ঢাকা      শুক্রবার ১৯, জুলাই ২০১৯ - ৪, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. জাহিদুর রহমান

চিকিৎসক ও লেখক


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও স্বাস্থ্যখাতের বড় সমস্যা

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল চিকিৎসক স্বল্পতা এবং সরকারি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা। আমরা বিনয়ের সাথে উনার বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। চিকিৎসক স্বল্পতা এবং সরকারি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অবশ্যই একটি বড় সমস্যা, কিন্তু সেটি কখনই প্রধান সমস্যা নয়। 

স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে লাগামহীন দুর্নীতি এবং সরকারি হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ক্রমাগত দুর্নীতি করে যাওয়া। এই সমস্যা দুটো সমস্যার কথা আমরা অনেকদিন থেকেই বলে আসছি। কিন্তু দেশের নীতি নির্ধারকগণ এবং সাধারন মানুষ কেউই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। গণমাধ্যমে মাঝে মাঝে এই বিষয় দুটো নিয়ে রিপোর্ট বের হলেও কোন এক অদৃশ্য কারনে কোন ফলোআপ রিপোর্ট হয় না।

গত কয়েকদিন ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাবার পর অবশ্য আমাদের কথাই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। দুদক প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সন্ধান পাচ্ছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর যে কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করেছে, তাদের একেকজনের কাছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গিয়েছে।

সোজা কথা, একটি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যে পরিমান দুর্নীতি হয়, তার অধিকাংশই করে থাকে উপরের পদের গুটিকয়েক কর্মকর্তা এবং তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা। দুদকের তদন্ত এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এমন কি মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ভয়ংকর রকমের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক স্বল্পতা এবং তাদের অনুপস্থিতি সেই হাসপাতালের সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, নিম্নগামী করে। আর ঐ হাসপাতালের পরিচালক এবং কর্মচারীরা যে পরিমান দুর্নীতি করে তাতে সেবা দানের পুরো প্রক্রিয়াটিই ধ্বংস হয়ে যায়। আর এরকম পরিস্থিতিতে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক স্বল্পতা এবং সরকারি ডাক্তারদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতিকেই দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রধান সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তখন আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতিকে ছোটখাটো অসঙ্গতি বলে উল্লেখ করেন তখন আমাদের সন্দেহ হয়, তাঁকে ভুল বোঝানো হচ্ছে, মূল সমস্যা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

আমরা নবনির্বাচিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সততা এবং আন্তরিকতার উপর আস্থা রাখতে চাই। আশা করি উনারা আমাদের আশাহত করবেন না। দুদকের অভিযানের পর সব ধরনের সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। এখন আমরা সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির সাথে জড়িত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কি রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেটি দেখতে চাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর