২০ জানুয়ারী, ২০১৯ ০১:২১ পিএম

সংরক্ষিত আসনে এমপি হচ্ছেন দুই চিকিৎসক!

সংরক্ষিত আসনে এমপি হচ্ছেন দুই চিকিৎসক!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে হিসেবে দুই নারী চিকিৎসকের এমপি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আলোচিত ওই চিকিৎসকরা হলেন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলিম চৌধুরী মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকেও রয়েছেন আলোচিত ওই দুই নারী চিকিৎসক। 

এক নজরে ডা. রোকেয়া সুলতানা

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাহতাবউদ্দিনের সন্তান ডা. রোকেয়া সুলতানা রংপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী। ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস পাস করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। 

অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে অবসরে যান তিনি। বর্তমানে তিনি স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিএমএর (রংপুর বিভাগ) সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোষাধ্যক্ষ পদে আছেন। তার স্বামী প্রফেসর আবদুল হামিদ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক।

প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে থাকার কারণ হিসেবে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময় প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি তৎপর ছিলেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একজন নিবেদিত চিকিৎসক কর্মী ও নেতা হিসেবে গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম করেছেন অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত  ডা. রোকেয়া সুলতানা।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। একাদশ জাতীয় সংসদে প্রাপ্ত ২৫৭ আসনের বিপরীতে একক দল হিসেবে ৪৩টি আসনে মনোনয়ন দিতে পারবে আওয়ামী লীগ।

এক নজরে ডা. নুজহাত চৌধুরী

একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার মা শিক্ষাবিদ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। ডা. নুজহাত চৌধুরীর স্বামী লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. মামুন আল মাহতাব একজন। 

১৯৬৯ সালের ২৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন নুজহাত। তিনি বেড়ে ওঠেছেন ঢাকায়। রাজধানীর উদয়ন স্কুল থেকে এসএসসি ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন।

পরবর্তীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস (অপথালমোলজি) করেছেন। এছাড়াও রেটিনার ওপর ভারতের এলভিপিএল থেকে ফেলোশিপ করেছেন এ নারী চিকিৎসক।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । প্রায় নয় বছর কাজ করেছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে। এরপর সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগে। এখানে পাঁচ বছর ধরে কাজ করছেন।

ডা. নুজহাত চৌধুরী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ অপথালমোলজি সোসাইটির বিনোদন সম্পাদক এবং একাডেমি অব অপথালমোলজির কোষাধ্যক্ষ। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইংরেজি ও বাংলায় নিয়মিত কলাম লিখেন। একজন ভালো বক্তা ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। টেলিভিশনেও চিকিৎসা বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও রাজনীতি বিষয়ক টকশোতে নিয়মিত অংশ নেন।

এবারের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন ডা. নুজহাত চৌধুরী।

তার লেখা ‘এ লড়াই অনিবার্য ছিল’ মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি অনবদ্য বই।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত