ঢাকা      মঙ্গলবার ১৬, জুলাই ২০১৯ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

এম.এস./এম.ডি. রেসিডেন্সি এডমিশন প্রস্তুতি

এম.এস./এম.ডি. রেসিডেন্সি এডমিশন প্রস্তুতি


প্রাথমিক তথ্যঃ 
ক) প্রতি বছর জুলাই সেশনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ভর্তির জন্য বিএসএমএমইউ-এর অধীনে সারা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং ইন্সস্টিটিউটে এম.ডি/এম.এস/এম.ফিল/ডিপ্লোমা অ্যাডমিশন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবারও ২৮ মার্চ, শুক্রবার জুলাই ২০১৪ সেশনের জন্য ক্লিনিক্যাল, ডেন্টিস্ট্রি, বেসিক সায়েন্স বিষয়ে নন রেসিডেন্সি এম.ডি/এম.এস/ডিপ্লোমা/এম.ফিল পরীক্ষা হয়েছে।
খ) এ বছর সীট ও প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বিচারে আগের চাইতে কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে।
গ) রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা পূবালী ব্যাংকে জমা নেয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০০/=।

রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ৪ঠা মার্চ শেষ হয়েছে। উল্লেখ্য, যেদিন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করবেন, তার একদিন আগেই টাকা জমা দেয়া নিশ্চিত করতে হয়।
ঘ) সকল কোর্স নন-রেসিডেন্সি। সম্ভবত এটাই শেষ নন-রেসিডেন্সি পরীক্ষা কিনা সেটি নিশ্চিত হবার জন্য আগামী বছরের এ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পূর্বের গুজব ও বিএসএমএমইউ সাইটের টেস্ট পেজ এর বিভ্রান্তির কারণে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছিল। নিশ্চিত হতে ভিজিট করুনঃ http://www.bsmmu.edu.bd/?page=menu&content=139020390785
ঙ) যে কোন পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন করতে শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা পরিহার করুন। কারণ এ সময়ে সার্ভারে অনেক চাপ থাকে। নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠান ও বিষয় নিশ্চিত হয়ে ফাইনাল সাবমিশন করুন। একবার সাবমিশন হলে কোন অবস্থাতেই তা পরিবর্তন যোগ্য নয়। অন্যকে দিয়ে নিজের ফর্ম আপনার অনুপস্থিতিতে পূরণ কস্মিনকালেও করতে দেবেন না।
চ) সকল ডকুমেন্ট, কোড এবং স্ক্রীণ শট সযত্নে সংরক্ষণ করুন।
নন রেসিডেন্সি নিয়ে কমন কিছু প্রশ্ন-সম্ভাব্য জবাবঃ
ক) এবার যাদের ৩৩তম বিসিএস হয়েছে, তারা কি পরীক্ষা দিতে পেরেছেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ। তবে চান্স পাবার পর ভর্তি হবার তারিখের পূর্বেই কোনভাবে গেজেট হলে ও বিসিএস এ যোগদান করলে ভর্তি হতে পারবেন না এবং কোর্স বাতিল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কোন কারণে বিসিএস এ যোগদান পিছিয়ে গেলে ভর্তি হবার পর বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ছুটি দেবে।
খ) চান্স পেলে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে কি আদৌ পরীক্ষা দেয়া উচিত হবে? 
উত্তরঃ পরীক্ষা দিলেই চান্স পেয়েও যাবেন গ্যারান্টি আছে কি? যদি আপনার কোন বিষয়ে এখন কোন অর্জন না থেকে থাকে এবং প্রিপারেশন মোটামুটি থাকে, অবশ্যই পরীক্ষা দেয়া উচিত। আর কোন কারণে ভর্তি হতে না পারলেও চান্স পেয়ে যে কনফিডেন্স আপনি অর্জন করবেন, তার মূল্য সহস্র কোটি টাকা। এজন্য না হয় কিছু বিনিয়োগ আপনার হলোই, এতে ক্ষতি নেই।
গ) এবার যাদের ৩৩তম বিসিএস হয়েছে, তারা কি আগামী রেসিডেন্সি পরীক্ষা দিতে পারবেন? উত্তরঃ নভেম্বরে পরীক্ষা হলে ৩৩তম বিসিএস এ যোগদানকারীরা দুই বছরের আগে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। তবে চাকরির এক বছর পূর্ণ হলে এনেসথেসিয়া ও বেসিক সায়েন্সে পরীক্ষা দেয়া যায়।
ঘ) ৩৩ বিসিএসধারীরা ভর্তি হবার পর চাকরিতে যোগদান করলে কি হবে? 
উত্তরঃ মোট আটটি টার্ম আপনি পাবেন। যেহেতু যোগদানের দু’বছরের মধ্যে নিয়মানুযায়ী আপনি কোর্সে আসতে পারছেন না, সুতরাং হাতে থাকবে দুই বছর-৪ টার্ম। ১মটি ছয় মাসের বেসিক সাবজেক্টের জন্য কোর্স। বাকি তিনটি সেশনের মধ্যে আপনাকে কোর্স কমপ্লিট করতে হবে। একটু রিস্কি, তবে কঠিন নয়। আর যদি শিক্ষা ছুটি বা কোর্সের জন্য কোন লাইন ম্যানেজ করা যায়, তাহলে এই হিসাব আপনার জন্য নয়।
ঙ) রেডিওলজিতে যারা এম.ফিল দিতে চাচ্ছেন, তাদের কি হবে? 
উত্তরঃ দুঃখিত, তাদের বড় কোর্স অর্থাৎ এমডি এর জন্য ট্রাই করতে হবে। এবার সকল প্রতিষ্ঠান হতে নন রেসিডেন্সি এম.ফিল উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। দেখা যাক আগামী রেসিডেন্সিতে এ বিষয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত আসে কিনা।
চ) আমার বিসিএস হয়নি, আসলে রেসিডেন্সি দিতে চাই। কোনভাবে নন-রেসিডেন্সি পরীক্ষায় চান্স পেয়ে গেলাম। কি করনীয়?
উত্তরঃ বলা সত্যিই ডিফিকাল্ট। কোন কোর্সে ভর্তি হলে বাতিলের এক বছরের মধ্যে নিয়মানুযায়ী বিএসএমএমইউ কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যায়না। মনে রাখবেন, নন রেসিডেন্সিতে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ও সীট সংখ্যা প্রচুর। অপরদিকে রেসিডেন্সি পরীক্ষা অনেক বেশি প্রতিযোগিতা পূর্ণ, সীট সংখ্যাও হাতে গোনা। ৩৩তম বিসিএস পোস্টিং এর কারণে এবার নন-বিসিএসদের জন্য রেসিডেন্সিতে বিরাট সুযোগ ছিল। সব মিলিয়ে চান্স পেয়ে গেলে ভর্তি হবেন নাকি না পাওয়া জিনিসের জন্য ভাগ্যের সাথে খেলবেন, এটি একান্তই আপনার বিষয়।
ছ) পরীক্ষা কত মার্কস এর? নেগেটিভ নম্বর থাকবে কি? 
উত্তরঃ ১০০ নম্বরের, সময় ৯০ মিনিট। বিগত বছরগুলোতে যেহেতু প্রতিটি স্টিম ভুলের জন্য ০.২৫ নেগেটিভ নম্বর ছিল, তাই এবার নেগেটিভ নম্বর না থাকার কোন কারণ নেই।

পরীক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যক টিপসঃ 
১) সময় ৯০ মিনিট, প্রশ্ন ১০০ (তার মধ্যে স্টিম ৫টা করে ,তার মানে ৫০০টা প্রশ্ন) তাই সময়ের মূল্য দিতে হবে চরম ভাবে। মনে রাখবেন প্রতিটি প্রশ্ন পড়ে উত্তর দেবার জন্য সময় মাত্র ৪৫ সেকেন্ড।
২) প্রতি সেকেন্ডের হিসাব রাখতে হবে। প্রথম আধা ঘন্টায় ৪০টি প্রশ্ন উত্তর করবার টার্গেট রাখুন। খেয়াল রাখতে হবে প্রথম দিকে ঢিলামি করে শেষের দিকে যেন পারা কিছু ফেলে রেখে না আসেন।
৩) যেগুলো সিওর হবে সেগুলো আগে দিয়ে ফেলুন খুব দ্রুত। নয়তো পরে কনফিউজিং গুলো নিয়ে চিন্তা করার টাইম পাবেন না। বড় প্রশ্ন বেশি সময় নিয়ে পড়তে হলে পরের জন্য রেখে দিতে পারেন। তবে অবশ্যই উত্তর না দেয়া প্রশ্নে মার্কিং রেখে যাবেন।
৪) ভুলেও কোনো ঘর ফাঁকা রেখে আসবেন না। কারন ফাঁকা রাখার চেয়ে ভরাট করে আসলে নাম্বার বাড়ার চান্স বেশি। কারন নেগেটিভ মার্ক খুবই তুচ্ছ পরিমাণ এই পরীক্ষায়।
৫) নাম, রোল, ফ্যাকাল্টি ফিল আপ করবেন সাবধানে। কলম, পেন্সিল, ইরেজার নিতে ভুলবেন না। আর প্রবেশ পত্র রাতেই ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখুন। ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস পত্র (মোবাইল) নিয়ে যাবেন না। মোবাইলে যাদের ঘড়ি দেখে অভ্যাস, দয়া করে আগের দিনই একটি ঘড়ি ম্যানেজ করে ফেলবেন।
৬) ভুলে যাবেন না- কনফিডেন্স মানুষকে ঠকালেও, ধোঁকা দেয় না। মানে হলো- ভুল জেনেও সবগুলো সেম স্টিম দিয়ে আসলেও কিছু পজিটিভ মার্ক পাবেন- এটা কনফিডেন্টলি বলতে পারবেন।
৭) পরীক্ষার আগের রাতে বেশি জাগতে হয় না। ফ্রেশ ঘুম ব্রেইন কে খুলে দিতে পারে।
৯) অনুগ্রহপূর্বক পরীক্ষার আধা ঘন্টা আগে পৌঁছুতে ঢিলেমি করবেন না। ছুটির দিন সকাল হলেও পরীক্ষার কারণে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকে।
১০) পুরো শিক্ষা জীবন যার শত শত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পার হয়েছে, একজন চিকিৎসক কখনও একটি-দু’টি পরীক্ষার নেগেটিভ ফলাফলে হতাশ হয়ে যাবেন- এটি বেমানান। আল্লাহর রহমত কামনা করুন। এমডি/এমএস পরীক্ষায় বিদ্যার চেয়ের বুদ্ধির দৌড় বেশী হেল্প করে। তাই জেনে বুঝে পরীক্ষা দিন। প্রিপারেশন যাই-ই থাকুক, ভেবে নিন- জয় আপনার সুনিশ্চিত।

ডাঃ মুহিব্বুর রহমান
এমডি অধ্যয়নরত, ডিপার্টমেণ্ট অফ ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশান, বিএসএমএমইউ।

(দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত)


 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর