ঢাকা      সোমবার ২২, জুলাই ২০১৯ - ৭, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


রোগের গল্প

বায়োপসি পরীক্ষা

বিসিএস পাস করে মেডিকেল অফিসার হিসাবে গ্রামের উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোস্টিং হয়েছে এক বছরও হয়নি। এরই মধ্যে ডা. বকুল এলাকায় ভালো ডাক্তার হিসাবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন। ছাত্র জীবনে লেখাপড়া ছাড়া অন্য লাইনে তেমন কিছু বুঝতেন না ডাক্তার সাহেব। একদিন এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধ রুগী এলো ডা. বকুলের চেম্বারে। রুগীর সমস্যা তেমন না। একটু বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য এবং গলার বাম পাশে কন্ঠ হাড়ের উপরের দিকে একটা ছোট টিউমার হয়েছে। দেখে ডাক্তার বকুল বললেন-

: এটা টিউমার হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে টিউমার হবার সম্ভাবনাই বেশী। 

: আপনি ডাক্তার মানুষ। আপনিও বলেন সম্ভাবনা আছে। তাইলে, সঠিক করে কে বলবেন?

: সব রোগই দেখে সঠিক ভাবে বলা যায় না। সঠিক করে বলার জন্য কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। আপনি আপাতত এফএনএসি নামক ছোট্ট একটা পরীক্ষা করে নিয়ে আসুন। আজকেই এক দুই ঘন্টার মধ্যেই রিপোর্ট পেয়ে যাবেন।

: ডাক্তার সাব, চিন্তায় ফেলে দিলেন। টাকা পয়সা কেমন লাগতে পারে পরীক্ষাটায়?

: না, তেমন না। এই, হাজার / পনের শ-র বেশী লাগার কথা না।

: এইটা কি রক্ত পরীক্ষা?

: না। প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার একটা অতি চিকন সুই দিয়ে এক ফোটা রস নিবেন এই টিউমার থেকে। কাঁচের স্লাইডে রসটা ছড়িয়ে দিয়ে রিএজেন্ট দিয়ে প্রসেস করে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখে লিখে দিবেন আপনার রোগটা কি।

: ব্যাথা পাওয়া যাবে না।

: না। একটা চিকন সুইয়ের জন্য কি আর ব্যাথা। সামান্য পিপড়ার কামুড়ের মতো লাগতে পারে।

: ডাক্তার সাব, ভয় করছে। কি ধরনের রোগ হতে পারে?

: অনেক কিছুই হবার সম্ভাবনা আছে। প্রথমে আমরা চিন্তা করব সাধারণ রোগ জীবানুর দ্বারা ইনফেকশন। খুব ভালো হবে। এন্টিবায়োটিক দিলেই ভালো হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশী কিছু চিন্তা করলে বলতে পারি টিউবারকুলোসিস বা টিবি। আমরা বলি টিউবারকুলার লিম্ফএডেনাইটিস। এটাও ভালো। ছয় থেকে নয় মাস ঔষধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। এখানে বেনাইন বা ভালো টিউমারও হতে পারে। তেমন ক্ষতি করে না এগুলি। কেটে ফেলে দিলেই হলো। খারাপ কিছু চিন্তা করলে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সারের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

: ক্যান্সার? ক্যান্সার হইলে তো বাচন নাই। ভয় ঢুকে গেলো মনে।

: ভয় পাবার কিছু নাই। সঠিক চিকিৎসা করলে আজকাল ক্যান্সারও ভালো হয়। তবে এখানে লিম্ফ নোডের নিজস্ব ক্যান্সার লিম্ফোমাও হতে পারে আবার অন্য জায়গার ক্যান্সার এসে বাসা বাধতেও পারে, যেটাকে বলি মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার। যেটাই হোক চিকিৎসা আছে। পরীক্ষাটা করে নিয়ে আসুন। বাকীটা পড়ে বলছি। 

: যে কোন জায়গা থেকে পরীক্ষা করালেই কি চলবে?

: না। যেখানে প্যাথলজিতে এম ডি বা এফ সি পি এস অথবা এম ফিল ডিগ্রীধারী বিশেষজ্ঞ আছেন সেখান থেকে করতে পারবেন। তবে সব প্যাথলজিস্ট সমান দক্ষ নন। কাজেই আমি যার নাম লিখে দিয়েছি তাকে দিয়ে করান। আমার জানামতে তিনি খুব ভালো ডায়াগনোসিস করেন।

ডিস্ট্রিক শহরে গিয়ে এফ এন এসি রিপোর্ট নিয়ে এলেন রুগী। রিপোর্ট দেখে ডা. বকুল বললেন:
: আপনার রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছে এই পরীক্ষাই যথেষ্ট না। রিপোর্টে লিখেছেন 'সাসপিসিয়াস ফর ম্যালিগন্যান্ট সেল' অর্থাৎ ক্যান্সার বলে সন্দেহ হচ্ছে।

: আবার সন্দেহ? তাইলে এতো ভালো ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করালাম!

: ভালো মন্দর কিছু নাই এখানে। সামান্য এক ফোটা নমুনা নিয়ে এই পরীক্ষাটা করা হয়। কোন কোন সময় এমন হয়। কনফার্ম হবার জন্য তখন বাইয়োপ্সি পরীক্ষা করাতে হয়।

: সেইটা আবার কিসের পরীক্ষা?

: এই পরীক্ষায় টিউমার থেকে কিছু অংশ অথবা সম্পুর্ন টিউমার কেটে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

: তয়, এই পরীক্ষাটা আগে করালেন না কেন?

: এটা ঝামেলাপূর্ণ পরীক্ষা। একজন সার্জন টিউমার কেটে সেম্পল নিবেন। তাতে বেশ টাকা ও সময় খরচ হবে। পরীক্ষা করাতেও তিন চার দিন লেগে যেতে পারে। কোন কোন রোগের ক্ষেত্রে কাটাছিড়া করাও ঠিক না।

যাহোক, বাইয়োপ্সি পরীক্ষা করানো হলো। রিপোর্ট এলো 'লিম্ফ নোডে মেটাস্ট্যাটিক এডেনোকার্সিনোমা '। ডা. বললেন: আপনার যে রোগটা হয়েছে সেটা একটা খারাপ রোগ। 

: ক্যান্সার হলো নাকি?

: ঘাবরায়েন না। আরো পরীক্ষা লাগবে। এটা অন্য কোথাও হয়েছে। এখানে এসে বাসা বেধেছে। আমি আমার স্যারের কাছে রেফার্ড করে দিচ্ছি। তিনি আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে আপনাকে চিকিৎসা করবেন।

এদিকে কিছুদিন পর সদ্য বিসিএস পাস করা এডমিন ক্যাডারের মিস জুঁই-এর সাথে ডা. বকুলের বিবাহের দিন ধার্য হলো। দুইজনই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান । অনেক পরিশ্রম করে বিসিএস পাস করেছেন। লেখাপড়া ছাড়া অন্য কিছুকে সবসময় ঝামেলার মনে করেছেন। বিয়ের অনুষ্ঠানটাও তাদের কাছে ঝামেলার মনে হচ্ছিল। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে বিয়ে অনুষ্ঠানের প্রত্যেকটি পর্ব ও আচারাদি তাদের কাছে বিরক্তিকর মনে হচ্ছিল। জুঁই বঁধু বেশে শশুর বাড়ী এলো। বাড়ীর ছোট বড় সবাই নতুন বউকে বরণ করতে বাহির বাড়ী এলো। শুধু বড় ঘরে রয়ে গেলেন জুঁইর শাশুড়ি। তিনি মেহমানদের জন্য নানা রকম খাবার রান্না করে ডিশ ভর্তি করে ছড়িয়ে রেখেছিলেন ঠান্ডা হবার জন্যে। সবাই বলাবলি করছিলেন "ছেলের মা কই? বউকে এসে বরণ করে নিয়ে যাবেন না?" শাশুড়ি শুনেও ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। বের হলেই মেঝেতে ঝিম মেড়ে বসে থাকা হলো বিড়ালটি সব খাবার নষ্ট করে ফেলবে। কি করা যায় ভাবছিলেন। 

এদিকে বাহিরে সবাই অপেক্ষা করছে শাশুড়ির জন্য। শাশুড়ির মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। তিনি ঝিম মেড়ে বসে থাকা বিড়ালটিকে একটি ধামা দিয়ে ঢেকে বন্দি করে ফেললেন। চলে গেলেন বঁধু বরণ করতে। শাশুড়ি প্রথা অনুযায়ী নানা রকম পর্ব শেষ করে বউকে ঘরে নিয়ে এলেন। বউ এইসব প্রথাগুলি দেখে আশ্চর্য হলেন, বিরক্ত হলেন এবং পুলকিতও হলেন। চিন্তা করলেন এইসব মজার মজার প্রথাগুলি কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন। শাশুড়ির সর্বশেষ কান্ডটি দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। শাশুড়ি ভেবেছিলেন অনেকক্ষণ হয় বিড়ালটিকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। মরেই গেছে কিনা! শাশুড়ি ধামাটি উঁচু করার সাথে সাথে বিড়াল লাফ দিয়ে চলে গেলো বাসরঘরের দিকে। বউ চিন্তা করলেন "এক দিন আমিও ছেলের মা হবো। আমার ছেলেও বিয়ে করবে। আমার ছেলেরও বউ আসবে। আমিও তাকে বরণ করে নিবো। আমার শাশুড়ি আমাকে বরণ করার জন্য একটি বিড়াল ছেড়েছেন। আমি আমার ছেলের বউকে বরণ করার জন্য তিনটি বিড়াল ছাড়বো।

এর পরের পর্ব হলো বাসর বা ফুলশয্যার ঘরে ঢোকা নিয়ে। সারাদিন পরিশ্রম করে ডা. বকুলের ছোট ভাই বোনেরা মিলে জুঁই -বকুল ও নানারকম ফুল দিয়ে বাসরঘর সাজিয়েছে সুন্দর করে। বাসর ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দিলো তারা। মান দিতে হবে। যাহোক, অনেক দর কষাকষি করে মান নিয়ে গেট ছেড়ে দিলো তারা। তখন গভীর রাত। বরকনে দুইজনই পেরেশান হয়ে পরেছেন। ফুলের পাপড়ি বিছানো বিছানায় গিয়ে বসলেন বউ। শেরোয়ানী - পাগড়ী পরা বর বসলেন পাশে পাতা চেয়ারে। বর টেবিলে রাখা মিষ্টি ও ফল থেকে দুই একটি নিয়ে মুখে দিয়ে চিবালেন। বধু চোখ তুলে তাকালেন বরের দিকে। দেখতে একদম মোগল সম্রাটের মতো লাগছিল বরকে। বরও বধুর দিকে তাকালেন। ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকলেন বধু। চোখ তার আনত হলো। পার্লার থেকে সেজে এসছিল বধু। অপরূপ সুন্দর লাগছিল বরের কাছে। এক সময় লক্ষ করলেন ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখলেও মুখের সৌন্দর্য ওড়না ভেদ করে চলে আসছে। কি তার সৌন্দর্যের আভা!

তালুকদার স্যারের ক্লাসে গল্প শুনেছি, হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (র:) এর বাবা একদিন নদীর পাড় দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন নদীর পানিতে একটা ফল ভেসে যাচ্ছে। তিনি ফলটি উঠিয়ে খেয়ে ফেললেন। এরপর চিন্তা করলেন "একি আমি করলাম! কার গাছের ফল খেলাম না বলে!" আশে পাশে খুঁজে কোন ফলের বাগান পেলেন না। ফল গাছের খুঁজে তিনি নদীর উজান দিকে যেতে লাগলেন। যেতে, যেতে, যেতে, অবশেষে তিনি সেই ফলের বাগান পেলেন। মালিককে খুঁজে বের করে বিস্তারিত বলে তাকে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও তাকে মাফ করে দিতে বলেন। বাগানমালিক শর্ত দিলেন তার একজন বোবা, অন্ধ ও বধির মেয়ে আছে, সেই মেয়েকে বিয়ে করলে তবেই তিনি মাফ করবেন। কিন্তু বাসরঘরে প্রবেশ করে দেখলেন তার উলটা। মেয়েটি ছিলেন মিষ্ট ভাষিণী, অপরূপ সুন্দরী এবং বধিরও নয়। সে অনেক কথা। এইগুলি নিয়ে চিন্তা করেই বর অনেক সময় কাটালেন। বরের মনে পড়লো তালুকদার স্যার ক্লাসে বলেছিলেন কোথাও কোন যায়গায় ক্যান্সার কোষ মেটাস্ট্যাসিস অবস্থায় পেলে অশস্যই কোন না কোন অংগে ক্যান্সার আছে বলে ধরে নিতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে ক্যান্সারের উৎপত্তিস্থল। যেমন বের করেছিলেন ফল গাছ জিলানী (র:)-এর পিতায়। 

নিজের বউয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হলো ওড়না ভেধ করে যখন রূপ বেরিয়ে আসছে অপরূপই হবে। একসময় তার ভ্রম ভাংলো। তিনি লক্ষ করলেন আসলে ওড়নাটাই অতি পাতলা। ক্লাসে পড়েছি ব্রিটিশ আমলে বাংলায় এক রকম পাতলা মসলিন কাপড় তৈরি হতো। একটি শাড়ী ভাজ করে একটি ম্যাচের খোলে ভরে নিয়ে যেতো ব্রিটিশ সাহেবরা। তাদের দেশে গিয়ে বউদের গিফট দিয়ে সার্প্রাইজ করতো। সেই মসলিন শাড়ী পরা বউ দেখে নতুন করে মুগ্ধ হতো। এবং তারা বউ নিয়ে বল ডাঞ্চ করতো। আশ্চর্য, এতো পাতলা ওড়না বানালো কিভাবে! তালুকদার স্যারের ক্লাসে শুনেছি পাতলা করে টিউমারের টিস্যু কেটে স্লাইড বানিয়ে বাইয়োপ্সি পরীক্ষা করা হয়। এক হাজার মাইক্রোমিটারে হয় এক মিলিমিটার। মাত্র তিন বা চার মাইক্রোমিটার পাতলা করে মাংশ কেটে হিস্টোপ্যাথলজি স্লাইড বানিয়ে মাইক্রোস্কোপে দেখা হয় হাফ কোষ পরিমান পাতলা টিস্যু । যে যন্ত্র দিয়ে এটা কাটা হয় সেই যন্ত্রের নাম মাইক্রোটোম। যেদিন মাইক্রোটোম ক্লাসে দেখানো হয় সেদিন আমি ক্লাসে ছিলাম না। হ্যায়, আমার মাইক্রোটোম মেশিনটা দেখা হয় নি আজো। অথচ আমি পাশ করে এসে পড়েছি গ্রামে। আমার আর মাইক্রোটোম দেখার সুযোগ নাই। কি দুর্ভাগ্য আমার! এমনি দুশ্চিন্তা করে বরের মন খারাপ হয়ে গেলো। এভাবে অনেকসময় কেটে গেলো। বউয়ের ঘুম পেলো। ধারনা ছিল বাসর রাতে প্রথম কথা বলবেন স্বামী। হিন্দি সিনেমায় দেখেছেন বর বধু আপনি করে কথা বলেন। বউ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথমত আপনি করেই বলবেন। 

বউ মুখ খুললেন- অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাবো।

: জি, অনেক রাত হয়েছে। দুশ্চিন্তায় আমার ঘুম আসছে না।

: কিশের দুশ্চিন্তা?

: না, মানে, সেটা আপনি বুঝবেন না।

: বুঝব না, মানে? এমন কি বিষয় আছে যে আমি বুঝব না?

: না, ইয়ে, মানে, এটা মেডিকেল কলেজের ব্যাপার।

: মেডিকেল কলেজের এমন কি ব্যাপার যে আমি বুঝব না?

: মানে, আমি যখন ফোর্থ ইয়ারে পড়তাম তখনকার কথা। আমি পড়ে বলবো।

: এখনই বলুন।

: না। আপনি বুঝবেন না।

: আমি বুঝব না। বুঝব না? এতই যদি অবুঝ হই তবে আমাকে বিয়ে করেছেন কেনো? এই জন্য ঝিম মেরে বসে আছেন, না?

: না, মানে, আম্মা আপনাকে খুব পছন্দ করে আমার বউ করে এনেছেন। আম্মা আমার সবসময় ভালো চান। নিশ্চয়ই আপনি অনেক ভালো।

: ভালোর দেখেন কি?

বলে ঝট করে দাঁড়িয়ে ফুল ঝুলানো রশিগুলি ছিড়ে ফাতা ফাতা করে মেঝেতে ছুড়ে মারলেন নতুন বউয়ে। বউয়ের চিৎকার চেঁচামেচি বাইরে থেকে শোনা যাবে মনে করে দরজা বন্ধ করে ঢাসা হাতে নিলেন। খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা হলো বিড়ালটি বের হবার জন্য দরজার কাছে এসে মিউ করে অনুমতি চাইলো। বরের মনে পড়লো প্রথম রাতেই বাসরঘরে বিড়াল মেরে বউকে ভয় দেখাতে হয়। মিউ বলার সাথে ঢাসা দিয়ে বিড়ালের মাথায় আঘাত করে বসলেন। কেও কেও করে বিড়াল খাটের নিচে গিয়ে চুপ হয়ে গেলো। মরে গেলো কিনা জানা নেই। দৃশ্য দেখে আসলেই বউ ভয় পেয়ে গেলেন। বিছানায় বাম কাতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। বরও বিড়ালের মতো আসতে করে বিছানায় ওঠে ডান কাতে শুয়ে ঘুমিয়ে পরলেন। সকাল হয়ে গেলো। বাচ্চাদের কোলাহলে বউয়ের ঘুম ভেংগে গেল। দেখলেন মেঝেতে ফুলের পাপড়িগুলি ম্লান হয়ে পড়ে আছে। পুবের টিনের বেড়ার ছিদ্র দিয়ে সুর্যের আলো প্রবেশ করে মেঝেতে ডিমের আকার ধারন করেছে। বাড়ীর পিছনের ঝোপে লটকন গাছে বসে একটি পাখী ডেকেই চলেছে "বউ কথা কও, বউ কথা কও।" ছোট চেংড়ারা ভেংচিয়ে বলছে "বউ কেইত্তা খাও, বউ কেইত্তা খাও।"

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে

হাসপাতালের সকলে মিলে সমাজকে অনেক কিছুই দিতে পারে। সাধারণত যে মানুষ যেভাবে…

ভুতের হাসপাতাল!

ভুতের হাসপাতাল!

হুট করেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেল। পড়ার টেবলে অন্যমনস্ক আমি যেই না সামনে…

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন সমীপে কিছু কথা

বেশ কিছুদিন ধরেই ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাসবাহী এডিস মশার প্রকোপ বেড়েছে। রাজধানীতে এর…

স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘হোয়াটস আপ ডক’ ৫০তম পর্বে

স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘হোয়াটস আপ ডক’ ৫০তম পর্বে

ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত’ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আমরা সবাই অবগত। কিন্তু যদি বলা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর