ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২২ মিনিট আগে
ডা. শামীম আফজাল

ডা. শামীম আফজাল

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ


১৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ১০:৩৬

ডা. মনছুর খলীল স্যারের কথা মনে আছে?

ডা. মনছুর খলীল স্যারের কথা মনে আছে?

আপনিও ভুলে গেলেন আমিও..। ভয়ংকর এক বাস্তব সত্য মেনে নিয়ে দিনের পর দিন কেটে কেটে কয়েক বছর গড়িয়ে গেলো। ডা. মনছুর খলীল স্যারের কথা মনে আছে?

স্যার মরে যাওয়ার খবর শুনে আঁতকে উঠলাম, ফার্মাকোলজি বই বন্ধ করে দৌড়াদৌড়ি করলাম। উপর থেকে একটা জুনিয়র নামতে নামতে বললো ভাই এইডা কি শুনলাম?  খবর কি সত্য? আমাদের সব কনফিউশান দূর করে খবর এলো স্যার সত্যিই মারা গেলো, সবাই হুহু করে কান্না শুরু করলাম, দল বেঁধে ময়মনসিংহ চলে গেলাম, জীবনে প্রথমবার ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম তাও স্যার কে মাটি দিতে।

রাতের ওয়ার্ড, খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো, স্যারকে ফোন দেওয়া হলো স্যার বৃষ্টি হচ্ছে। তখনও হোস্টেল থেকে মেইন রাস্তা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য চলার রাস্তাটা ঠিকমত হয়নি, বৃষ্টির পানিতে কাদা মাখামাখি, ক্ষেতের আইল ধরে যেতে হতো, স্যার ছুটি দিলেন না, ঝড় বৃষ্টি সব সময় থাকবে তাই বলে ওয়ার্ড মিস করা যাবে না, ওয়ার্ডে গিয়ে বেকায়দায় পড়লাম, হসপিটালে কারেন্ট চলে গেলো, ঝুম বৃষ্টি। এই আধুনিক কারেন্টের যুগেও মোমবাতি জ্বালিয়ে ক্লাস হলো, তারপর দিন একজন কে ফোন দিয়ে বললো, তোমরা সবাই বুট জুতা কিনে নিবে, তাহলে আর কাদা লাগবে না পায়ে…।

যার হাত ধরে এই মেডিকেলের প্রতিটা বিন্দু কনা গড়ে উঠেছে সেই মানুষটা হারিয়ে গিয়ে সব কিছু থমকে দিয়েছে।

প্রথম দিন, যেদিন ছেলেদের হোস্টেলের ছাদ ঢালাই এর কাজ হবে, আমাদের ব্যাচের ছেলেদের কে যশোদল ঢেকে আনা হয়েছিলো, ইন্জিনিয়ার স্যারকে বললো..। আসেন স্যার প্রথম টা আপনি শুরু করেন। স্যার আসলো না, স্যার আমাদেরকে ধমক দিলেন..। তোমরা দাঁড়িয়ে আছো কেন? এটা তোমাদের মেডিকেল তোমরা শুরু করো। 

ভালো কাজের জন্য উৎসাহ আর খারাপ কাজের জন্য কেউ এখন আর মার খায় না, সব কিছু সমান তালে চলে।

একটা ফোন কলে এখন আর সব কিছু ঠিক হয়ে যায় না, এই বর্ষা কালে যখন রাস্তার কাজ হচ্ছিলো না, হাটার খুব অসুবিধা হচ্ছিলো। বলা হলো রাস্তাটা মেরামত করার জন্য ইন্জিনিয়ার রাস্তার কাজ করলো না, কেউ যখন কোন কথা কানে নিচ্ছিলো না, তখন কতগুলো ছেলে নিজের কাঁধে বস্তা নিয়ে চলার জন্য রাস্তার কাজ করলো, সব কিছু এখন লং টাইম প্রসেসে চলে।

একটা মানুষ কখনো আরেকটা মানুষের মত হয়না, সবার নিজস্ব চিন্তাধারা থাকে, কেউ নিঃস্বার্থ ভাবে করে, কেউ গা বাঁচিয়ে করে।

অধ্যাপক ডা. মনছুর খলীল ছাত্রাবাস, মনছুর খলীল লাইব্রেরী নামকরণ করা হয়েছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অনেক কিছুই বদলেছে। সবার আগে বদলেছে আমাদের মন, প্রতিদিন নিয়ম করে মনে পড়ে না, বছরের ১ দিন আসলে মনে পড়ে। স্যার কত ভালো মানুষ ছিলেন, তারপর আমরা ভুলে যাই, ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ব্যস্ততা আমাদের ভুলিয়ে দেয়, যখনই কলেজের কোন সমস্যায় পড়ি তখনই স্যারকে মনে পড়ে। ইসসসসস আজকে মনছুর স্যার থাকলে এমন হতো না, এটা হলো আফসোস, এই আফসোস কখনো যাবে না। তারপরও চাই স্যার ভালো থাকুক, এই মেডিকেলের প্রতিটা ধূলিকনায় বেঁচে থাকুক বছরের পর বছর।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত