ঢাকা      শুক্রবার ২৩, অগাস্ট ২০১৯ - ৮, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


হাইপোথাইরয়ডিজম

থাইরয়েড আমাদের শরীরের একটি গ্রন্থির নাম। আমাদের গলার সামনে এটি থাকে৷ এই গ্রন্থির কাজ হল আমাদের শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন তৈরি করা। শরীরে বিভিন্ন কাজ করে এই হরমোন। এই হরমোন তৈরি কম হলে তাকে আমরা বলি হাইপোথাইরয়ডিজম। মেয়েদের এই অসুখ বেশি হয়। ছেলেদেরও এই সমস্যা হতে পারে তবে মেয়েদের তুলনায় অনেক কম হয়।

হাইপোথাইরয়ডিজমে বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। এসব উপসর্গের মধ্যে আছেঃ

১. ক্লান্তিভাব। একটুতেই রোগী হাঁপিয়ে উঠে।

২. ওজন বেড়ে যাওয়া। কম খেলেও রোগীর ওজন বাড়তে থাকে।

৩. শীত বেশি লাগা।

৪. পায়খানা শক্ত হওয়া। 

৫. দূর্বলতা। রোগী সবসময় দুর্বলতা অনুভব করে।

৬. মাসিক বেশি হওয়া। এর থেকে দেখা দেয় রক্তাল্পতা।

৭. হার্টের স্পন্দন ধীরে হওয়া। চিকিৎসক পালস দেখে বুঝতে পারেন।

৮. গলার স্বরের পরিবর্তন হয়।

৯. চামড়া শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়।

১০. চুল পড়ে যায়।

সবার যে একইরকম লক্ষণ থাকবে তা নয়। বিভিন্নজনের বিভিন্ন লক্ষণ থাকে। একজনের আবার সবগুলো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমে হরমোন কমে যায় বলেই এসব সমস্যা হয়।

অভিজ্ঞ চিকিৎসক ইতিহাস নিয়ে এবং শারীরিক পরীক্ষা করে অনেকটাই এই রোগটি ধরতে পারেন। নিশ্চিত হবার জন্য হরমোন মাপতে হয়। টি থ্রি এবং টি ফোর হরমোন কমে যায় এবং থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোনের (টিএসএইচ) মাত্রা বেড়ে যায়। হাইপোথাইরয়েডিজমে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সকালে খালি পেটে হরমোন  ওষুধ খাওয়া ভাল। ওষুধ খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে চা কফি বা খাবার খাওয়া ঠিক নয় ভিটামিন সি খেলে হরমোন বেশি কাজে লাগে। হরমোনের ডোজ আস্তে আস্তে বাড়াতে হয়। রক্ত পরীক্ষা না করে ওষুধের ডোজ বদলানো কখনই উচিত নয়।এক থেকে দুই বছর অন্তর রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। অনেকের সারাজীবন ওষুধ খেতে হতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজম পরিচিত অসুখ। তাই এই বিষয়ে সবার জানা উচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথা নিয়ে আমার নিজের মাথাব্যথা কম। আমার নিজের পেইন থ্রেসল্ড খুবই বেশী।…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর