ময়ূখ মামুন

ময়ূখ মামুন


১৪ অগাস্ট, ২০১৬ ০৯:১০ পিএম
কবিতা

মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ

মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ

বলতো, 
স্বাধীনতার মানে কী?
স্বাধীনতা কি শুধুই একটি লাল সবুজের পতাকা হাতে-
‘আমি স্বাধীন আমি স্বাধীন’ বলে চিৎকার করে ওঠা?
স্বাধীনতা কি শুধুই নৈঃশব্দিক রাতের আকাশ মাতিয়ে-
এক দুই তিন করে ১৬টি শেল ফাটানো?
স্বাধীনতা কি শুধুই একটি শব্দ, একটি বর্ণালংকার?

তোমরা কি ভুলে গেছো...?
স্বাধীনতা আসবে বলে, 
আমার বোনের নিষ্পাপ দেহে পড়েছিল কত হিংস্র আঁচড়।
‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’ বলেছিল নিতাই মাঝি
আর তাই-
সুতীক্ষè বেয়নেটের শত সহস্র খোঁচায় কী হয়েছিল তার...

তোমরা কি ভুলে গেছো?
আমি ভুলিনি...
আমি ভুলিনি কিশোরী শিল্পী দিদির কথা...
সেই ’৭১ থেকে আজও সে নির্বাক-
তাকিয়ে থাকে শূণ্য আকাশের দিকে,
কাকে যেন অভিশাপ দেয়। 

তোমরা কি ভুলে গেছো?
স্বাধীনতা আসবে বলে, 
কত ছেলে, বুড়ো, শ্রমিক, যুবা
অবলীলায় বুকে বেঁধেছিলো মরণ-মাইন!
লক্ষ শহীদের তপ্ত হিমোগ্লোবিনে রঞ্জিত হয়েছিল-
দুঃখিনী বাংলার পথ।
তোমরা কি ভুলে গেছো?
বাবার লাশের পাশে দাঁড়িয়ে একটি শিশুর করুণ আর্তনাদ, 
পুত্রশোকে বৃদ্ধা মায়ের ‘হায়, হায়’.. করে ওঠা
গগনবিদারী হাহাকার!
তোমরা কি ভুলে গেছো?
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে আমার
তেজোদীপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুচিৎকার!
তোমরা কি ভুলে গেছো?
রসুলপুরের সেই বিধবার রিক্ত বুলি,
তোমরা ভুলে গেছো কী- ’৭১ এর রক্তঝরা দিনগুলি?

বলো! আজ কোথায় আটকে গেছে আমার স্বাধীনতা?
আজও কেন ঘরে ঘরে কান্না, হাহাকার আর ক্ষুৎচিৎকার?
কেন নিষ্ঠুর খাদ্যথলিকে গালি দিয়ে ঘুমোতে যায় শত বাঙালি?
বিপন্নরা কেন চিৎকার করে ‘‘মুক্তি চাই, মুক্তি দাও’’?
দু’মুঠো অন্নের আশায় আজও কেন অসহায়েরা বলে-
‘‘ভাত দাও, না হয় মানচিত্র খাবো’’
বলো! এই কি স্বাধীনতা?

দেখো, আমার দেশকে নিয়ে কত চালাচালি,
কত শত্র“ নির্ভয়ে পলাশীর নীল নকশা আঁকে!
দলে দলে আজও কত হানাহানি; কত বিবাদ, কত বিভেদ!
মানুষখেকো অস্ত্র হাতে আজও তোমরা নৃত্য করো 
অসহায় লাশের উপর দাঁড়িয়ে।

বলো, এই কি স্বাধীনতা?
এই কি বিজয়?
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না