ঢাকা      সোমবার ১৭, জুন ২০১৯ - ৩, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



আহসান হাবিব

ফিচার লেখক


অনুকরণীয় শিক্ষক ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

অধ্যাপক ডা. বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি চিকিৎসা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নমনীয়তা, উদারতা ভালোবাসাই তাঁর  বৈশিষ্ট। তিনি একাধারে একজন গুণী শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক প্রশিক্ষক। রোগীরা অধ্যাপক ডা. বি এম আব্দুল্লাহর নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারণ করেন। তিনি হলেন তরুণ চিকিৎসকদের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষক চিকিৎসক।

খ্যাতিমান এই চিকিৎসক জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় হাড়িয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের প্রাইমারি স্কুল শেষ করে তৎকালীন থানার ইসলামপুর নেকজাহান হাইস্কুল থেকে এসএসসি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ক্লাসে বরাবরই তিনি ফার্স্ট হতেন। মেধাবী কোমল স্বভাবের হওয়ায় সকলের কাছে অতি প্রিয় ছিলেন অধ্যাপক ডা. বি এম আব্দুল্লাহ।

খুব বড় অফিসার অথবা তৎকালীন পাকিস্তানের সি এস পি হবার মানসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবা-মার ইচ্ছাপূরণ করতে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস পাশ করেন।

১৯৮২ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোন। তাঁর স্ত্রীও একজন প্রফেসর। ছেলে-মেয়ে দুজনই ডাক্তার। তাঁর চাকরিজীবন শুরু হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখানে তিনি অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর কিছুদিন পর রেজিস্ট্রার হোন। তবে সেখান থেকে চার বছর পর বিদেশে চলে যান চাকরির জন্য। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে পড়াশুনার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাত্রা করেন। ১৯৯২ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্স থেকে মেডিসিনে এম আর সি পি ডিগ্রী অর্জন করেন।

বড় অংকের বেতনের অফার পেলেও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। ১৯৯২ সালে  হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে জয়েন করেন মেডিসিনের কনসালটেন্ট হিসেবে। এরপর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন আই পি জি এম আর, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে জয়েন করেন। সেখানেই তিনি পদোন্নতি পেয়ে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পরে প্রফেসর পদে অধিষ্ঠিত হোন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর তিনবার ডীন নির্বাচিত হন। সবশেষে তিনি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকও। মানবসেবাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি পথ চলছেন অবিরত। যেসময় একজন প্রতিথযশা চিকিৎসকের ভিজিট হাজারের উপরে তখন তিনি রোগী দেখছেন মাত্র ৩০০ টাকায়। যেনো এক রুপকথার গল্প।

এই পর্যন্ত তাঁর লিখিত মেডিসিনের ছয়টি বই প্রকাশ পেয়েছে। বইগুলো হলো- শর্ট কেসেস ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন, রেডিওলোজী ইন মেডিকেল প্র্যাকটিস, ইসিজি ইন মেডিকেল প্র্যাকটিস, কেস হিস্টোরি এন্ড ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন ইন ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, লং কেসেস ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন, প্র্যাকটিক্যাল ম্যানুয়াল ইন ক্লিনিকাল মেডিসিন। দেশের প্রতিটা মেডিক্যালে তাঁর  লিখা বই পড়ানো হয়। শুধু দেশেই নয় ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া কানাডাতে তাঁর  বইগুলো বেশ জনপ্রিয়।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে তিনি সহজ সরল ভাষায় রোগব্যাধি, অপচিকিৎসার কুফল এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা সম্পর্কে নিয়মিত লিখে থাকেন, যা কলাম আকারে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে চলছে। তাঁর লেখা কলামগুলোর একটি সংকলন "স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্বাচিত কলাম" নামে প্রকাশিত হয়েছে।

পর্যন্ত অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তাঁর  মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০১৩ সালে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশন "ইউ জি সি এওয়ার্ড", গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরষ্কারএকুশে পদক",  চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্যমারকেন্টাইল ব্যাঙ্ক সম্মাননা-২০১৬”, শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবেবাংলা দর্পণ সম্মাননা- ২০১৬ ২০১৭ সালে তিনিবাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশীপঅর্জন করেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর রুটিনমাফিক কাজ থেকে অবসরে গেলেন এই স্বনামধন্য চিকিৎসক। অধ্যাপক ডা.   বি এম আব্দুল্লাহ বলেন,আমার কোনো অপূর্ণতা নেই। সবদিক দিয়েই আমি সফল প্রতিটা চাকরিজীবীকেই অবসরে যেতে হবে। এমনকি দুনিয়া ছেড়েও চলে যেতে হবে। আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমার কোনো কষ্ট হয়নি। আমি সন্তুষ্টি নিয়েই চলে যাচ্ছি। আমি চিকিৎসক শিক্ষক হিসেবে সফল।

এরই মধ্যে অনেকেই অধ্যাপক ডা. বি এম আব্দুল্লাহকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। আমিও তাদের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, ‘‘ স্যারকে অবশ্যই স্বাধীনতা পদক দেয়া উচিত। ’’ এটা তাঁর অধিকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর