স্বাস্থ্য দস্যুদের গ্লানির ভাগ আমি নিতে চাইনা


অপচিকিৎসার শিকার হয়ে জীবন নষ্ট হওয়া বা সহায়-সম্পদ হারানো মানুষের কথা শুনি। নিজে একজন ডাক্তার হিসেবে আমি জানি এসব অভিযোগের অনেক ক্ষেত্রে সত্যতা থাকে। আমি ডাক্তার হয়েও নিজে দু-একবার এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। আমি নিজে ডাক্তার বলে বুঝতে পেরেছি। বড় বিপদে না পড়লে সাধারণ মানুষ হয়তো অনেক সময় বুঝতেও পারেনা কোনদিক দিয়ে ক্ষতি হল।

হয়তো পঁচানব্বইভাগ চিকিৎসক সৎ। কিন্তু, কিছু ডাক্তার এমন আছেন যাদের মানবিকতা বলতে সত্যিই কিছু নেই। সব পেশাতেই এমন কিছু অমানুষ আছে। আমি ডাক্তার জন্য আমার পেশার কথা বলছি। এরা আমাদের জন্য লজ্জার, অপমানের। এদের বিরুদ্ধে জনগণ, সাংবাদিক, পুলিশের ব্যবস্থা নেয়ার অপেক্ষায় থাকলে হবেনা। আমাদের নিজেদেরই আগে ব্যবস্থা নিয়ে কলংকমুক্ত হতে হবে।

ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গী বলি। আমার বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। বিসিএস এডমিন ক্যাডার। বাবার সীমিত বেতনে সারাজীবন খুব হিসাবের মধ্যে থেকে মধ্যবিত্ত জীবনযাপন করেছি। এর মধ্যে আমি কোন দোষ দেখিনা। এভাবেই সারাজীবন চললে আমার কোন সমস্যা নাই। ডাক্তারি করে ধনী হওয়ার ইচ্ছা আমার নাই। যদিও সৎভাবে ডাক্তারি করে ধনী হওয়া যায় এবং যারা হচ্ছেন তারা সবাই ভাল মানুষ। তবে, আমার নিজের এতো চাহিদা নাই। ইনশাআল্লাহ আমি কখনো আমার রোগীকে কোনরকম একটা চিকিৎসা দিয়ে টাকাটা নিয়ে ছেড়ে দিবনা। আমার নিজের স্বজনের মতো করে তারজন্য সবদিক চিন্তা করব। তার জন্য কখন, কী করলে ভাল হয় সেটা প্ল্যান করব।

মানুষ হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতা থাকবে। সব সমস্যা মানুষ সমাধান করতে পারেনা। যতোটা পারা যায় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব। রোগীকে চাপ দিবনা, ভয় দেখাবনা, তথ্য গোপন করবনা। কোনটা করলে আমার উপার্জন বাড়বে সে হিসাব করবনা। কারণ, সে হিসাব না করেও আমি সংসার চালাতে পারব ইনশাআল্লাহ।

স্বাস্থ্য-দস্যুদের গ্লানির ভাগ আমি নিতে চাইনা। এজন্য আমি ডাক্তার হইনি। ডাক্তার হয়েছি কারণ এপেশায় আখিরাতের সম্পদ উপার্জনের পাশাপাশি দুনিয়াতেও ঠিকভাবে চলা যায়। আমৃত্যু এভাবে চলতে চাই এবং আমার জুনিয়রদের সরলপথে চলতে উৎসাহ দিতে চাই।