ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস 

৪ ফেব্রুয়ারি- বিশ্ব ক্যান্সার দিবস 

বিশ্বজুড়ে এক নীরব ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার। ক্যান্সার নিয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, গবেষণা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও পৃথিবীর সিংহভাগ অঞ্চলে এই ‘ক্যান্সার’ শব্দটি একটি ভয়াবহ ‘স্টিগমা’ রূপে বিদ্যমান। তাই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে বিরাজমান ধারণা পরিবর্তন করে ক্যান্সারের একটি যথার্থ ‘ইমেজ’ তৈরি করা জরুরি। আর এ ভ্রান্ত ধারণা দূর করে এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির একটি অভাবনীয় সুযোগ হলো ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস’, যা প্রতিবছর ৪ ফেব্র“য়ারি পালিত হয়ে আসছে। 
ক্যান্সার গবেষণা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও আক্রান্তদের জীবনের মানোন্নয়নের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বিষয়ক ১০টি আর্টিকেল সমৃদ্ধ একটি চার্টার প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে, যা ‘প্যারিস চার্টার’ নামে পরিচিত। ২০০০ সালের ৪ ফেব্র“য়ারি ফ্রান্সের এলিজি প্রাসাদে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক কোইচিরো মাৎসুরা ও তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক যুগ্মভাবে চার্টারটিতে সাক্ষর করেন। ২০০৬ সালে ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (UICC) ওয়াশিংটনের একটি মিটিংয়ে উক্ত চার্টারটি গ্রহণ করে। উক্ত চার্টারের Article-X  অংশে প্রতিবছর ৪ ফেব্র“য়ারিকে ‘ক্যান্সার দিবস’ হিসেবে পালন করার বিষয়টি উল্লিখিত ছিল। 
জাতিসংঘের বিশ্ব ক্যান্সার ডিক্লারেশন ও বিশ্বস্বাস্থ্য
১ম পৃষ্ঠার পর সংস্থার অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত এ্যাকশন প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে UICC ২০১৩ সালে কেপটাউনে নতুন একটি কর্মসূচি ঘোষণা করে, যাতে ৭টি টার্গেট অন্তর্ভুক্ত ছিল। তন্মধ্যে ৫ম টার্গেটটি ছিল Debunk the Myths (ভ্রান্ত ধারণার অপসারণ) যা Target 5 বলে পরিচিত। 
এ বছর ৪ ফেরুয়ারি মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সী I UICC কর্তৃক পালিত বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল Target 5 এই Target 5 বা Debunk the Myths এ চারটি ভ্রান্ত ধারণা ও তা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ চারটি ভ্রান্ত ধারণা হলোঃ
১. ক্যান্সার নিয়ে আলোচনার কোন প্রয়োজন নেই।
২. ক্যান্সার এর কোন উপসর্গ নেই।
৩. ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
৪. ক্যান্সার চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই।
জেনেভাতে IARC (আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সী) এর একটি রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১২ সালে ৪.২ মিলিয়ন ক্যান্সার আক্রান্তদের মৃত্যু ঘটেছে। বিগত চার বছরে ক্যান্সার আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েছে ১১ শতাংশ। বিশ্ব ক্যান্সার রিপোর্টে আরো দেখা যায়, অনুন্নত বিশ্বে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্যান্সার জনিত মৃত্যুহার ৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এর একটি বড় অংশ সংঘটিত হবে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (HPV) জন্য। 
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৪ ফেব্র“য়ারি ক্যান্সারকে ইউরোপ মহাদেশে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করে। বিগত ৭ বছরের ধারাবাহিকতায় ঊট এবারো ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে ক্যান্সার গবেষণার লক্ষ্যে।  
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষ্যে কানাডার টরন্টোতে ‘অন্টারিও ক্যান্সার গবেষনা ইনস্টিটিউট’, ব্রাজিলের সাওপাওলোতে INCa, ফ্রান্সের প্যারিসে ফ্রেঞ্চ জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, সৌদি আরবের শেখ মোহাম্মদ হুসেন আল আমোদী সেন্টার, চায়নার তিয়েনঝিনে চাইনিজ এন্টি-ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া ক্যান্সার কাউন্সিল জনসচেতনতামূলক ক্যম্পেইন আয়োজন করে।  
Together it’s Possible-  এ প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে ৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট, ইউনাইটেড হাসপাতাল, ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার হাসপাতাল সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানান কর্মসূচি পালন করে। এক্ষেত্রেওDebunk the Myths  ছিল আলোচনার শীর্ষে। 
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বর্তমানে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১২ লক্ষ। প্রতি বছর কমপক্ষে ২ লক্ষ রোগীর মৃত্যু হয়, আক্রান্ত হয় নতুন ৩ লক্ষ মানুষ। এদেশে পুরুষের ক্ষেত্রে ফুসফুস, মূত্রনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সার বেশি হয়, আর নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। WHO এর হিসাবানুসারে মোট জনসংখ্যার দিক থেকে এদেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পন্ন ১৫০টি সেন্টার থাকা দরকার। অথচ সেখানে রয়েছে মাত্র ১৮টি।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষ্যে ৪ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৩টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (WBB) ট্রাস্ট এর উদ্যোগে ‘ক্যান্সার সম্পর্কে আপনি কি জানেন?’ বিষয়ক লিফলেট ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। 
রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হয়েছে। চট্টগ্রামে এ উপলক্ষ্যে ৮ ফেব্র“য়ারি Volunteer for Bangladesh চট্টগ্রাম শাখা জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। খুলনায় ৪ ফেব্র“য়ারি দুপুরে নগরীর আজমখান কমার্স কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ক্যান্সারের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয় এবং উক্ত ক্যাম্পাসকে ধূমপান মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, কুমিল্লা শাখা সকাল ৯টায় কুমিল্লার টাউন হল প্রাঙ্গনে ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক প্রচারণা শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে। সিলেট সরকারি তিব্বিয়া কলেজে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ ডাঃ মাশুকুর রহমান। 
ফেব্র“য়ারি মাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য দিবসের মধ্যে ছিল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সচেতনতা দিবস (২ ফেব্র“য়ারি), যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা দিবস (১২ ফেব্র“য়রি), আন্তর্জাতিক শিশু ক্যান্সার দিবস (১৫ ফেব্র“য়ারি)। মার্চ মাসে থাকছে সেল্ফ ইন্্জুরি সচেতনতা দিবস (১ মার্চ), বিশ্ব কিডনী দিবস (১৪ মার্চ), বিশ্ব ডাউন সিন্ড্রোম দিবস (২১ মার্চ) ও বিশ্ব যক্ষèা দিবস (২৪ মার্চ)।
লিখেছেন  ঃ জিতু      (ডি.এম.সি)

(দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত)
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


রিভিউ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশ হলো ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদারের ‘স্মৃতির পাতা থেকে’

প্রকাশ হলো ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদারের ‘স্মৃতির পাতা থেকে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা.…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস