুলার কেউ করে, তাহলে কাজটাকে বাহবা দিই। কিন্তু সেই একই জিনিস যদি ইসলামের নবী (সঃ) করেন, কিংবা ইসলামের সঙ্গে যুক্ত কেউ করেন বা কোনো আলেম-ওলামা করেন, তাহলে আমরা সেটাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে আখ্যায়িত করি। সেটাকে আমরা পুরোনো দিনের, আদিযুগের চিন্তা-চেতনা ইত্যাদি বলে অবজ্ঞা করি। এই বিষয়গুলোই আমি ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ এ নিয়ে এসেছি।

মূলত, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সোস্যাল মিডিয়া ও ব্লগে তথাকথিত প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার লোকদের দ্বারা আল্লাহ ও রাসূলকে নিয়ে বিরূপ মন্ত্যধর্মী একচেটিয়া লেখালেখি হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাখ্যা আর ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে। এগুলো সামনে আসার পর আমার নিজের ভেতর একটা ইমোশনাল গ্যাপ তৈরি হয় যে, 'হায় হায়, এত বাজে ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে, এত কু-যুক্তি দিয়ে ইসলামকে আঘাত করে লেখা হচ্ছে। অথচ কেউ এর প্রতিউত্তরে কিছু লিখছে না! সত্যকে তুলে ধরছে না! বিষয়টি আমার মনকে সেভাবে নাড়া দেয়। আমি কিছু লিখার চিন্তা করি, গল্পটা তখন লিখি ‘না দেখে বিশ্বাস: মানব জন্মের স্বার্থকতা’।

মেডিভয়েস: আপনার সমসাময়িক অনেকেই বিজ্ঞানের সঙ্গে ইসলামের মেলবন্ধন ও ইসলামের সত্যতা-যথার্থতা প্রমাণ করার নিমিত্তে লেখনী নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। সেক্ষেত্রে আপনার কাছে জানতে চাই, বিজ্ঞানের মানদণ্ডে ইসলামকে যাচাই করা ও যুক্তি দিয়ে ইসলামকে ব্যাখ্যা করার ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

ডা. শামসুল আরেফীন: আসলে আমরা কখনোই ইসলামের ব্যাখ্যা যুক্তি দিয়ে করি না। যারা নব্যধারার লেখালেখি করছেন, তাদের অনেকের সঙ্গে আমার কম বেশি কথা হয়েছে—আমরা যুক্তি দিয়ে ইসলামের কোনো ব্যাখ্যা করি না। ব্যাখ্যা করবেন আমাদের আলেমগণ। ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন আমাদের পূর্ববর্তী আলেমগণ, সালফে-স্বলেহীনরা, তাবেঈ-তাবেঈনরা—তারা ব্যাখ্যা করে গেছেন। আমাদের উদ্দেশ্য ইসলামের ব্যাখ্যা দেয়া না, বরং ইসলামিক বিভিন্ন লেখা-লেখির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা, যাতে তারা আলেমদের কাছে ইসলাম শিখতে আগ্রহী হয়। এটুকুই আমাদের কাজ। আমাদের মধ্যে পশ্চিমারা বিজ্ঞানের সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দিয়েছে। কোনো একটা বিষয় আসলেই আমরা বিজ্ঞান দিয়ে তা যাচাই করার চেষ্টা করি। অথচ বিজ্ঞান বাস্তবতাকে আবিষ্কার করবে আর ইসলামই বাস্তবতা। মূলত, বিজ্ঞান ইসলামকেই চূড়ান্তভাবে আবিষ্কার করবে৷ যুক্তির মাধ্যমে ইসলাম কখনোই না, আমাদের এ বিশ্বাস ভিত্তিহীন নয়—তা প্রমাণ করছি। বিষয়টি আল্লাহ কুর-আনে বারবার বলেছেন। ‘তোমরা কি দেখো না? তোমরা কি শোনো না’? আফালা তুবসিরুন? তোমরা কি দেখছো না? আফালা ত্বা'কিলুন—তোমরা কি জ্ঞান রাখো না? আল্লাহ তা'আলা আমাদের নিদর্শন দেখিয়ে মানাতে চাচ্ছেন। আমাদের চিন্তা-ভাবনা করতে বলছেন। আমাদের চোখ মেলে দেখতে বলছেন, আমরা নব্যধারার লেখকরা সেই কাজটাই পাঠকদের জন্য সহজ করতে চাচ্ছি।

মেডিভয়েস: আপনার নতুন বই দুটো সম্পর্কে কিছু বলুন।

ডা. শামসুল আরেফীন: হ্যা, ‘মানসাঙ্ক’ বইটি নারীদের যৌন নির্যাতন ও সারাবিশ্বে নারীদেরকে যে জুলুম করা হচ্ছে, তার একটি খণ্ডচিত্র। আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা নারীদের জুলুম ও নিরাপত্তাহীন যে একটা সিস্টেমে অরক্ষিত অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে—তা নিয়ে আমি আলোকপাত করেছি। আর ‘কুর-রাতু আইয়ুন (যে জীবন, জুড়ায় নয়ন)’ বইটি পারিবারিক ও সাংসারিক জীবনের কয়েকটি দিক তুলে ধরেছি, পরিবারে ইসলামের দাওয়াত ও এর আশা আকাঙ্ক্ষা ও পদ্ধতিগত কিছু সম্ভাবনা তুলে ধরেছি।

মেডিভয়েস: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে আপনার সুস্বাস্থ্য এবং উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করছি।

ডা. শামসুল আরেফীন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনাদের মাধ্যমেই আমরা পাঠকদের মাঝে পৌঁছাই। আল্লাহ আমাদেরকে আরো ভালো ভালো কাজ করার তৌফিক দিন, সেই দোয়া করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস