১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ১১:৫৩ এএম

জন্মগত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক: স্বাস্থ্য সচিব

জন্মগত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক: স্বাস্থ্য সচিব

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেছেন, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে জন্মগত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে ০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার নতুন করে ডায়াবেটিকে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ লাখের বেশি মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এ ছাড়া আরও কয়েক লাখ শিশু জন্মগতভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

বুধবার বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালে যৌথ উদ্যোগে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রেফারেল নেটওয়ার্ক তৈরি’ শীর্ষক প্রকল্প উদ্বোধন ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আসাদুল ইসলাম বলেন,  বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০.১ মিলিয়ন, যাদের ২.৫ মিলিয়ন ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত। অসচেতনতার অভাবে ডায়াবেটিস আছে এমন লোকজনের মধ্যে অর্ধেকই জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। ফলে প্রতিবছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়াবেটিসজনিত অন্ধত্ব এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরে মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ, ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কে আজাদ খান, গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ, সিবিএইচসির লাইন প্রতিনিধি, এনসিডিসির লাইন ডিরেক্টর নূর মোহাম্মদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডিজি প্রফেসর এএইচএম এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডায়াবেটিস আছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে অর্ধেকই অবগত নন যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। আরেকটি আশঙ্কার কথা হলো, পাঁচজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে চারজনেরই বসবাস নিম্নআয় ও মধ্যআয়ের দেশগুলোতে। অসচেতনতা ও প্রচারের অভাবে এখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ ব্যক্তিরা চোখের চিকিৎসা করাচ্ছেন না। অথচ ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির অন্ধ হাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কে আজাদ খান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি চোখের চিকিৎসায় এই কর্মসূচি গ্রহণের জন্য অরবিসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশব্যাপী ৫৪টি বাডাস হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীর চক্ষুপরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে চক্ষু চিকিৎসাসেবাকে সম্বন্বয় করা জরুরি। যেন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা একই সাথে চোখের পরীক্ষা করাতে পারেন। এতে করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি