ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১১ ঘন্টা আগে
অধ্যাপক ডা. সালমা আফরোজ

অধ্যাপক ডা. সালমা আফরোজ

সাবেক বিভাগীয় প্রধান, হেমাটোলজি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। 


০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০২:৫৪

বাড়ছে ক্যানসার করণীয় কী?

বাড়ছে ক্যানসার করণীয় কী?

কয়েকদিন ধরে মনটা খারাপ। পরিচিত কয়েকজনের ক্যানসার হয়েছে। আমি ডাক্তার তাই পরামর্শের জন্য আসে। কেন হলো? সারবে কিনা? এত বাড়ছে ক্যানসার কিছু করছি না কেন?- হাজারও প্রশ্ন।  

কেনর কী উত্তর জানি না। অস্থির মন নিয়ে অফিসে রওনা দিলাম। মেট্রোরেলের কাজ ও ভিআইপি যাবে তাই ভীষণ জ্যাম। হেঁটেই রওনা দিলাম।

সামনে ফলের দোকান দেশি-বিদেশি ফল সাজানো। অসময়ের অনেক ফল সাজানো ভীষণ লোভনীয় লাগছে। কেউ কেউ কিনছেন।

আচমকা মনে পড়ল এগুলোতে কি রাসায়নিক দ্রব্য দেয়া আছে? না হলে এত দূর দেশের বা দেশের ফল এতদিন ধরে এত সুন্দর থাকছে কেমন করে?

এমন দেশে আমরা আছি যেখানে কেউ কোন ফলের কারবাইড বেশি আছে যা ক্ষতিকর বললেই পরের দিন আর একজন বলছেন যে পরিমাণ আছে সেটুকু দেয়া যায় ক্ষতিকর না।

আমরা দ্বিধায় পড়ি। সেই ফলগুলো খেতে থাকি যা প্রায় মাসখানেক বাইরে থাকলেও নষ্ট হয় না। ২/১জন ঠাট্টা করে বলে মরে গেলে আমাদের লাশও এই রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে মমির মত থাকবে।

শরবত বিক্রি হচ্ছে। কমলা রঙ। কম বয়সী ছেলেরাই বেশি খাচ্ছে। ১০ টাকা গ্লাস। বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করি কমলা দিয়েছো? পোষাচ্ছ কেমন করে?

উত্তর পেয়ে যাই যে খাচ্ছিল তাকে দেখে। ঠোঁট রঙিন হয়েছে। খাবারের রঙের দাম বেশি তাই কাপড়ের রঙ ব্যবহার করে খবরের কাগজে দেখেছি। অনেক দামি দোকানেও করে। চিন্তায় বাধা পরে। গ্রিল আর শিক কাবাবের গন্ধে ক্ষিধা মনে হয়। মুরগী গ্রিলে ঘুরছে মসল্লা মাখানো। জানিনা মুরগী মরার পরে জবাই না আগে। মুরগীর রঙ দেখে আবারও মনে আসে খাবারের রঙ না কাপড়ের?

কারণ আমাদের অনেক লাভের দরকার আর কড়াভাবে নজর দেয়ার লোকের বড়ই অভাব।

হাঁটার মধ্যেই দেখছি আশেপাশে অনেকেই সিগারেট টানছে। আর আমি ও আমার মত হাজার লোক বিষে নীল হচ্ছি।

পাশের বাসার বুয়ার কথা মনে পরল। ওর ছেলের লাংস ক্যানসার হওয়ার পর ও আমার কাছে এসেছিল।  ও জেনেছে যে সিগারেট খেলে এই ক্যানসার হয় তা হলে ওর যে ছেলে সিগারেট খায়, তার ক্যানসার না হয়ে যে খায় না তার হলো কেন?

ওকে বলি অনেক কারনের মধ্যে একটা কারণ সিগারেট। যে খায় তার থেকে ধুয়ায় আশেপাশের লোকের ক্ষতি হয়। জ্যামে আটকে থাকায় সিগারেট বিক্রিও হচ্ছে বেশি। বাসের ড্রাইভারও দেখলাম খাচ্ছে আর ধুমায়িত করছে সবাইকে।

রিকসায় উঠব রিকসাওয়ালা উনিও সিগারেট টানছেন। উনাকে সিগারেট ফেলতে বললাম। উনি ট্রাফিককে ওটা দিয়ে চালাত আরম্ভ করলেন।

সারা রাস্তা ওনাকে সিগারেট খাওয়া নিয়ে জ্ঞান দিলাম। নামার সময় বললেন আসলেই আপা?

সবাই যে যার জায়গা থেকে চেষ্টা করলে সাফল্য আসবেই প্রতিরোধে।

আজ বিশ্ব ক্যানসার দিবসে যুদ্ধরত ক্যানসার পরিবার ও রোগীদের জন্য রইল অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত