ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০৩:১৯ পিএম

"আই এম ইন হসপিটাল, ডোন্ট কল আগেইন"

আই এম ইন হসপিটাল, ডোন্ট কল আগেইন

বহু আগে একটা কেইস পেয়েছিলাম উপজেলায়।  তখনও সাইকিয়াট্রিস্ট হইনি।  বিষয়টি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। 

তরুণী হাসপাতালে আউটডোর রুমে ঢুকেই মাথাব্যথাসহ নানান উপসর্গের কথা একে একে বলতে লাগলো।  তার কথাবার্তার ধরণ, পোশাক-আশাকে আভিজাত্য আর আচরণে উঁচু পরিবারের মনে হলো।  যদিও কিছুটা গ্রান্ডুইসিটি, অভার ভলিউম স্পিচ ছিলো। 

উপজেলায় সাধারণ বহির্বিভাগে একজন রোগী দেখার জন্য দুই মিনিটের বেশি সময় পাওয়া যায় না। খটকা লাগায় তাকে পাশে অপেক্ষা করতে বললাম।

সিরিয়ালের রোগী দেখে কথা শুরু করলাম তার রোগ নিয়ে।  কথা বলতে বলতে তরুণী এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করলেন, যা নিতান্তই বলার মতো নয়।

অপিরিচিত বা সামান্য পরিচিত কারো সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে আবেগপ্রবণ কথা স্বাভাবিকভাবে শ্রোতার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ওই তরুণী অবলীলায় বলে চললেন"আমি বারিধারার প্রাইভেট ভার্সিটিতে বি বি এ পড়ছি।  কাল বাড়িতে এসেছি।  পড়াশোনার খরচাপাতি, হাত খরচ প্রয়োজন।  কিন্তু বাবা দিতে চান না, কৃপণ প্রকৃতির।  যদিও বাবার অনেক টাকা আছে।  এই হাত খরচের টাকা নিয়ে কাল সারারাত বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করেছি।  তারা দেননি, সকালে তাই কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে এসেছি।  আমি কখনো বাড়ি ফিরে যাবো না।  প্রয়োজনে বাবার সম্পত্তি আমার করে পেতে আইনি পদক্ষেপ নেবো।  স্যু কেইস ইন হাইকোর্ট এগেইন্সট মাই ডার্টি পা-পা।  বাট নাও ফিলিং সিভেয়ার হেডেক নাও...। " তারপর ফুপিয়ে কান্না।

এমন সময় তার বাবা ফোন দিলেন।  তরুণী বললেন, "আই এম ইন হসপিটাল।  ডোন্ট কল আগেইন"।  লাইন কেটে দিলেন।  হাতে দামি ব্ল্যাক বেরি মুঠোফোন।

বাবা খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে আমার রুমে।  আমার সামনেই বাবা-মেয়েতে ফের ঝগড়া, উচ্চবাক্য বিনিময়, টাকা-পয়সা হাত খরচা—আরো কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে।

যাহোক পরে বাবাই সব বললেন।

অনেক দিন ধরে মেয়েটা ইয়াবায় আসক্ত।  ঢাকার অভিজাত এলাকায় ইউনিভার্সিটিতে পড়তো।  কিন্তু অনাকাঙ্খিত এ নেশার ফাঁদে পা দিয়ে পড়া আর শেষ করতে পারেনি।  শিক্ষা বিরতি বলা যায়।  অনৈকি সম্পর্ক আর অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে।  এর ধারাবাহিকতায় এক পর্যায়ে বিয়ে করলেও সেটা টেকেনি।  কয়েকটা বন্ধু আছে সেগুলাও এ রকম হাই সোসাইটির।  অনেক কাণ্ডকীর্তি করেছে, করছে। মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মারতে পারি না।  একমাত্র মেয়ে তো।  

কথাগুলো বলতে বলতে বাবার চোখ জলে সিক্ত হয়ে যায়।

একটু পর আবার বলা শুরু করলেন, "নেশার টাকা না দিলে ভাঙচুর শুরু করে, আমাদের গালি-গালাজ করে।  এমন কি মারেও।  মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রেও কয়েকবার দিয়েছিলাম।  ক'দিন ভালো থাকে।  পরে আবার যেই সেই। "

কথাগুলো বলার সময় আবারও তরুণীর বাবার চোখ বেয়ে অশ্রু পড়ছিলো।  

ঘটনা প্রায় দশ বছর আগের।  তখনও ইয়াবা আজকের মতো মহামারী আকার ধারণ করেনি, ছিল না সহজলভ্যও।  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না