১৬ জানুয়ারী, ২০১৯ ১০:৫৭ এএম

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের রুমগুলোর নানা অব্যবস্থাপনার ছবি নিয়মিত আসে সামাজিক গণমাধ্যমে। হরেক রকমের সমস্যা জর্জরিত নানা সেন্টার। রোগীর স্বজনদের অত্যাচারের সাথে এধরনের জিনিষ মেনে নেওয়াটাই কষ্টকর।

কি এর প্রতিকার? আসলেই কি নেই?

উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে কেন এরূপ হয়রানি?

দু’বছরের গ্রামে থাকার বাধ্যবাধকতায় আমি তিনটি উপজেলায় কাজ করেছি। প্রথম পদায়ন লোহাগড়া, চট্টগ্রাম। ডাক্তারদের আবাসস্থল পরিপাটি, কিছুটা অভাব ছিল তবে তা মেনে নেওয়ার মত। দুইতলা সেই আবাসস্থলের দ্বিতীয় তলায় থাকতেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, তাই সেই আবস্থল টি ছিল বসবাসের যোগ্য।

তৃতীয় কর্মস্থল ছিল হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। এক কথায় অসাধারন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার দুইজনই ছিলেন প্রচণ্ড রকম আন্তরিক। সরকারী যেসব জিনিসের অপ্রাপ্যতা ছিল তা উনারা নানা উপায়ে মেনেজ করে ফেলতেন। আজও  তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাই সেই দিনগুলির জন্য।

দ্বিতীয়টি কেন বাদ দিয়ে গেলাম? কারন আবাসিক কর্মকর্তা যিনি ছিলেন তিনি না থাকার মত।ফুটবল মাঠে কিছু সুযোগসন্ধানী খেলোয়াড় থাকে যারা সুযোগ পেলে কাজে লাগায় নয়ত অলস থাকে পুরোটা সময়, তিনিও তেমন ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন আরও ভয়াবহ,কোনও দায়িত্ব নিবেন না তিনি। এমনও ঘটনা আছে, সাংবাদিক এসে তার সাথে কথা বলতে চাইলে উনি ডাক্তারদের উপস্থিতির খাতা ধরিয়ে অনুযোগ করতেন। থাকার যে ব্যবস্থা ছিল তাতে নিয়মিত সাপ ব্যাঙ যাতায়াত করতো তাও দ্বিতীয় তলায়, নিচ তলা বহু আগে পরিত্যক্ত।সব চিকিৎসক মিলে একটি কোয়াটার সামগ্রিক ভাবে ব্যবহার করতে চাইলে তিনি সেটাতেও ঘোর আপত্তি জানিয়েছিলেন কারন তিনি উপজেলা পরিষদ কে কোনও চিঠি দিতে পারবেন না। তাই নাম প্রকাশ করলাম না সে স্থানের সাথে সেই কর্তা ব্যক্তিদের।

গতবছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভিজিটে গিয়েছিলাম কুমারখালি কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া থেকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গা রাস্তায় মাজা ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থা কিন্তু গিয়ে অবাক হলাম। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজে থাকেন সেখানে। উপজেলা পরিষদের সাথে ভালো সম্পর্কের হেতু হাসপাতালের ব্যাপক উন্নতি করেছেন। রোগীরা দুস্থ হলে সমাজ সেবা থেকে ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়, সেটা মেরপেনাম হলেও। ডাক্তারদের প্রতিটি রুম সুসজ্জিত। পরবর্তী আরেকটি হাসপাতালে গিয়ে দেখি খুবই খারাপ অবস্থা, স্বাস্থ্য খাতের নানা ইনডিকেটর নিয়ে তাদের প্রশ্ন করলে একটাই উত্তর, বরাদ্ধ নাই তাই পারছেন না। রুমের পর্দা টাও ধোয়া হয়না মনে হয় বছর খানেক ধরে।

কর্ম পরিবেশ কিন্তু আমরা চেষ্টা করলেই সুন্দর রাখতে পারি। শুধু দরকার নিয়ত। অনেক কিছু সরকার দিতে পারছেনা এবং হয়ত পারবেনা কিন্তু সমাধান কি আমরা বের করতে পারিনা? অনেকেই তো সেইসব সমাধান করে আমাদের কে উদাহরণ দেখিয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা পারলে আমরা সবাই পারবোনা কেন?

দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত