ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


২৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৬:৪৬

হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

মজা পাইতেছি। বরাবরের মতোই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হইয়াছে। সাবান সোডা নামক বস্তু দিয়ে আই নামক বস্তু কে ওয়াশ। এই এতটুকুন জুনিয়র অফিসার। ধরে নিন হাসপাতাল ব্যাতিরেকে বিশেষ কোন সরকারী অফিসের।

না না না। অফিসে সকালে অনুপস্থিত ছিলেন না। তবে অফিসে বসে হাতল ভাঙা চেয়ারে বসে শ' দুয়েক রোগীর চিকিৎসা দিয়ে নাকে চোখে চারটা ডালভাত দিয়ে আবার সারা বিকেল নিজের অর্জিত জ্ঞান টুকু দিয়ে রুগী চিকিৎসা দিয়েও বেড়ান না। কেউ ভিজিট দেয়, কেউ দেয় না। কিন্তু ফুরিয়ে যায় বিবর্ণ বিকেলটা, তেমনি ফুরিয়ে যায় আরো বহু কিছু।

তবু ঐ অফিসারের বছর ঘুরতেই ব্যাংক ব্যালেন্সের পারদ বাড়িতে থাকে। চৌদ্দ গোষ্ঠীর লাইফ ষ্টাইল সাই সাই করে হাই হইতে থাকে। পাঁচটি বছর পেরোতেই ঢাকা শহরে গোটা চারেক ফ্লাট, গায়ের বাড়িতে একখানা তিন তলা বিল্ডিং এবং জেলা শহরে একখানা পাঁচতলা বিল্ডিং। এইসব কিছু যে চাকুরীজীবী করেছেন তার চাকুরীরত সময়ের সরকার নির্ধারিত বেতনের থেকে এটা হয়ত বা কয়েকশ গুন।

কিন্তু এ নিয়ে সরকার, দুদক, জনগন সাংবাদিক কারো মাথা ব্যাথা নাই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডুকেশন শাখার এক জোড়া দম্পতির সম্প্রতি পনের হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছে যা কিনা পুরো স্বাস্থ্য খাতের কয়েক বছরের বাজেট। আর এর সাথে জড়িত বাকী গড ফাদারগন? তাদের সম্পদের পরিমান।

এদেশে দুর্নীতির মাপকাঠি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি। হনু মনু ক্যাডারের সদ্য ভূমিষ্ঠ তথা সদ্য জয়েন করা লেদা অফিসারটি যখন অফিস টাইমে সরকারি তেল ভরিয়া সরকারি গাড়ি করিয়া তার গর্ভবতী স্ত্রী কে সাথে লইয়া আসিয়া হাসপাতাল প্রধানের রুমে বসিয়া গাইনী প্রধান বহু বহু সিনিয়র অফিসার, ডাক্তার সাহেবা কে ডাকিয়া আনিয়া ভিআইপি চিকিৎসা সেবা লইয়া ফিরিয়া যান।

আর ঐ একই হাসপাতালে সরকারী নিয়মানুযায়ী ডিপার্টমেন্ট নির্ধারিত ভাগ অনুযায়ী সারারাত কর্তব্য পালন করে সকালে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে আবারো বিকেলে হাসপাতালে যাবার প্রস্তুতি নেয়।দুদক ঐ সময়ে হাসপাতালে গিয়ে ঐ ডাক্তার কে না পাইলে মিডিয়া সরব হইয়া ওঠে। সমাজে ছি ছি পরিয়া যায়।দুর্নীতি দুর্নীতি বলিয়া আওয়াজ ওঠে।

নীতিহীন এই দেশে দুদক অফিসারের ঢাকা চিটাগং কিংবা অষ্ট্রলিয়ার ফ্লাটের সংখ্যা, নিজ গ্রামে নিয়ম ভেঙে নিজের নামে রাস্তা, বাপের নামে স্কুল কোন কিছুতেই দেশের দুর্নীতি হয় না। দুর্নীতি হয় চব্বিশ ঘণ্টা চলমান হাসপাতালে তিন ভাগের এক ভাগ ডাক্তারের ডিউটি টাইম সকালে আট ঘন্টাতে সকল ডাক্তার উপস্থিত না থাকলে??

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত