ঢাকা      শুক্রবার ২৩, অগাস্ট ২০১৯ - ৮, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


আত্মহত্যাঃ একটি মহাবিপর্যয়

আকাশের মৃত্যুতে আকাশ ভেঙে পড়েছে মাথায়। স্ত্রীর হাজারো অপকর্মের প্রতিবাদে সেও একটি মারাত্মক অপকর্ম করে বসলো! একবারও ভাবলো না তাকে ছাড়া মমতাময়ী মায়ের অবস্থা কেমন হবে, ভাবলো না পিতৃহীন এই পরিবারটা কিভাবে চলবে!

অপকর্মের এই কোরাসে যোগ দিয়েছে দেশের আপামর জনতা। অন্যের চরিত্রহনন করতে গিয়ে যে নিজের চরিত্রের স্বরূপও উন্মোচন করে দিচ্ছে।

পিতার মৃত্যুর পর আকাশ হাল ধরেছিল ভেঙে পড়া সংসারের। ভালই চলছিল তাদের সংসার। হাজার হাজার তরুণ / তরুণীর আশার বাতিঘর হয়ে উঠেছিল ডা. আকাশ। 3 Doctors এর মাধ্যমে অনেক ছাত্র/ ছাত্রী, অনেক ফলোয়ার তৈরী করেছিল সে। মানুষের বিষন্নতায় সে আশার বাণী শোনাত। মনকে চাঙ্গা করার জন্য সে ছিল সিদ্ধহস্থ। সে ছিল একজন মোটিভেশনাল স্পিকার।

আত্মহত্যার মাত্র কয়েকঘন্টা আগেও সে তার বন্ধুকে বলেছিল আমি কি পাগল যে আত্মহত্যা করব! তাছাড়া আমার মায়ের কথা চিন্তা করতে হবেনা! সেই আকাশ মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে আত্মহত্যা করে বসল! কি তার ব্যাখ্যা? কি করণীয় ছিল?

সবচেয়ে বড় সেলেব্রিটি যিনি, তারও অনেক অজানা ব্যর্থতা থাকে, থাকে অব্যক্ত যন্ত্রনা। সবচেয়ে সফল মানুষটারও জীবনের কোন না কোন বাকে অসফলতা থাকে। ব্যস্ত মানুষটারও থাকে একরত্তি অবসর, নিঃসঙ্গতা। রাতের নিঃসঙ্গতায় তার সমস্ত ব্যর্থতা, দুঃখবোধ, পাওয়া- না পাওয়ার যন্ত্রনা বারে বারে হানা দিতে থাকে মনে। ইবলিশ মনের ভিতরে এক পূণপূণিক অণূরণণ তৈরী করে। এক অদৃশ্য অস্ওয়াসা, একটি মারাত্মক কনফ্লিক্ট, একটি অবসেশান। মানুষ এই সময়টাতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, ঘটে যায় ভয়াবহ অঘটন, সুইসাইড।

পৃথিবীতে যারা গত হয়েছে, যারা বর্তমান, যারা আসবে সমস্ত মানুষের রূহ একসাথে তৈরী করা হয়েছে। তারপর তাদেরকে আল্লাহ (সুব:) প্রশ্ন করলেন, আমি কি তোমাদের রব নই? তখন সমস্বরে উত্তর দিয়েছিল অবশ্যই আপনি আমাদের রব। মৃত্যুর পর রূহ্ কে প্রথম প্রশ্ন করা হবে তোমার রব কে? পৃথিবীর জীবনেও সারাদিনে কয়েকবার প্রভূর দরবারে হাজিরা দেয়ার নির্দেশ। এভাবেই তৈরী হয় স্রষ্টার সাথে বন্ধন। এই বন্ধন যত দৃঢ় হবে মনের শুন্যতাও তত ঘুচে যাবে। রাতের অন্ধকারে, সারা পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে যাবে তখনও একজন জেগে থাকেন তিনি স্রষ্টা। তন্দ্রা তাঁকে ষ্পর্শ করে না। স্রষ্টার সাথে বন্ধন গড়ে উঠলে রাতের নিস্তব্ধতায় মানুষ অনুভব করবে স্রষ্টার অস্তিত্ব। তখন স্রষ্টার সাথে কথা বলা যাবে, অভিযোগ করা যাবে কষ্টের, চাওয়া যাবে নিজের কাঙ্খিত বস্তু। এভাবেই থেমে যাবে মনের ঝড়, স্তিমিত হয়ে আসবে অসওয়াসা, দূর হয়ে যাবে কনফ্লিক্ট। এড়ানো যাবে মহা বিপর্যয় আত্মহত্যা।

সুতরাং আপনার সন্তানের সাথে প্রভূর পরিচয় করিয়ে দিন, তৈরী করে দিন শক্ত বন্ধন, রক্ষা করুন আত্মহত্যা নামক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা ‘অশনিসংকেত’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যের সংখ্যা বিশ্বে তৃতীয়! অথচ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কোনো…

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর