ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. নুসরাত জাহান

অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট (অবস-গাইনি),

ইম্পেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম।


জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা হবার কারন সমুহ কি হতে পারে। যদিও শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট কারন খুঁজে পাওয়া যায় না্। তবে কিছু বিষয় যা গর্ভস্থ বাচ্চার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে জন্মগত ত্রুটির কারন হতে পারে, তা আলোচনা করা হল।

মেডিসিন/ঔষধঃ অনেক গর্ভবতী মায়েরা আছেন যারা  এসময়ে যেকোনো ঔষধ খেতেই ভয় পান। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা মেনে সঠিক ঔষধ খেতে কোন সমস্যা নেই,কারন বেশিরভাগ ঔষধই নিরাপদ। বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর ঔষধ গুলো pregnancy category C/D হয়ে থাকে। আবার ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে কোন সময়ে ঔষধ খাওয়া হচ্ছে তার উপর।

সাধারণত গর্ভস্থ প্রথম তিন মাসে ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি থাকে, তাই এই সময়ে কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া ঠিক না। উল্লেখ্য, ভিটামিন ঔষধ গ্রহনেও সতর্ক থাকতে হবে। যেমন, Ratinoic acid/VitaminA ভ্রুণের ক্ষতিসাধন করে, আবার কিছু ভিটামিনের(যেমন ফলিক এসিড) অভাবে ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ইনফেকশন বা জীবাণু সংক্রমণঃ প্রেগনেন্সিতে জীবানুর সংক্রমণ Birth defect  এর একটি বড় কারন। বিভিন্ন ক্ষতিকর জীবাণু গুলো হচ্ছে- Measels, Rubella, Toxoplasmosis, Cytomegalovirus, Zika virus ইত্যাদি।এইসব জীবাণুর আক্রমণে গর্ভস্থ বাচ্চার বিভিন্ন অংগ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসহ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হতে থাকে। ঔষধের মত এই জীবাণুর ক্ষতিও নির্ভর করে এটি কখন প্রেগন্যান্ট মাকে সংক্রমিত করেছে তার উপর।

টক্সিক/বিষাক্ত পদার্থঃ পরিবেশ দূষণকারী এবং পানিবাহিত বিভিন্ন টক্সিক পদার্থ গর্ভস্থ বাচ্চার আ্যবনরমালিটি ছাড়াও আরো অনেক গর্ভকালীন জটিলতা করে থাকে। এই টক্সিন পদার্থ গুলোর মধ্যে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইড,  নাইট্রেট, নাইট্রাইট, লেড, ফ্লোরাইড ইত্যাদি।

ধুমপান/আ্যলকোহোলঃ প্রেগনেন্সিতে ধুমপান/আ্যলকোহোলের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক। উন্নত দেশে কনসিভের আগেই এই অভ্যাস রোধে অনেক ধরনের প্রোগ্রাম এবং কাউন্সিলিং সেন্টার রয়েছে। প্রসঙ্গত, যেসব বাবা ধুমপানে অভ্যস্ত তাদের সন্তানদের জন্মগত ত্রুটি এবং কিছু চাইল্ডহুড ক্যান্সার(লিউকেমিয়া, ব্রেইন টিউমার) হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারন হচ্ছে ধুমপানের কারনে তাদের DNA mutations হয়,যা অনাগত সন্তানদের মধ্যে ট্রান্সমিশন হয়।
 
জেনেটিক এবং ক্রোমোজোমঃ জেনেটিক এবং ক্রোমোজোমাল ফ্যাক্টর বাচ্চার স্বাভাবিক গঠনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। এই আ্যাবনরমালিটি গুলো বাবা- মা থেকে ভ্রুণে ট্রান্সমিট হয়, আবার অনেক সময় ভ্রুণেও নতুন করে তৈরি হতে পারে। এছাড়াও বাবা /মায়ের অধিক বয়সে সন্তান গ্রহন, রেডিয়েশনের কারনেও ভ্রুণের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে।

জন্মগত ত্রুটি রোধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে-

১. বাবা- মায়ের কোন জেনেটিক সমস্যা থাকলে কনসিভের আগেই পরামর্শ গ্রহন ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. চিকিৎসকের পরামর্শ মত নিয়মিত ফলিক এসিড খেতে হবে।

৩. পরামর্শপত্র ছাড়া ঔষধ গ্রহণে বিরত থাকা।

৪. পরিবেশ দূষণ রোধ করা।

৫. ইনফেকশন প্রতিরোধক টিকা(Rubella vaxin) নেয়া।

৬. নিকট আত্বীয়-স্বজনের মধ্যে বিয়ে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা।

৭. মায়ের বয়স ৩৫ এর বেশি হলে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

৮. রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে  কনসিভের আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

কেরামত মোল্লা সারারাত সোজা হয়ে বসে কাটিয়ে দেন। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ, ঘুমাতে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস