ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫৪ মিনিট আগে
২৪ জানুয়ারী, ২০১৯ ১২:২৭

ডা. টিটুর বদলিতে শ্রীমঙ্গলবাসীর কান্না

ডা. টিটুর বদলিতে শ্রীমঙ্গলবাসীর কান্না

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটুর বদলিতে আবেগআপ্লুত ও মর্মাহত শ্রীমঙ্গলবাসী। কিছুতেই যেন তারা এ বদলি মেনে নিতে পারছেনা। বিশেষ করে তার এ বদলির খবরে এলাকার দরিদ্র রোগীরাই বেশি কষ্ট অনুভব করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার জয়নাল আবেদীন টিটুর সুন্দর আচরণে রোগীর শরীরের অর্ধেক অসুখ ভাল হয়ে যায়। তিনি গরীব রোগীদের থেকে কখনই ফি নেন না। এমনকি পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রোগী দেখা, রোগীর সাথে সুন্দর আচরণ করা ও তাদের নানা ধরনের সাহায্য সহযোগীতা করায় একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সকলের অনুকরণীয় ও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার স্বাস্থ্যকর্মী শিউলী আক্তার বলেন, টিটু স্যার আমাদের শ্রীমঙ্গলে থাকলে চিকিৎসা সেবার আরো উন্নতি হতো। আমাদের কাছে যদি এমন কোন ম্যাজিক থাকতো যাতে আপনার যাওয়া আটকানো যেত, তাহলে আমরা আপনাকে এ এলাকাতেই রেখে দিতাম। আপনার মতো একজন ভালো মানুষকে আমরা হারাতে চাইনা।

শিউলী আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে আমার এলাকার এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে যাই স্যারের কাছে, তখন দেখি এক গরীব লোক টাকার অভাবে টেস্ট করাতে পারছেনা, হাসপাতাল থেকে ও টাকা ছাড়া টেস্ট করছেনা, তখন তিনি কাগজে ফ্রি টেস্ট করার জন্য লিখে দিলেন, কিন্তু যারা টাকা জমা নেয় তারা জানালেন যে উনার রিসিট লেখা হয়ে গেছে টাকা ছাড়া টেস্ট করানো হবেনা, তখন নিজে টাকার দায়িত্ব নিয়ে টেস্ট করিয়েছেন। তখন উনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আজ যখন আমি কয়েকজন দরিদ্র রোগীর সাথে কথা বললাম যে উনি চলে যাচ্ছেন বদলি হয়ে সবার মুখে কষ্টের ছাপ। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছেন ডাক্তার স্যারকে কি আমাদের শ্রীমঙ্গলে রাখা যায়না? সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে। একজন সু-চিকিৎসকের যে গুনাবলী থাকা দরকার (ধৈর্য, আন্তরিকতা, বিচক্ষনতা, অভিজ্ঞতা, শান্ত, ভদ্রতা, নম্রতা ও ত্যাগ) সবই ডাক্তার জয়নাল আবেদীন টিটু স্যারকে পরম করুনাময় অসীম রহমানুর রাহীম আল্লাহতালা দান করেছেন।

এ দিকে বদলি প্রসঙ্গে ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু মেডিভয়েসকে বলেন, দীর্ঘদিন এ এলাকায় ছিলাম, সাধারণ মানুষের অনেক ভালবাসা পেয়েছি। এখন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বদলির অর্ডার হয়েছে।

সাধারণ মানুষের এতো ভালবাসার ব্যাপারে ডা. টিটু বলেন, আমি প্রথম থেকেই মনে করতাম আমি সার্ভিস দিতে এসেছি, এতে করে আমি এতো বেশি জনপ্রিয়তা পাবো, সেটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি মানুষকে ভালবাসাটাকে আমার কর্তব্য মনে করেছি, তারা আমাকে প্রতিদান দিচ্ছে। আমি মনে করি আন্তরিকভাবে কাজ করলে প্রতিদান দেওয়া যায়, মানুষের, দেশের ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করা সম্ভব।

ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ২৮তম ব্যাচে এমবিবিএস পাস করেন। তারপর এফসিপিএস পার্ট ওয়ান করেন মেডিসিনে এবং এমডি পার্ট ওয়ান করেন কার্ডিওলজিতে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলায়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত