১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৮:১৭ এএম

বিদেশে রোগী যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা করবো: ডা. এনামুর রহমান

  • বিদেশে রোগী যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা করবো: ডা. এনামুর রহমান
  • বিদেশে রোগী যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা করবো: ডা. এনামুর রহমান

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ৩০ জানুয়ারি। ওই দিন বেলা তিনটায় সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।  গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পায়। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ঢাকা-১৯ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি ডা. এনামুর রহমান।  শপথের পর মেডিভয়েসকে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ডা. এনামুর রহমান জানান চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে নানা ভাবনার কথা। জানিয়েছেন চিকিৎসাক্ষেত্রের উন্নতিতে তার স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তানভীর তনয়।

মেডিভয়েস: একজন চিকিৎসক হিসাবে সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় কী ধরনের অবদান রাখবেন?

ডা. এনামুর রহমান: মন্ত্রিসভায় যেহেতু শুধু মন্ত্রণালয় নিয়েই আলোচনা হয়,সেজন্য এ ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ কম থাকবে। তবে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে সংসদে আমার কথা বলার সুযোগ বেশি।

সংসদে চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসা শিক্ষা এ’দুটা নিয়েই কথা বলার অনেক সুযোগ থাকবে। এর আগেও আমি এ বিষয়ে অনেক বলেছি। ইনশাআল্লাহ এবারও বলবো।

এছাড়াও  যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বা অতি-গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় থাকে তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শক্রমে সেই বিষয়ে আলোকপাত করা যেতে পারে।  

মেডিভয়েস: সংসদে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আপনার ভূমিকা কেমন হবে?

ডা. এনামুর রহমান: এবারের আমাদের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, আমাদের বাংলাদেশে এতগুলো সরকারি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে, তারপরও কিন্তু প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার লোক বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। এটা বন্ধ করার জন্য আমি একটা প্রতিবেদন করেছি। এবার প্রথমেই আমি আমার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করবো। এবং এটা উপরে আমি কাজ করবো। মানুষ কেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায়, কি করলে বিদেশে যাবে না।

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্য বিষয়ক এ প্রতিবেদনে কি কি বিষয় থাকবে?

ডা. এনামুর রহমান: অলরেডি এটার একটা প্ল্যান/ছক করেছি, সেটার ওপর গুরুত্ব দেব। কারন আমাদের প্রায় ০.৫ মিলিয়ন ডলার টাকা বিদেশে চলে যায় চিকিৎসা খাতে। আমি তথ্য নিয়েছি, ইন্ডিয়ায় কত যায়, থাইল্যান্ড কত যায়, চীন কত যায়। আমি মেইন তিনটা দেশ নিয়ে কাজ করেছি।  সেই তিনটা দেশের যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের রোগীরা যায়, তারা কিভাবে ডেভেলপ করছে সেটা তুলে ধরেছি। আর সেই আলোকেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই, যাতে আমার দেশের রোগীরা আমার দেশেই উন্নত মানের চিকিৎসা পায়, আমার দেশের ওপর আস্থাটা যেন ফিরে আসে। এটা আমার একটা মেইন এজেন্ডা এবার। ইনশাআল্লাহ, এটা নিয়ে কাজ করবো।

মেডিভয়েস: বাইরের দেশ থেকে অনেক ছাত্র পড়াশোনার জন্য আমাদের দেশে  আসে, তাদের ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী?

ডা. এনামুর রহমান: বাহিরের দেশ থেকে যেহেতু আমাদের দেশে ছাত্ররা পড়াশুনার জন্য আসছে, সেলক্ষ্যে কিভাবে আমাদের কোয়ালিটিফুল করা যায়, এনভায়রমেন্ট কিভাবে ইমপ্রোভ করা যায়, ছাত্রদের একোমোডেশনটা আরও কিভাবে সুন্দর করা যায়, এ ব্যাপারে আমি কাজ করবো। আর যেহেতু আমি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনেরও সেক্রেটারি জেনারেল, কাজেও এই ভূমিকাটা আমি রাখবো ইনশাআল্লাহ।

মেডিভয়েস: স্যার, আপনার সবচেয়ে আনন্দদায়ক বা ভালো লাগার মুহূর্ত কোনটি?

ডা. এনামুর রহমান: সংসদ সদস্য থেকে মায়ের ছোট্র খোকা (মা আদর করে ডাকেন মাছনু) আজ থেকে সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দেশরত্ন, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রত্নাগর্ভা মায়ের সেই সন্তানের জন্যে পতাকাবাহী গাড়ি পাঠিয়েছে। মা সেটা ঘর থেকে দেখে আর আনন্দে নিভৃতে চোখ মোছে। মায়ের শক্তিই আমাদের শক্তি।সন্তানের জয় মানে তো মায়েরই জয়। আজকে (প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সময়) এই ঘটনাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো লাগার মুহূর্ত।

মেডিভয়েস: গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আপনার অনুভূতি কী?

ডা. এনামুর রহমান: মন্ত্রিপরিষদ গঠনের দিন আসর নামাজ শেষে বিশেষ শুকরিয়া আদায় করলাম মহান আল্লাহর কাছে। তিনিই সকল কিছুর নির্ধারক। মসজিদ থেকে বের হতেই দেখলাম মানুষের ভালোবাসার ঢল। এই ভালোবাসাও মহান আল্লাহর দান। যার প্রতিদান কেবল সততার সাথে দায়িত্ব পালন করা। মানুষের কল্যানে নিজেকে আরো বেশি নিবেদন করা। ইনশাআল্লাহ আমি আমার সে দায়িত্বটাই পালন করবো। মানুষের এতো ভালবাসার আর সম্মানের অনুভূতি কিভাবে বর্ণনা করবো, ভাষা নাই।

মেডিভয়েস: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ওপর আস্থা রাখার কারণ কী?

ডা. এনামুর রহমান: ২০১৩ সালে যখন সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ঘটলো, তখন আমি আহতদের তিন মাস বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আমার হাসপাতাল হতাহত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তখনই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- যেখানে দুর্যোগ সেখানেই একজন সেবক হিসেবে ডা. এনামুর রহমানকে দেখতে চাই। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানের পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেন জাহিদ মালেক

দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি

►দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হলেন ডা. এনামুর রহমান

 

 

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি