ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

বেসরকারি খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষ মেডিকেল কলেজ

ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো হলো অনেক প্রতিযোগীর জন্য সীমিত সংখ্যক আসন। এই নির্মম বাস্তবতায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকেই বঞ্চিত হতে হয় সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে। সে সময় যাদের যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তাদের চোখ পড়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে। উচ্চ শিক্ষাব্যয়ের কারণে এই ক্ষেত্রটিতে বিশাল একটি অংশকেই প্রথমে ঝরে যেতে হয়। যদিও বর্তমানে মেধাবী শিক্ষাকোটায় কিছু শিক্ষার্থী বেসরকারী খাতেও বিনাখরচে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। অনেক ব্যয়ের পরেও কিছু দুশ্চিন্তা থেকেই যায়। একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার জন্য যে উপকরণ ও শিক্ষার পরিবেশ প্রয়োজন, সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো তা সরবরাহ করতে পারছে কিনা এটিও একটি প্রশ্ন। এক্ষেত্রে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের মান অক্ষুণœ রেখে যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর। এর মধ্যে ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ অন্যতম।

আমৃত্যু যেই মহান মানুষটি ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন, ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন, সেই আন্দোলনের পুরোধা জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীমের হাত ধরে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। পরবর্তীতে এই ডায়াবেটিক সমিতিরই একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ।   বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ একটি সুপরিচিত নাম। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের এনেক্স ভবনে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম। যদিও ভবিষ্যতে তাদের পরিকল্পনা সেগুনবাগিচার ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেন অধ্যাপক ডাঃ কে এইচ ফরিদউদ্দিন। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডাঃ জালালুদ্দিন আশরাফুল হক। 

হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে রয়েছেন ৯১ জন শিক্ষক ও  ৫৫০ জন শিক্ষার্থী। আধুনিক পরিবেশ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও তথ্য-প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ক্লাসরুম, লাইব্রেরী, মিউজিয়াম প্রভৃতি এই ক্যাম্পাসকে পরিণত করেছে শিক্ষার জন্য এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রে।

মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরীতে রয়েছে চার সহস্রাধিক পাঠ্যবই ও প্রায় শতাধিক জার্নাল। রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। পঞ্চম তলায় রয়েছে ক্যান্টিন। 

প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এই ক্যাম্পাসে প্রায়ই আয়োজিত হয় নানান সহশিক্ষা কার্যক্রম। যোগ্যতা উন্নয়নে রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব, ফুটবল টিম, মেডিসিন ক্লাব ও ফটোগ্রাফি ক্লাব। এছাড়া প্রতিবছরই বিভিন্ন দিবস উদযাপন, নবীন বরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফলে আনন্দময় পরিবেশেই শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের সুযোগ পায়।

এতসব কর্মকান্ডের মাঝে পেশাগত পরীক্ষার ফলাফলের সাফল্য সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নেয় ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

রোগীরাই হচ্ছে হাসপাতালের প্রাণ। চিকিৎসকদের ‘চিকিৎসক’ হয়ে ওঠার সোপান। এদিক থেকেও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের রয়েছে দারুণ সমৃদ্ধ অবস্থান। হাসপাতালে রয়েছে মোট ৬৬৫টি বিছানা। এর মধ্যে ১০০টি বিছানায় বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবার পথে এগিয়ে চলেছে ইব্রাহীম মেডিকেল কলেজ।
 

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ২, বর্ষ ১, এপ্রিল ২০১৪ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর