ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ২, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

স্নাতকোত্তর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের পদ কী ব্যর্থতার কারণ!

মেডিকেল কলেজে প্রিন্সিপাল থাকেন, সাথে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল। একাডেমিক বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিল থাকে, থাকে শৃংখলা কমিটি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনার জন্য একজন সম-মর্যাদার পরিচালক। কিন্তু স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক একই সাথে প্রিন্সিপাল ও হাসপাতালের পরিচালক। নাই কোন ভাইস-প্রিন্সিপাল। একাডেমিক কাউন্সিলের নেই কোন আনুষ্ঠানিক বা প্রতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, অনেক ক্ষেত্রেই। পরিচালকের মানসিকতার উপর নির্ভর করে, এর কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ।

দুই.
এক সময় এই ইনস্টিটিউটগুলো চালু হয়েছিল মূলতঃ হাসপাতাল হিসেবে। এখন এখানে একাধিক স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ভর্তির আসন সংখ্যা কম, কিন্তু শিক্ষকতা ও ক্লিনিক্যাল পদে কাজ করার জন্য আরো বেশি সংখ্যক জনবল তৈরির জোর তাগিদ আছে। এমতাবস্থায় স্নাতকোত্তর কোর্স ও সারাদেশে কর্মরত চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু ও পরিচালনার জন্য যোগ্য ও পূর্ণকালীন দায়িত্বে কেউ থাকা উচিত, যাকে সহায়তা দিবে একটি শক্তিশালী একাডেমিক কাউন্সিল।

তিন.
একই ভাবে, ৩০০ বা ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন পূর্ণকালীন পরিচালক। তাকে সহযোগিতার জন্য যোগ্য উপ-পরিচালক ও একাধিক সহকারী পরিচালক।

চার.
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের থাকে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। এর বাস্তবায়নের জন্য থাকার কথা পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক।
একজন পরিচালকের পক্ষে প্রিন্সিপাল, হাসপাতাল পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বপালন কি ভাবে সম্ভব? এত মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন ১০ হাতের দেবী দুর্গা কি সবাই হতে পারেন? কেউ হয়তো পারেন, অন্যরা ব্যর্থ হন সব ক্ষেত্রেই । আমার সিকি শতাব্দীর অভিজ্ঞতা তাই বলে।

পাঁচ.
এহেন সুপার পাওয়ার ব্যক্তি যদি হন বিকেল থেকে মধ্যরাত-অবধি প্রাইভেট প্র্যাকটিসনার, তাহলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে?

ছয়.
বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেই সাবজেক্টের নতুন সাব স্পেশালিটি ও অন্যান্য সহযোগী সাবজেক্টের শিক্ষক/ চিকিৎসকগণ অবহেলা, ঈর্ষা এমনকি নিপীড়নের শিকার হন, এমনটি ঘটে হর হামেশাই। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয়েও কেউ কেউ সংকীর্ণতার ঊর্ধে উঠতে পারেন না। এমনকি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দেয়ার ঘটনাও বিরল নয়।

সাত.
বরং অযোগ্য কিংবা কর্তৃত্ববাদী চরিত্রের কারো হাতে এতগুলো দায়িত্ব পড়লে সুযোগ সৃষ্টি হয় স্বেচ্ছাচারিতার। একাডেমিক ও সেবা কার্যক্রমে দুর্বল ও ব্যর্থ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হয়ে উঠেন নিজের রাজ্যে প্রতাপশালী ।

আট.
বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের আস্থায় না নিয়ে, কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের এড়িয়ে কেউ কেউ হয়ে পড়েন বিশেষ আস্থাভাজন এক-দুইজন মোসাহেবের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকগণ হতাশাগ্রস্ত হয়ে কাজে আগ্রহ হারান।

নয়.
এই সময়ে সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসিত আগারগাওয়ের নিওরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট। প্রকল্পকালীন সময় থেকে এর পরিচালক পদে আছেন নিওরোমেডিসিনের পুরোধা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ। ধারণা করি, এর পদ সৃজনে স্যারের ভূমিকা ছিল। সেখানে কিন্তু একজন যুগ্ম-পরিচালকের পদ আছে, যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন একজন নিওরোসার্জন। দুই সাবজেক্টের দুইজনে মিলে ভালোভাবেই চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বহির্বিভাগের রোগীরা পাচ্ছেন দেশের সেরা চিকিৎসকদের পরামর্শ।

দশ.
এর বিপরীত চিত্র এক ও অদ্বিতীয় পরিচালকদের বেলায়। বহির্বিভাগে রোগী দেখার সময় কোথায় পাবেন তারা।

সকল স্নাতকোত্তর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দুইজন যুগ্ম পরিচালক নিয়োগ এখন সময়ের দাবী। তিনজন সমন্বয় করে চালাবেন একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম। একাডেমিক কাউন্সিল কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। সব বিশেষায়িত বিভাগ সমান গুরুত্ব পাক পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকগণের কাছে। অবজ্ঞা, অবহেলা ও নিপীড়নমুক্ত থাকুন প্রশাসনিক দায়িত্বে না থাকা বিভাগীয় প্রধান ও তাদের বিভাগের কার্যক্রম । ব্যক্তির সংকীর্ণতা যেন প্রতিষ্ঠান তথা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। সংকীর্ণতার ঊর্ধে থেকে দায়িত্বপালনকারী যোগ্য শিক্ষকগণের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর