ঢাকা      শনিবার ২৩, মার্চ ২০১৯ - ৯, চৈত্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. সওগাত এহসান

এমবিবিএস, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ।


ব্যায়াম মোটা হবার কারন!

নওশের সাহেবের Diabetes । ওজন প্রায় ৯০ কেজি। এছাড়াও সাথে আছে Heart এর সমস্যা। ডাক্তার বলেছেন দুই বেলা ৩০ মিনিট করে jogging বা হাটাহাটি করতে। এতে যদি তার ওজন কমে। আর Cholesterol টা একটু control এ আসে।

প্রতিদিনের মতো নওশের সাহেব ডাক্তারের কথা মেনে সকালে Morning walk করতে বের হলো। ১৫ মিনিট হেলে দুলে মাটি কাপিয়ে jogging করেই তার চোখ গেলো, আল ইসলাম হোটেলের কড়াইয়ের দিকে।

গরম পরটা ভাজছে। অনেক ক্ষন তো jogging হলো, এবার ব্রেকফাস্ট টা করে নেয়া যাক।

"ঐ এখানে কে আছো? তিন টা পরটা আর গরুর কলিজা নিয়ে আসো!"

আরাম করে তিনি খেতে লাগলেন। মাঝখানে হোটেলের ছেলেটা কে ডেকে extra কলিজাও চেয়ে নিলেন। যাই হোক জম্পেশ খাওয়া হলো। এবার আবার হাটা যাক।

একটু সামনে এগুতেই পার্কের মোড়ে বেঞ্চে এক মুরুব্বি সেদ্ধ ডিম বিক্রি করছে। নওশের সাহেবের চোখ চলে গেলো সেদিকে। " মুরুব্বি, বেশি বীট লবন দিয়ে একটা হাসের ডিম দিয়েন।"

হাসের ডিম শেষ করে দেখলেন অনেকক্ষন হয়ে গেছে। বাসা থেকে বের হয়েছেন ৪০ মিনিট আগে। পুরো ৪০ মিনিট জগিং করা হয়ে গেছে। এবার ফেরা যাক! এবার পথে করিমের তেহারির দোকান চোখে পড়লো। না এখন তেহারী খাওয়া যাবে না। খাওয়া টা একটু control করতে হবে।

" এই বাদাম। এই দিকে আসো। ১০ টাকার বাদাম দাও।" অতঃপর ১০ টাকার বাদাম চিবুতে চিবুতে সে প্রাতঃভ্রমন শেষ করল।

বাসায় যাবার পর ডিম ওমলেট দিয়ে আবার সবার সাথে ব্রেকফাস্ট সারলেন তিনি।

এবার বিকালের পর্ব। নওশের সাহেব হেলতে দুলতে জগিং করছেন। ফুটপাতে কি সুন্দর শিক কাবাব ভাজছে। ভার্সিটি লাইফের কথা মনে পরে গেল তার। "ঐ ৪ টা শিক দিও বেশি করে বীট লবন দিয়ে!"

কপালের ঘাম মুছে শিক খেতে লাগলেন তিনি।আর ভাবলেন ,যাক লাইফ টা কিছুটা Disciplined হয়েছে। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করছেন।সুখচিন্তা আর শিক কাবাবের তৃপ্তি তে তার চোখ বুজে এলো।

তিনি আবার হাটা ধরলেন। ৫ মিনিট হাটার পর তার নজর গেল চটপটির উপর। সেটা না খেলেই না। চটপটি খেতে খেতে আযান পরে গেলো। যাক আজ তিনি বিকালেও ৪০ মিনিট হেটেছেন। এবার বাড়ি ফেরার পালা। পথে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে , খেতে খেতে তিনি বাড়ি ফিরলেন।

এভাবে সারাদিন তিনি Exercise করে calory intake করলেন ৮০০ calories ! আর হাটাহাটি করে খরচ করলেন ২০০ ক্যালরী ! ৬০০ ক্যালরী তার body bank এ জমা থাকলো।

এভাবে ২০ দিন যাবার পর তিনি weight machine এ উঠে দেখলেন তার ওজন আরো দুই কেজি বেড়েছে। তিনি রাগ করে weight Machine এ লাথি মেরে বললেন, " যত সব ভুয়া কথা। Exercise করলে নাকি ওজন কমে! তাইলে আমার বাড়লো কেমনে?

আমাদের মাঝেও এমন অনেক নওশের সাহেব আছেন। আসুন খেয়াল রাখি তাদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিবেক স্খলনের বলি যখন দেবশিশু

বিবেক স্খলনের বলি যখন দেবশিশু

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে দূর্ঘটনাবশতঃ সন্তানের আগমন অতঃপর তাকে সবার অলক্ষ্যে জন্মদান এবং…

ডাক্তারদের নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বাণিজ্য ফাঁদ

ডাক্তারদের নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বাণিজ্য ফাঁদ

মাইজদীর এক ক্লিনিকে সিজারের বিল ৪৮ হাজার টাকা। এইবার জনগনের বিষোদগার ডাক্তাদের…

গরিবের হার্ট অ্যাটাক এবং তার চিকিৎসা

গরিবের হার্ট অ্যাটাক এবং তার চিকিৎসা

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর এক নম্বর কারণ হলো হার্ট এ্যাটাক। এর ভয়াবহতা…

সরকারি হাসপাতালের নিত্যদিনের গল্প

সরকারি হাসপাতালের নিত্যদিনের গল্প

দিন শেষে রোগী চরম বিরক্ত। কারণ সিট না পাওয়ায় তার স্থান হয়েছে…

ঘুম সমন্ধে যে তথ্যগুলো আপনি জানেন না!

ঘুম সমন্ধে যে তথ্যগুলো আপনি জানেন না!

গতকাল পালিত হয়ে গেলো বিশ্ব ঘুম দিবস। এই দিবসে যারা আমার মতো…

কলমের এক খোঁচায়

কলমের এক খোঁচায়

একদিন পরিচিত এক লোক তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন আমার কাছে। অ্যাডমিন ক্যাডারের…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর