ঢাকা      শুক্রবার ২৬, এপ্রিল ২০১৯ - ১২, বৈশাখ, ১৪২৬ - হিজরী

চিকিৎসকদের নিয়োগগুলো প্রায়োরিটি পাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন বিগত সরকারের স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।  মেডিভয়েসের সাথে গত ১৪ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় খোলামেলা আলাপ করেন তিনি। আলোচনায় ওঠে এসেছে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের নেয়া নানা বিষয়।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুন ওবায়দুল্লাহ

মেডিভয়েস: গত ১৪ জানুয়ারি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন কোনো অসঙ্গতি পেয়েছেন কি-না?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সেবার মানটা ভালো হচ্ছে কিনা, সেবা কেমন হচ্ছে এসব বিষয় দেখার জন্যই  হাসপাতালগুলোতে পরিদর্শনে যাই।  হাসপাতালে স্বচ্ছতা আনার জন্য অটোমেশন আনা হয়েছে, মানে কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে।  ভর্তি ফি, টেস্ট ফি এগুলো এক জায়গায় জমা দেয়ার সুবিধা থাকলে বারবার জমা দেয়ার বিষয়টি আর থাকে না।

এছাড়াও রোগীর সব রেকর্ড থাকা। পরবর্তীতে সেবা নিতে আসলে তার পুরো তথ্য পাওয়া যাবে। এসব উন্নয়ন হয়েছে। নিটোর (পঙ্গু হাসপাতাল) ৫০০ বেড করা হয়েছে।  সেটা চালুর অপেক্ষায় আছে। এসব হাসপাতালকে আধুনিক করা হবে।

মেডিভয়েস: হাসপাতালের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতায় নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী:  যখন সিস্টেম ডেভেলপ করে,তখন মানুষের মধ্যে দায়বদ্ধতা আসে, মোটিভেটেড হয়, তারপর সুযোগ-সুবিধা বাড়ে। উদাহরণ স্বরূপ কিডনির ডায়ালাইসিস অনেক প্রয়োজন কিন্তু ব্যবস্থা নাই তখন, তো আর সেবা পাবে না।  রোগীরা তো কষ্ট করেন। আমরা সেবার ব্যবস্থা করছি। সাথে সাথে সেবার মানোন্নয়ন করতে হচ্ছে। বেডের অভাবে রোগীরা অনেক সময় ফ্লোরে শুয়ে থাকেন। আমার প্রত্যাশা হচ্ছে, কোনো রোগী ফ্লোরে পড়ে থাকবে না, বেডে থাকবে।

মেডিভয়েস: মন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সেবাখাতের মানোন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিবো।  কারণ মানোন্নয়ন করতে হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আর জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন করবো সুপারভিশনের মাধ্যমে। সত্যি কথা বলতে কী, সুপারভিশন সিস্টেমটা ভালো অবস্থায় নেই। এটাকে জোরদার করতে হবে। একটা সেল তৈরি করতে হবে। যার মাধ্যমে প্রতিদিন হাসপাতালে মনিটরিং করা হবে। এর মাধ্যমে ডাক্তার উপস্থিতি ভালো থাকবে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি আছে কি না জানা যাবে।

আমরা যদি জানতে পারি কোন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে, তাহলে সেভাবে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো। এছাড়া মনিটরিং জোরদার করা গেলে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ভালো থাকবে। মনিটরিং জোর দিবো সেবার মান উন্নয়নে।  এছাড়া যেসব চলমান কাজ আছে সেগুলোকে সমাপ্ত করা। যেমন বার্ন ইউনিট, নিটোর এক্সটেনশন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উর্ধ্বমূখী ভবনসহ বেশকিছু হাসপাতালের চলমান কাজ সমাপ্ত করার ওপর জোর দিব।

এসব কাজ দ্রুত শেষ করে চালু করা ও  ডাক্তারদের নিয়োগগুলো শেষ করার বিষয়ে প্রায়োরিটি দিবো।  

এদিকে ডাক্তারদের স্বল্পতা রয়েছে, মাত্র ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরো কিছু চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। এসব বিষয় আমার অগ্রাধিকার পাবে।

এছাড়া সেবা সপ্তাহ করার বিষয়ে আমার আগ্রহ আছে। এটা কখনই করা হয়নি। আগে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করতে পারিনি। এ ধরণের কাজগুলোকে আমি গুরুত্ব দিব।  এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনাদের সমর্থন চাচ্ছি।

মেডিভয়েস: নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাসের বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: এগুলো তো কেবল চালু করা হলো, মাত্র প্রথম ব্যাচ। তারপর এগুলো আস্তে আস্তে ক্যাম্পাসের বিষয়ে চিন্তা করা হবে। জমিজমার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। আস্তে আস্তে হবে। কেবল তো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলো। এখন তো কেবল ছোট পরিসর বা জেলা হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হলো।

মেডিভয়েস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: আপনাকেও ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ


































জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর