ঢাকা      শনিবার ২৩, ফেব্রুয়ারী ২০১৯ - ১১, ফাল্গুন, ১৪২৫ - হিজরী

খাওয়ার সময় শিশুদের থেকে মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ চিকিৎসকদের

মেডিভয়েস ডেস্ক: নেতিবাচক বিভিন্ন দিক থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে খাবার এবং ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা উচিত বলে বলছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চারজন প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যকর উপায়ে মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহারে লক্ষ্যে প্রতি ঘণ্টা পরপর শিশুদের অবশ্যই মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো উচিত।

এছাড়া তাদের নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আরো ভূমিকা রাখা উচিত বলে মনে করেন তারা।

নিজের ক্ষতি এবং আত্মহত্যার মতো প্রবণতা রুখতে ইন্সটাগ্রামের সঙ্গে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বৈঠক করতে যাচ্ছেন—এমন খবর প্রকাশের সময় এই তথ্য জানা গেল।

ইন্সটাগ্রামের কিছু উপাদানের কারণে কিশোরী মলি রাসেলের আত্মহত্যার জের ধরে এই বৈঠকটি হতে যাচ্ছে। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, ফেসবুকের মালিকানাধীন ইন্সটাগ্রাম তার সন্তানকে হত্যায় সহায়তা করেছে।

যন্ত্র ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা এবং পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ব্রিটেনের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা, এগুলো অনুসরণে শিশুদের নিরাপদ রাখা যেতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে:
খাবারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা—কারণ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্পগুজব করাটা উঠতি বয়সের সন্তানদের জন্য অধিকতর ভালো।

ঘুমানোর আগে থেকেই বা বিছানায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস পরিত্যাগ করা।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনলাইনের নিরাপদ থাকার বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা, যাতে তারা ইন্টারনেটের হয়রানি বা উস্কানি সম্পর্কে সতর্ক হতে পারে। এরকম পরিস্থিতি দেখা গেলে তাদের কি করা উচিত, সেটাও ঠিক করে রাখা।

রাস্তা পারাপারের মতো যেসব ঘটনায় পুরো মনোযোগ দরকার, এরকম সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা।

প্রতি ঘণ্টা পরপর শিশু-কিশোরদের অবশ্যই যন্ত্রের পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে হাঁটাচলা বা অন্য কোন ধরণের কাজ করতে হবে।

অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের প্রতি ঠিকঠাক মনোযোগ দেয়া এবং সবাইকে নিয়ে পারিবারিক সময় কাটানো।

মোবাইল স্ক্রিন শিশুদের জন্য কতটা স্বাস্থকর
ব্রিটেনের গবেষকদের একটি দল এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা বলছেন, বেশ কয়েকটি গবেষণায় মোবাইল পর্দার সঙ্গে রাগ ও বিষণ্ণতার মতো নেতিবাচক ফলাফলের মিল পাওয়া গেছে।  কিন্তু এ নিয়ে এখনি কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ডেমি স্যালি বলেন, এমনটা হতে পারে যে, যাদের আগে থেকেই মানসিক সমস্যা রয়েছে, তারাই যন্ত্রের প্রতি বেশি আসক্ত।

বিষয়টি এমন হলেও, এ নিয়ে আরো গবেষণা করে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহারে সতর্ক হওয়া দরকার।  আর সেজন্যই অভিভাবকদের জন্য এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টসের ড. বের্নাদকা ডুবিকা বলছেন, মোবাইল পর্দা এবং মানসিক সমস্যার মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে এটা প্রমাণিত যে, ইন্টারনেটে অল্পবয়সীদের জন্য রাগ, আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করার মতো উপাদান রয়েছে, যা কারো জন্য নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে, যোগ করেন তিনি। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

যে রোগে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়

যে রোগে অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়

ছেলেদের দুইটি অণ্ডকোষ বা টেস্টিস থাকে। অরকাইটিস হলো একটি বা দুটি অণ্ডকোষের…

অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া

অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া

অক্সিপিটাল নার্ভে আঘাত বা প্রদাহ হলে অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া হয়। মাইগ্রেন বা অন্য…

বুকে ব্যথা: বিলম্বে বিপদ সংকেত

বুকে ব্যথা: বিলম্বে বিপদ সংকেত

হঠাৎ করে বুকে ব্যথা শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বয়স…

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কোন পন্থা অধিকতর কার্যকর?

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কোন পন্থা অধিকতর কার্যকর?

আমাদের শরীরে প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় নামে একটি অরগ্যান বা অঙ্গ আছে। সেখান…

আবহাওয়া পরিবর্তন ও ভাইরাস জ্বর

আবহাওয়া পরিবর্তন ও ভাইরাস জ্বর

শীতে বিভিন্ন অসুখ বেশি হয়। এর মধ্যে ভাইরাস জ্বর অন্যতম। আবহাওয়া পরিবর্তনের…

উচ্চ রক্তচাপ থেকে চোখের ক্ষতি

উচ্চ রক্তচাপ থেকে চোখের ক্ষতি

উচ্চ রক্তচাপ খুব পরিচিত রোগ। উচ্চ রক্তচাপ থেকে অনেক ক্ষতি হয়। বিভিন্ন…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর