ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৫৩ এএম

আমি অধম, আমি ডাক্তার

আমি অধম, আমি ডাক্তার

এই সোনার বাংলায় সোনার মানুষদের সমারোহ সর্বত্র। আমি ডাক্তার, আমি অধম। বিনম্র সালাম দেশমাতৃকার অগুনিত গুণিজনদের।

মফিজ সাহেব যখন মুনের ইমার্জেন্সীতে আসেন তখন তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট, নাকে মুখে রক্তাক্ত ফেনা বেরোচ্ছে। তার হার্ট ফেইল্যুর হয়েছে। ভর্তি দরকার CCU তে। কিন্তু সামর্থ্য নাই। কি আর করা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি দিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে রোগী ভাল হয়ে বিদায় নিলেন। দুঃখজনক হল কষ্ট একটু ভাল হওয়ার পরই তার ভাব সাব বেড়ে গেল! ডাক্তার কোথায়? তার সার্বক্ষণিক ডাক্তার দরকার। ডাক্তাররা ফাঁকিবাজ! কত মুখরোচক আলোচনা!

অথচ এই মানুষটা হাসপাতাল থেকে যাওয়ার সময় সুন্দর কম্বলটার লোভ সামলাতে পারলেন না! আমাদের সুযোগ্য সিভিল সার্জন স্যারের নিজস্ব উদ্যোগে সুন্দর সার্ভিস নিশ্চিত করার নিমিত্তে বেসরকারি অর্থায়নে কেনা কম্বলটা পাওয়া গেল তার ব্যাগে! এই শীতেই তিনটা কম্বল গায়েব!! দেশ রক্ষার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন বীরও তাকে দেয়া কম্বলটি রক্ষা করতে পারেননি। তার বিছানার কম্বলটিও কে বা কারা নিয়ে গেছে!! এখন ষ্টোর ভর্তি কম্বল থাকার পরও সিস্টার নামাতে ভয় পায় । কে মিলাবে এই কম্বলের হিসাব?

দুই.
আল আমিন তার বাবাকে নিয়ে আসল আমার চেম্বারে। স্যার, ফুল বডি চেক আপ কইরা দেন। বাহ্, বাবার জন্য কত মায়া! আমি যা-ই লিখি সে আরো দুইটা পরীক্ষা বাড়িয়ে বলে। তার বাবা, আমিতো নিষেধ করতে পারিনা! সে অনেকদিন ঔষধের দোকান চালায়, মানে গ্রাম্য ডাক্তার। নিজেই অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার নাম জানে। আমার মায়া লাগলো তার জন্য, কত ভাল ছেলে, বাবার জন্য খরচ করতে কোন কৃপনতা নাই!

পরদিন যখন রিপোর্ট নিয়ে আসল আমি অবাক। ঐখানে পরীক্ষা করালেন কেন? ওখানেতো পরীক্ষা ভাল হয়না! ওরা দালাল প্রাকটিস করে। শুনেছি পারসেন্টেজ ও ভাল দেয় ৪০%। এবার সে চুঁপ। আল আমিন সাহেব, আপনি ও কি পারসেন্টেজ খান? তাও বাবার কাছ থেকে! মুখ খোলে আলআমিন। স্যার, তিন ভাই বিদেশ থাকে, ওরাই টাকা দিবে। আমার অংশটা নিয়ে নিলাম। তাকিয়ে থাকলাম এই মহামানবের দিকে!

এই লোকটাই হয়তো তার ভাইদের কাছে ডাক্তার কে বেঁচে দিবে! ভাইদেরকে বলবে, আর বলিসনা ডাক্তাররা সব কসাই। কয়টা পারসেন্টেজ এর জন্য ডাক্তার রা পরীক্ষা বাড়াইয়া দেয়।

তাতে কি, ডাক্তারদের চুপ থাকতে হবে। ৯৯ জন ভাল বললেও ১ জনের খারাপ বলার দায় তাদের নিতে হবে! ডাক্তাররা ২৪ ঘন্টা সার্ভিস দিবে, লোভ, হিংসা বিসর্জন দিবে জীবন থেকে। সংসার, আত্মীয় পরিজন নয় রোগীই হবে তার আত্মীয়। তবেই পূরণ হবে মানবতার মহান ব্রত।

আমি বলি কি আপনি এত সিনসিয়ার, গুনি মানুষ আপনিই কষ্ট করে ডাক্তার হয়ে যান, আপনার সন্তানটাকে ডাক্তার বানান। আত্মীয় বানান কোন ডাক্তারকে। কাছে থেকে দেখুন একজন ডাক্তারের জীবন।

এবার জোকস্ শুনুন:

স্বামীজি তার বউ এর উপড় বড়ই বিরক্ত। কিচ্ছু কাজ করেনা, শুধু খায় আর ঘুমায়! প্রতিদিন এসব কথা শুনতে শুনতে বউও অতিষ্ট। দু'জনই একমত, তারা ইচ্ছা ঠাকুরের কাছে নালিশ করবে।

তারা পরস্পর পরিবর্তিত হতে চায়। স্বামীজি দু'হাটু মুড়ে প্রার্থনা করে, ইচ্ছাঠাকুর বিচার কর, আমার বউ কোন কাজ করেনা, খায় আর ঘুমায়। আমি সারাদিন কাজ করে মরি। আমাকে মেয়ে আর আমার বউকে পুরুষ বানিয়ে দাও। ইচ্ছাঠাকুর প্রার্থনা মন্জুর করেন।

পরদিন ভোরে, সূর্য উঠার আগে শুরু হয়ে যায় স্বামীজির কাজ। নাস্তা রেডি করা, বাচ্চা রেডি করা, নাস্তা খাওয়ানো। তারপরই শুরু করতে হয় দুপুরের খাবার বানানোর আয়োজন। বউ যখন অফিস থেকে এসে রাতের খাবার খেয়ে নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে স্বামীজি তখনো এঁটো বাসন- কোসন মাজছেন। নাহ্, এবার বুঝতে পারছেন গুনধর স্বামীজি। ইশ্বর, যেমন ছিলাম তেমনি ভাল। আমাদের পরিবর্তন করে দাও। ইচ্ছাঠাকুর মাথা নাড়েন, হবে না, দুইজন একসাথে বসো। দুইজন পাবে কোথায়? স্ত্রী তো এতক্ষণে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।

পরদিন ভোরবেলায়ই দুইজন একসাথে বসল। স্বামীজিই বলছে, ইচ্ছাঠাকুর আমি স্বীকার করছি আমার স্ত্রীই বেশী কাজ করে, উদয়াস্ত পরিশ্রম করে। আমি আর পারছিনা, আমাকে এক্ষুণি পরিবর্তন করে দাও। ইচ্ছাঠাকুর মুচকি হাসেন আর বলেন, Sorry, তোমাকে আরো নয় মাস দশ দিন অপেক্ষা করতে হবে। Because you are pregnant. আসুন, ইচ্ছাঠাকুরের খোঁজ করি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না