ডা. নাজমুল ইসলাম

ডা. নাজমুল ইসলাম

অনারারি মেডিকেল অফিসার

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া।


০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ১২:৫৬ পিএম

দোষ হয় ডাক্তারের!

দোষ হয় ডাক্তারের!

হাসপাতালের গেটে ঢুকা মাত্র টাকার কারিশমা শুরু হয়। ট্রলি, হুইল চেয়ার হবে টাকা দিলে, না দিলে নাই। তারপর যখন ওয়ার্ডে ঢুকে রোগীর বিছানা নাই। টাকা দিলেই বিছানা জুটে নিমিষে। আমি নিজে একজন এমবিবিএস ডাক্তার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে টাকা না দিয়ে এক পা নড়তে পারি নাই। ট্রলি যিনি টানেন তার সোজা ভাষা "কিসের ডাক্তার-ফাক্তার, আমি ট্রলি না দিলে রোগীটা ওয়ার্ডে নিতে পারতেন?"

আমরা ডাক্তাররা সহ সাধারণ মানুষ একদল মানুষের কাছে জিম্মি। হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটিতে কোন ডাক্তার কাঁটাছেড়া রোগীর সেলাই দিতে পারেনা। সব ওয়ার্ড বয়রা দেয়। ডাক্তারদের তারা দিতে দেয়না। কারণ সেলাই গুলো ডাক্তাররা ফ্রিতে করে দেয়। আর ওয়ার্ডবয়রা করলে ৩০০০/৪০০০/৫০০০ টাকা পায়। কোন ডাক্তার এর প্রতিবাদ করতে পারেনা। তাদের বিশাল সিন্ডিকেট। যে প্রতিবাদ করে সে রোষানলে পড়ে। ফলে অনেক ডাক্তার ভালভাবে সেলাই শিখতে পারে না। একজন ডাক্তারকে সেলাই শেখার জন্য এসব মামাদের আর্জির উপর নির্ভর করতে হয়।

প্রতিটা পেশা, প্রতিটা জায়গায়ই দুষ্টু লোক থাকে। আমি বিশ্বাস করি একজন ডাক্তার হালালভাবে বেশ আরামে ডাল-ভাত খেতে পারেন। তার দুর্নীতির প্রয়োজন পড়ে না। সরকারী হাসপাতাল গুলোতে যারা আসেন তাদের অধিকাংশ মানুষ নীরিহ, অসহায়। আত্নীয়-স্বজন যখন অসুস্থ হয় তখন মানুষ স্বাভাবিক থাকে না। আবেগি হয়ে পড়ে। যখন যে, যেভাবে টাকা চায় তারা দেয়। হাসপাতালে ঢোকা থেকে তাদের টাকা দেয়া শুরু হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের চেয়ে দালালের ব্যয় বেশি হয়ে যায়। টাকা না দিলে পদে পদে সাধারণ মানুষ গুলোর হয়রানি হতে হয়। ফাইল নিয়ে এখানে যাও, ওখানে যাও হ্যান-ত্যান। সব মিলিয়ে মানুষ গুলোর মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই দালালদের পর্ব শেষ করে যেই ডাক্তারের কাছে এসেই উল্টাপাল্টা মন্তব্য করতে শুরু করে। রোগীর পেশাবের রাস্তায় নল পড়ানোর জন্য একজন ডাক্তার এক টাকাও নেন না সরকারী হাসপাতালে।কিন্তু একজন ওয়ার্ডবয় নল পড়ানোর জন্য ৫০/১০০ টাকা নেন।

এইভাবে হাসপাতালে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত বহু টাকা তাদের খরচ হয়। যার সাথে চিকিৎসা বা চিকিৎসকের কোন সম্পর্ক নেই। একজন ডাক্তার জানেও না রোগীটা কাকে, কোথায়, কি জন্য এতগুলো টাকা দিলো। কিন্তু রোগীগুলো হাসপাতালের গেট থেকে বাহির হওয়া মাত্র রাগে গদগদ হয়ে বলতে থাকে- "শালার গেছিলাম কসাইখানায়। শালার কসাই (ডাক্তার) এত গুলা কষ্টের টাকা হুদাই হুদাই রেখে দিলো। শালারা মানুষ না, অমানুষ।" অথচ এসব টাকার ৫০ পয়সা সম্পর্কেও একজন ডাক্তার জানেন না কিছুই। কিন্তু ডাক্তারের নামে বিষোদগার ছড়ানো হয়।

বিনামুল্যে বহু রোগী দেখি। এখনো দেখছি। বহু হেলথ ক্যাম্প করি। সেখানে রোগীদের বিনামুল্যে ওষুধ দেয়। এখন থেকে প্রতিটি ক্যাম্পের আগে রোগীদের সাথে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলবো। হাসপাতালে কি হয়, কার কাজ কোনটা, কিভাবে দালালমুক্ত হয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে সেবা নেয়া যায় এসব নিয়ে কথা বলবো। রোগীর ওষুধ দেয়া, সেলাইন দেয়া, বিছানা দেয়া ইত্যাদি কার কাজ এসব ব্যাখ্যা করবো। 

একজন ডাক্তারের রোগীর সাথে ঝামেলা করে কি লাভ তা ব্যাখ্যা করবো। ধরেন, একটা হাসপাতালের সবচেয়ে খারাপ ডাক্তার আমি।কিন্তু আমি কি কখনো আগ বাড়িয়ে একজন রোগীর সাথে ঝগড়া বাঁধাতে যাবো? কখনোই না। একজন ডাক্তার সবসময় রোগী বান্ধব। রোগীর সাথে ডাক্তার খারাপ আচরণ করলে ডাক্তার রোগী পাবে কিভাবে?? তাই রোগীর সাথে খারাপ আচরণে ডাক্তারের ক্ষতি ছাড়া কল্যাণ নেই।

আমরা যেসব ডাক্তাররা সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত তারা যদি এই বিষয়টা প্রতিটি হেলথ ক্যাম্পে রুটিন করে নেয় তাহলে ডক্টর-পেশেন্ট রিলেশনশিপ আরও ভালো জায়গায় পৌঁছবে।

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না