ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ১৭:০৭

থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে ডাটাবেজ সিস্টেম চালু

থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে ডাটাবেজ সিস্টেম চালু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একটি ট্র্যাকারের (ডাটাবেজ সিস্টেম)আওতায় আসবে দেশের সব থ্যালাসেমিয়া রোগী। এই ট্র্যাকারে থাকবে রোগীর যাবতীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য। ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী,পরবর্তীতে সরকারিভাবে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর যাবতীয় সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।ঢাকা থেকে সারাদেশের কোন রোগী কী সেবা পাচ্ছে তা জানা যাবে এর মাধ্যমে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া কর্মশালা-২০১৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ট্র্যাকার উদ্বোধন করা হয়। একইসঙ্গে প্রথম দোভাষী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এ টু জেড থ্যালাসেমিয়া উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) আবুল কালাম আজাদ।রাজধানীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স (বিসিপিএস) অডিটোরিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত বা জিনগত রোগ।দেশের ৭ থেকে ১০ ভাগ মানুষ এই রোগের বাহক। সারাদেশের আটটি বিভাগীয় শহরে থ্যালাসেমিয়া সেন্টার স্থাপন করা হবে। এটি দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যের যাত্রা শুরু করবো। থ্যালাসেমিয়ার বিষয়টি আমরা শিক্ষা ক্যারিকুলামে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার কথাও ভাবছি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)ও অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে।

উল্লেখ্য, থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্তস্বল্পতাজনিত মারাত্মক বংশগত রোগ।বাবা-মা এ রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হয়ে জন্মাতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় শতকরা ১০ ভাগ লোক এ রোগের বাহক। দেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার শিশু এ রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।এ রোগীদের অপরের রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে হয়।একজন রোগীর গড়ে প্রতিমাসে দুই থেকে তিনব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। রক্তদাতার অভাবে বেশির ভাগ রোগী মৃত্যুবরণ করছে।বয়সভেদে একজন রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে যার ব্যয়ভার বেশির ভাগ বাবা-মা বহন করতে পারেন না।কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক এন ডালটন, ডা.পাল টেলফার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিপার্টমেন্ট অব কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড সাপোর্ট সেল এই ট্র্যাকারটি তৈরি করেছে। মূলত দেশের সব থ্যালাসেমিয়া রোগীকে একই তালিকায় আনার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত