২৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৩:৩৭ পিএম

সরকারী মেডিকেলে শতকরা ৭৭ ভাগ শিক্ষকের পদই শূন্য

সরকারী মেডিকেলে শতকরা ৭৭ ভাগ শিক্ষকের পদই শূন্য

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিক্ষক সঙ্কটে মেডিকেল কলেজের শিক্ষাদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির পরিকল্পনা। দেশের শতকরা ৭৭ ভাগ সরকারী মেডিক্যাল শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব মেডিক্যাল কলেজে ৫৫৮২ জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও আছেন মাত্র ১৩০৩ জন।

জানা যায়, ৩০ মেডিকেল কলেজে মৌলিক বিষয় পড়ানোর শিক্ষক নেই। এছাড়া সকল সরকারী মেডিকেল কলেজেই রয়েছে শিক্ষক সঙ্কট। নতুন কয়েকটি কলেজ স্থাপন হওয়ায় তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়ে গত বছরের শেষ দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমস্যার সুরাহা হয়নি।

তবে চলমান এ শিক্ষক নিয়ে সঙ্কটে পড়া মেডিকেল কলেজগুলো শনাক্ত করে শীঘ্রই তার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হবে। যাদের ডিও হয়ে গেছে তাদের প্রমোশন দেয়া হচ্ছে। প্রমোশন দিলে তারা শিক্ষক হতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে বিশেষ করে মৌলিক বিষয় এ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, ফরেনসিক মেডিসিন ও কমিউনিটি মেডিসিন বিষয়ে শিক্ষক সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক সঙ্কটের শীর্ষে রয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ। মাত্র ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন এ প্রতিষ্ঠানে। মেডিকেল কলেজটিতে ফার্মাকোলজি বিভাগে একজন শিক্ষকও নেই। এ্যানাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে রয়েছেন একজন করে সহকারী অধ্যাপক। ফিজিওলজি বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং দু’জন লেকচারার রয়েছেন। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে একজন করে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। এ ছাড়া ১৭ জন করে শিক্ষক রয়েছে সিরাজগঞ্জ ও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে। টাঙ্গাইল মেডিকেলে ১৮ জন, জামালপুরে ১৯ জন, কুষ্টিয়ায় ২০ জন এবং শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল, পাবনা মেডিকেল কলেজে ২১ জন করে শিক্ষক রয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজে ২৩ জন, রাঙ্গামাটি ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ২৫ জন করে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ২৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। কক্সবাজার ও যশোর মেডিকেল কলেজে ৩২ জন করে শিক্ষক রয়েছেন।

এসব মেডিকেল কলেজে অনেক বিভাগে অধ্যাপক নেই। খুলনা মেডিকেল ছয় ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬১। সেখানে ১৯টি বিষয়ে কোন অধ্যাপক নেই। নয়টি বিষয়ে মাত্র একজন করে শিক্ষক থাকলেও, চারটি বিষয়ে তাও নেই। ২৩ অধ্যাপক পদের বিপরীতে ৪ আর ৪৪ সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। পাবনা মেডিকেল কলেজে ফিজিওলজি, এ্যানাটমি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ চলছে মাত্র একজন প্রভাষক দিয়ে।

হাসপাতাল, রোগী ও পর্যাপ্ত মেডিকেল উপকরণ না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রাকটিক্যাল দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ে। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, আর শিক্ষকদের যোগ্যতা ভালভাবে মনিটরিং করা হয় না। একজন শিক্ষককে শিক্ষাদান ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হয়। অনেক সময় শিক্ষাদানের তুলনায় চিকিৎসাদানে বেশি সময় দিতে হয় শিক্ষকদের। নিম্নমানের কলেজ থেকে বের হয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের চিকিৎসকরা অনেক সময় জাতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল খান বলেন, বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা ত্রয়ী প্রশাসনে তখনও ছিল, এখনও আছে। ত্রয়ী প্রশাসন মানে, বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল) কোর্স কারিকুলাম করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষা নীতি ও বদলি করে থাকে এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরীক্ষা নিয়ে তারা সনদ প্রদান করে। ত্রয়ী প্রশাসন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দরকার ছিল।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি