ঢাকা      শুক্রবার ২৩, অগাস্ট ২০১৯ - ৮, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর কিডনি জীবিতের দেহে প্রতিস্থাপন এ সপ্তাহে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ব্রেনডেড ঘোষিত অর্থাৎ রোগীর হার্টবিট থাকলেও লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে মারা যাবে—এমন রোগী থেকে সংগৃহীত কিডনি জীবিত মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন আগামী সপ্তাহেই হতে পারে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি গণমাধ্যতে নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে দেশীয় কিডনি বিশেষজ্ঞ সার্জনরা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ অস্ত্রোপচার কাজে অংশগ্রহণ করবেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা আসছেন। এক সপ্তাহের এ সফরে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করবেন তারা।

এ সময় তারা ঢামেক হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া তারা জীবিত ও মৃতপ্রায় রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে তা কিডনি বিকল রোগীদের দেহে প্রতিস্থাপন—সংক্রান্ত বাংলাদেশি কিডনি বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

তিনি বলেন, অনেক সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীকে ব্রেনডেড ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের রোগীর হার্টবিট চললেও মস্তিষ্কসহ অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে না। এসব রোগী লাইফ সাপোর্ট নিয়ে নামেমাত্র বেঁচে থাকেন। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে তারা মারা যান। এ ধরনের রোগীর অভিভাবকদের সম্মতি পেলে মৃতপ্রায় এ রোগীর দেহ থেকে দুটো কিডনি দুইজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

জানান, এরইমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই কিডনিই বিকল এমন কমপক্ষে ৭-৮ জন রোগীকে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট করতে তৈরি রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে। কিন্তু আগে আইনি বাধা থাকায় মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ ছিল। গত বছর আইনে সংশোধনী আনে সরকার। ওই আইনে বলা হয়, বিদ্যমান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে অস্ত্রোপচার করা যাবে। এতে মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহে আর দূর হয়।

তবে আইনি বাধা না থাকলেও এখনও ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করতে পরিবারগুলোতে মানসিকতা তৈরি হয়নি। ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর অভিভাবকদের সম্মতি সাপেক্ষে দুটো কিডনি পাওয়া গেলে ঢামেক, বিএসএমএমইউ কিংবা কিডনি হাসপাতালের যেকোনো দুটিতে দুজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপিত হবে।

অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন বলেন, মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ হবে না।  
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথা নিয়ে আমার নিজের মাথাব্যথা কম। আমার নিজের পেইন থ্রেসল্ড খুবই বেশী।…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর