১৫ অগাস্ট, ২০১৬ ০৭:৪১ পিএম

ডাঃ রাফিদ আহমেদ

ডাঃ রাফিদ আহমেদ

ডাঃ রাফিদ আহমেদ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৬৫ ব্যাচের ছাত্র। এর মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরপর তিনটি পেশাগত পরীক্ষাতেই প্রথম স্থান এবং ১১টি বিষয়ের মধ্যে ১০ টিতেই অনার্স পেয়ে বিরল কৃতিত্বের সfক্ষর রেখেছেন। এই সফলতার পেছনের গল্প, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর আটপৌরে রাফিদ আহমেদ কেমন মানুষ- এগুলো জানতে ‘মেডি ভয়েস’ মুখোমুখি হয়েছিল তার। শোনা যাক সেই গল্প-
প্রোফাইলঃ
নামঃ রাফিদ আহমেদ॥
ঠিকানাঃ ১১২৫/১, পূর্ব শেওড়াপাড়া, কাফরুল, ঢাকা।
জন্মদিনঃ ৫ জানুয়ারী, ১৯৮৮।
স্কুলঃ সেন্ট যোসেফ হাই স্কুল, ঢাকা।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যোসেফাইট ল্যাংগুয়েজ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব ও যোসেফাইট ইংলিশ ক্লাব। সদস্য, সিন্টিলা সায়েন্স ক্লাব। 
কলেজঃ নটরডেম কলেজ, ঢাকা।
- সদস্য, নটরডেম সায়েন্স ক্লাব ও নটরডেম ন্যাচার স্টাডি ক্লাব।
মেডিকেল কলেজঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ
- মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০০৭-০৮ এর জাতীয় মেধায় ৫ম।
ব্যাচঃ ডি.এম.সি, কে-৬৫
প্রিয় বইঃ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন
প্রিয় ব্যক্তিত্বঃ হযরত মুহাম্মদ (সা)
মেডি ভয়েস  ঃ ‘মেডি ভয়েসের’ পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। প্রথমেই আসা যাক, আপনার এই সাফল্যের রহস্যের ব্যাপারে।
ডাঃ রাফিদ আহমেদ  ঃ আসলে এটিকে আমি কোন সাফল্য হিসেবে দেখছি না। আমার চূড়ান্ত সাফল্য হবে সেটাই যখন আমি একজন চিকিৎসক হওয়ার মাধ্যমে আমার পরিবার, সমাজ, দেশ এবং মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো।
মেডি ভয়েসঃ আপনার এই সাফল্যে কার বেশি অবদান আছে বলে মনে করেন?
ডাঃ রাফিদ  ঃ মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে অশেষ শুকরিয়া। এটা শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশ ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া বাবা-মায়ের দোয়া, বড় ভাইয়ার উৎসাহ, বন্ধুদের সহযোগিতা এবং সর্বোপরি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের আশীর্বাদ এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।
মেডি ভয়েস  ঃ পেশাগত পরীক্ষাগুলোতে কিভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন? 
ডাঃ রাফিদ  ঃ ক্লাস শুরুর প্রথম দিনই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে পরীক্ষার জন্য আপনি কতটুকু পড়বেন, কি পড়বেন, কোন বই থেকে পড়বেন? পেশাগত পরীক্ষার জন্য ছয়মাস আগে থেকে পড়াশোনা শুরু করা উচিত এবং শেষ দুই মাস পড়াশোনা আরো ধারালোভাবে শেষ করতে হবে। পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা জরুরি। বিভিন্ন প্রশ্নব্যাংক থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে একটি ধারণা নিয়ে সে আলোকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নোট করে রাখলে লিখিত পরীক্ষায় তা খুব উপকার করবে। সাথে কলেজের লেকচার ফলো করলে ভালো হয়।
মেডি ভয়েস  ঃ গাইড বইয়ের ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?
ডাঃ রাফিদ  ঃ  আল্লাহর রহমতে আমার কখনোই গাইড বই পড়তে হয়নি। আসলে আমাদের গাইড বই পড়ার যে প্রথা চালু আছে তা বাংলাদেশের মেডিকেল স্টুডেন্টদের জ্ঞানের পরিধিকে অনেক সীমিত করে রেখেছে। গাইড বই পড়ার এ প্রথা আমাদের স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য একটি ঘুনেপোকা- যা ধীরে ধীরে আমাদের স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মেডিকেলের জুনিয়র ভাই-বোনদের অনুরোধ করব গাইড বই পড়ার এই 'ঠরপরড়ঁং ঈুপষব' থেকে বের হয়ে আসতে। সর্বোপরি বর্তমানে গাইড বই পড়ার এই প্রথা বন্ধ করার জন্য আমাদের সকলের সচেতনতা খুবই জরুরি। 
মেডি ভয়েস  ঃ আপনি কি রিডিং পার্টনারের সাথে পড়তেন?
ডাঃ রাফিদ  ঃ না। আমার কোন রিডিং পার্টনার ছিল না। আসলে ভাইভাকেন্দ্রিক পরীক্ষা হওয়ায়, যদি পার্টনার করে পড়া হয় তাহলে পড়াটা অবশ্যই সহজ হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে পার্টনারদের উদ্দেশ্য যেন এক হয়। তবে সাবধান, পার্টনারশিপে পড়তে গিয়ে যেন ‘প্রেম’ না হয়ে যায়। তাহলে লক্ষ্যে পৌঁঁছানো যাবে না।
মেডি ভয়েস  ঃ ‘ডেমো’ মেডিকেলের একটা অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতি। আপনি এটাকে কিভাবে দেখেন?
ডাঃ রাফিদ  ঃ অবশ্যই ‘ডেমো’ দরকারি। কিন্তু শুধুমাত্র ‘ডেমো’ নিয়ে আইটেম দেয়া কখনোই উচিত নয় এবং ডেমো নেয়ার চেয়ে দেয়াটাই বেশি উপকারি। 
মেডি ভয়েস  ঃ ভালো রেজাল্টের জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি আর অন্য কি ধরনের দক্ষতা থাকা উচিত বলে মনে করেন?
ডাঃ রাফিদ  ঃ একজন স্টুডেন্টকে Fast writer, good artist, good listener, good observer Ges good performer হতে হবে। 
মেডি ভয়েস  ঃ মেডিকেল কলেজগুলোতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
ডাঃ রাফিদ  ঃ মেডিকেল শিক্ষাব্যবস্থা আরো বেশি প্রায়োগিক হওয়া উচিত। আমি বলব, প্রথম পেশাগত পরীক্ষাটি একবছর পরেই হওয়া উচিত। দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষায় সাবজেক্ট ৫টি থাকলেই ভালো এবং সময় দুই বছর হওয়া উচিত। চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও দুই বছর। আর আইটেম একদম কমিয়ে লেকচার নির্ভর মাসিক পরীক্ষা হলে ভালো হয়।
মেডি ভয়েস  ঃ ইন্টার্ন লাইফটা কেমন উপভোগ করছেন?
ডাঃ রাফিদ  ঃ আল্লাহর রহমতে খুবই ভালো। এই সময়টিকে সেরা সময় বলা যেতে পারে। অনেক মানুষের দোয়া পাচ্ছি। এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। 
মেডি ভয়েস  ঃ কোন সাবজেক্ট এর উপর ক্যারিয়ার গড়তে চান?
ডাঃ রাফিদ  ঃ আমার পছন্দ ইন্টারনাল মেডিসিন। ভবিষ্যতে এর ওপর উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনাও আছে।
মেডি ভয়েস  ঃ জীবনের কোন স্মরণীয় ঘটনা...
ডাঃ রাফিদ  ঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-২৯ ফাউন্ডেশন কর্তৃক আমাকে গোল্ডমেডেল ও ক্রেস্ট প্রদান। 
মেডি ভয়েস  ঃ ক্লিনিকাল ক্ষেত্রে আপনার জীবনের আদর্শ কে?
ডাঃ রাফিদ  ঃ ডাঃ খান মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও ডাঃ কাজী দীন মুহাম্মদ স্যার। তারা আমাকে পেশাটিকে ও মানুষদের ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।
মেডি ভয়েস  ঃ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বলুন।
ডাঃ রাফিদ  ঃ পড়াশোনা, কলেজ ও আইটেম-এ রেগুলার থাকবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণই বড় কথা। পাস-ফেল নিয়ে চিন্তা করবে না। সবসময় সিনিয়র ও শিক্ষকদের সম্মান করবে এবং যত বড় ডাক্তারই হও, পরিবার ও আতয়-স্বজনকে কখনোই ভুলে যেও না।
মেডি ভয়েস  ঃ ‘মেডি ভয়েস’ সম্পর্কে কিছু বলুন..
ডাঃ রাফিদ  ঃ স্বাস্থ্যখাতে আমাদের ডাক্তার সমাজের জন্য একটি মুখপাত্র খুবই দরকার ছিল। এ উদ্যোগটি খুবই ভালো লেগেছে। আমার প্রত্যাশা ‘মেডি ভয়েস’ সমগ্র ডাক্তার সমাজকে একই কাতারে নিয়ে আসতে পারবে। ‘মেডি ভয়েস’ এর জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
মেডি ভয়েস  ঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাতকারটি নিয়েছেনঃ নেহাল আহমেদ (ডি.এম.সি)
(মেডিভয়েস দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত)

আগের নিউজ
পরের নিউজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত