ঢাকা      শুক্রবার ২৬, এপ্রিল ২০১৯ - ১২, বৈশাখ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. শামীম আফজাল

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ


স্যারের হাত ধরেই ডাক্তার হবার একেকটা সিঁড়ি এগিয়ে ছিলাম

তখনও মেডিকেলে নতুন, কমিউনিটি মেডিসিন একটা আতংক! সবাই বলে সমাজ বিজ্ঞান। মেডিকেলের ফার্স্ট ইয়ার থেকে পড়ানো শুরু হতো, ক্লাসে আসলেই ভয় পেতাম। টার্মিনোলজি নিয়ে স্যার অনেকদিন ক্লাস নিলেন, সব আমার মাথার উপর দিয়ে যেতো। স্যার বুঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতো। 

একদিন ক্লাসে এসে প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চাদের মত পড়া ধরা শুরু করলো।  :বলো, communicable মানে কি? এক বন্ধু বললো: স্যার, যোগাযোগ। স্যার রেগে গেলেন, এতদিনে এই শিখলে? আমাদের উপর হতাশ হলেন। তারপর নিয়ম করে দাঁড় করিয়ে ক্লাসে পড়া ধরা হতো, না পারলে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। সব আমাদের ভালোর জন্যই, কঠিন বিষয়টাকে সহজ করা।

বলছিলাম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের হেড ডা. এএসএম শহীদুল্লাহ স্যারের কথা। বাবার বয়সী একজন মানুষ, মনছুর খলীল স্যার মারা যাওয়ার পর যে কয়েকজন মানুষ আমাদের আগলে রেখেছেন তার মধ্যে স্যার একজন। 

তখন আমি ফার্স্ট ইয়ারে, কার্ড ফাইনাল চলে। স্যার আমাকে বললো, বাবা Food Adulteration এর বাংলা কি? তখন বাংলা তো আর মনে আসে না, আমি মাথা চুলকাই, ফ্যানের দিকে তাকাই, দেওয়ালে তাকাই, এটার বাংলা আর মনে আসে না, আমার পাশে বসা সালমা আরো হতাশ। স্যার কেন বাংলা অর্থ জানতে চাইলো!

স্যার মাথার টুপিটা খুলে টেবিলে রাখলো। সামান্য এইটুকুর অর্থ পারতেছি না এটা বড় অন্যায়। হঠাৎ আমার মনে পড়লো আমি বাংলা অর্থ বললাম। স্যার হেসে দিয়ে বললেন এতক্ষণ পরে বললে হবে? স্যার স্টুডেন্টবান্ধব, স্টুডেন্টের সমস্যাগুলো বুঝার চেষ্টা করতেন। কেউ একজন ফেল করে যাক এটা কখনো স্যার চাইতো না। 

দুই.
কমিউনিটি মেডিসিনের টার্ম পরীক্ষা চলে…। আমাকে বলা হলো Typhoid fever এ পালস কেমন থাকে? আমি হুটহাট বলে দিলাম, স্যার Tachycardia হয়, স্যার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লেন পার্ক খুলে আমাকে দেখালেন Relative bradycardia হয়, ফাইনাল প্রফের পরীক্ষায় মেডিসিনের এক্সটার্নাল স্যারও আমাকে এই প্রশ্ন টা করেছিলো, ঠিক তখন আমার শহীদুল্লাহ স্যারের কথা মনে পড়লো স্যার আমাকে বই খুলে দেখিয়েছিলেন। Relative bradycardia হয়।

কমিউনিটি মেডিসিনের মত একটা কঠিন সাবজেক্টে আমাদের ব্যাচে ( $n02) ১০০% পাশ করেছিলো সেবারের প্রফে, সবটুকুই স্যারের অবদান। স্যার সেভাবেই আমাদের গড়ে তুলেছেন নিজ হাতে। 

স্যারের হাত ধরেই ডাক্তার হবার এক একটা সিঁড়ি এগিয়ে গিয়েছিলাম। শিক্ষক সবাই হতে পারে, কিন্তু বাবার মত কয়জন সন্তানের খেয়াল রাখতে পারে? কয়জন চিন্তা করে যে, না পড়লে আমার ছেলে গুলা ফেল করে যাবে? 

স্যারের সরকারি চাকরি জীবন শেষ, শেষ ক্লাসটাও নাকি নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু স্যার আপনার দেওয়া কিছু উপদেশ আজীবন মনে গেঁথে থাকবে। যেখানে থাকবেন, ভালো থাকবেন। যতদিন বেঁচে থাকি আপনার জন্য মন থেকে অনেক দোয়া আর অফুরন্ত ভালোবাসা থাকবে। আর আপনার সন্তান হিসেবে আমাদের জন্যও দোয়া রাখবেন যেন আমরা ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ব্যারিস্টার সুমন সমীপে খোলা চিঠি

ব্যারিস্টার সুমন সমীপে খোলা চিঠি

আসসালামু আলাইকুম। সুমন ভাই, কেমন আছেন? শুনলাম আপনি রিট করেছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের…

চিকিৎসকদের জন্য বেকারত্ব এক অভিশাপ

চিকিৎসকদের জন্য বেকারত্ব এক অভিশাপ

দেশে যে হারে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেগুলো…

লেভো-থাইরক্সিন সেবনের নিয়ম-কানুন

লেভো-থাইরক্সিন সেবনের নিয়ম-কানুন

থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে গেলে থাইরয়েড হরমোন ওষুধ হিসেবে সেবন করতে হয়।…

২০০ টাকার ওষুধ যেভাবে ১২০০ টাকা হয়!

২০০ টাকার ওষুধ যেভাবে ১২০০ টাকা হয়!

আন্তর্জাতিক বাজারে যখন কোন ওষুধ আসবে বা কোন দামি এন্টিবায়োটিক কোম্পানি বাজারে…

রোজায় জীবনযাত্রা ও খাবারের পরিবর্তন

রোজায় জীবনযাত্রা ও খাবারের পরিবর্তন

রোজা রাখতে ডায়াবেটিক রোগীদের সাধারণত কোনো নিষেধ নাই। তারা রোজা রাখলে খুব…

প্রেসক্রিপশন ভাইরাল ও আমার অপূরণীয় ইচ্ছা

প্রেসক্রিপশন ভাইরাল ও আমার অপূরণীয় ইচ্ছা

আউটডোরে রোগী দেখছি। গরমে আমার অবস্থা অনেকটাই বেড়াছ্যাড়া। তিন ঘন্টায় অলরেডী ৮০…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর