ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


১৫ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৯:৫৩ এএম

হার্টের ভালভ

হার্টের ভালভ

"কপাটের পর কপাট খুলিয়া ছুটিয়া চলেছে লহু, শ্বাসে প্রশ্বাসে জীবন ছুটিছে দিন গুজরায়েছে বহু।"

কিশোর রফিকুলের আতংকভরা কন্ঠ, স্যার আমার মার কি সবগুলো ভালভ ফিউস হয়ে গেছে? আমার মা কি আর বাঁচবে না? কয়টা ভালভ থাকে মানুষের? 

তার এলোমেলো প্রশ্ন থামার অপেক্ষায় থাকি। আস্তে করে বলি সুস্থির হও। ভালভ মানে লাইট না দরজা। একমুখী দরজা। শুধু একদিকে খুলতে পারে। এরকম চারটি প্রধান দরজা আছে। যেমন: 

১. একটি ট্রাইকাসপিড বা তিন পাল্লা বিশিষ্ট। 

২.একটি বাই কাসপিড বা দুই পাল্লা বিশিষ্ট। 

৩. দুইটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির বা সেমিলুনার ভালভ।

দরজা তো আর ফিউজ হতে পারেনা, সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে লিকেজ থাকতে পারে, রক্তের ধাক্কায় পাল্লা উল্টাদিকে খুলে যেতে পারে।

মানুষের হার্ট চার প্রকোষ্ট বিশিষ্ট একটি পাম্প মেশিন। এই মেশিনের প্রথম প্রকোষ্ট ডান অলিন্দ প্রথমে সারা শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত দূষিত রক্ত সংগ্রহ করে।  সেখান থেকে রক্ত ট্রাই কাসপিড ভালভ দিয়ে ডান নিলয়ে যায়। নিলয় দুটি যখন সংকোচিত হয় তখন ডান নিলয় থেকে রক্ত ফুসফুসীয় মহাধমণী দিয়ে দুই ফুসফুসে যায়। 

নিলয় সংকোচিত হওয়ার সাথে সাথে ট্রাইকাসপিড ভালভ বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুসফুসীয় মহাধমণীর গোড়ায় থাকা সেমিলুনার ভালভ খুলে যায়। চাঁপ খেয়ে রক্ত একমুখী চলাচল করে দুই ফুসফুসে যায়। সেখানে দুষিত কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয় যা প্রশ্বাসের সাথে বের হয়ে যায় এবং শ্বাসের সাথে নেয়া অক্সিজেন রক্তের সাথে মিশে রক্ত বিশুদ্ধ হয়।

এই বিশুদ্ধ রক্ত বাম অলিন্দে যায়। বাম অলিন্দ থেকে বাই কাসপিড বা দুই পাল্লা বিশিষ্ট মাইট্রাল ভালভ দিয়ে বাম নিলয়ে যায়।  বাম নিলয়ের সংকোচনে রক্ত এওর্টার গোড়ায় থাকা সেমিলুনার ভালভ দিয়ে ঢুকে সারা শরীরের প্রতিটি কোষে ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারনত বাতজ্বর হলে ভালভ নষ্ট হয়। তাছাড়া জন্মগত ভাবেও ভালভ নষ্ট থাকতে পারে।

উপসর্গঃ

১. বুক ধরফর করতে পারে।

২. শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে।

৩. শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। 

৪ .মাথা চক্কর দিতে পারে।

৫. ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে।

ভালভ এর অবস্থা নির্নয়ের জন্য কষ্টবিহীন পরীক্ষা ইকোকার্ডিওগ্রাফীই যথেষ্ট।

চিকিৎসাঃ

১. বাত জ্বরের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। বাতজ্বরে ভালভ নষ্ট হলে সারাজীবন পেনিসিলিন সেবন করতে হবে।

২. ভালভ সরু হয়ে গেলে একটা পর্যায় পর্যন্ত বুক না কেটে

৩. বেলুন দিয়ে ভালভ ফুলানো যায়।

৪. অপারেশন করে ভালভ মেরামত করা যায়।

৫. ভালভ পাল্টিয়ে ধাতব বা টিস্যু ভালভ লাগানো যায়।

সুতরাং আতংক নয় সতর্কতা প্রয়োজন। অবহেলা নয় সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা উপহার দিতে পারে সুন্দর স্বাভাবিক জীবন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত