ঢাকা      সোমবার ১৭, জুন ২০১৯ - ৩, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


চিকিৎসকদের স্বাধীনতা সম্মান ও নিরাপত্তা চাই

স্বাধীনতা শব্দটির সত্যিকারের মূল্য পরাধীন যারা তারাই হয়ত সবথেকে ভালো উপলব্ধি করতে পারেন। আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা বুকে অপেক্ষমান আমরা।

আমি আমার চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলছি, আপনি কি স্বাধীন? 

না। আমরা চিকিৎসক সমাজ স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে এসেও পরাধীন এবং বঞ্চিত।

দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীগন সব থেকে কঠিন সিলেবাসে, কঠোরতম পরীক্ষা পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ হয়ে এবং সব থেকে ষ্ট্রেসফুল কর্তব্য পালন করে চিকিৎসক জীবন অতিবাহিত করেন। আর তুলনামূলক কম মেধাবীগন কেবল চাকরির পরীক্ষাটাতে নিজেদের প্রমাণ করেই হম্বি তম্বি করে - এসব পুরনো আলোচনা বাদ।

আলোচনার বিষয় সমতা। আলোচনার বিষয়বস্তু সিস্টেম চেন্জ। দেশে সময়ের প্রয়োজনে সব কিছু হয়েছে এবং  হচ্ছে। সম্মানিত সংবিধানে ও সংশোধনী এসেছে। কেবল চিকিৎসক প্রজাতির ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। একজন দুজন দশজন ভেরী গুড প্রাকটিশনার ডাক্তার অশিক্ষিত সমাজের চোখে ডাক্তার সমাজের রিপ্রেজেন্টেশন হলেও বাস্তব প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।

লক্ষ লক্ষ চিকিৎসকদের মধ্যে একজন ওয়েল প্রাকটিশনার। নিজের জীবনের শখ আহ্লাদ, সমাজ সংসার বাদ দিয়ে চার দেয়ালে বন্দি হয়ে রোগী দেখছেন আর অর্থ উপার্জন করে চলছেন হয়ত। সমাজ ওনার অর্থ উপার্জন দেখছে। নিজে চেম্বারে কতক্ষণ অপেক্ষা করল গুনছে। ব্যাস। সারা চিকিৎসক সমাজের গুষ্টি উদ্ধার।

সমাজ জানছে না, কোন লেভেলের মেধাবী বাচ্চা গুলো সংক্রামক ব্যাধির মতো ছেলে বেলাতেই একমাত্র ডাক্তার হবে বলেই বই এর পাতাতে জীবন টাকে আটকে দিয়েছে। পিএসসি তে প্রথম হওয়া ছাত্রীটি যখন চিকিৎসক হতে চায় - আশা ব্যক্ত করে তখন আমরা বাকী চিকিৎসক সমাজ  হায় হায় করে উঠি। কারন লক্ষ চিকিৎসকের মধ্যে থেকে একজন হয়ে ওঠার পথ টা শুধু কঠিন ই না দিন দিন চরম বিপদসংকুল।

ভদ্রলোকের মুখোশ পরা কিছু কুলাঙ্গারকে বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বোর্ড চাকরি না, যেন অরাজকতা করবার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। চাকরির ট্রেনিং এ এরা জনসেবার বদলে জনগনকে শোষন, ভালো ব্যবহারের বদলে অভদ্রতা, সৌহার্দের বদলে শত্রুতা শিখে আসছে। এদের সখ্যতা দুর্নীতির সাথে, সমাজকে বিনষ্ট করে যারা এদেরকে টাকার কুমির বানাচ্ছেন।

সম্প্রতি এক জুনিয়র প্রসাশন ক্যাডার অফিসার অনৈতিক ভাবে সিনিয়র চিকিৎসককে তার কর্মক্ষেত্রে গিয়ে অপদস্ত করে এটাই প্রমাণ করল যে আমরা সন্ত্রাসীদের সরকারি চেয়ার দিচ্ছি।

নব নির্বাচিত সরকারের প্রধান এজেন্ডা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। বছরের শুরুতে এই দুর্নীতিবাজ বেয়াদব অফিসারকে চাকরীচ্যুত করেই শুরু হতে পারে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কার্যক্রম। 

তবে সে ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা চিকিৎসক কেই নিতে হবে। ছাগলের মতো ম্যা ম্যা করে প্রতিবাদ করার দিন শেষ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের নমিনেশন শিখিয়ে দিয়েছে,চিকিৎসকদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে চুপ থাকলেও সংসদে যায়গা হচ্ছে না।তাই আগামীর চিকিৎসক নেতৃত্ব হতে হবে কঠোর এবং কট্টর চিকিৎসক বান্ধব।

তরুন চিকিৎসক নেতৃত্ব বয়সে তরুন হোক বা না হোক - চিন্তাতে হোক আধুনিক।

আমরা এতজন চিকিৎসক সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বলে খুশিতে বাকবাকুম।চিকিৎসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাই বলে লাফাচ্ছি।মূল ধারার রাজনীতি থেকে আসা শিক্ষাগত যোগ্যতার চিকিৎসক আপনার আমার সমস্যা,কাজ,কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা কোনকিছুই বুঝবে না। বা বুঝতে চাইবে না।

প্রতিটি চিকিৎসকের অধিকার আর পরাধীনতার কথা জোর গলায় বলতে পারার মতো একটা কন্ঠ চাই।নির্লোভ নির্মোহ একজন চাই।

প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারী এই মুহূর্তে সরকার থেকেই বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার বদৌলতে সম্মানিত এবং সচ্ছল জীবন যাপন করছেন।চিকিৎসক দের সাথে নিয়েই পেশাজীবী যতগুলো আন্দোলন হয়েছে,মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসক গন অগ্রগামী থেকে যা কিছু সামান্য আদায় হয়েছে তা অন্য ক্যাডারের। চিকিৎসক গন থেকে গেছে বঞ্চিত।বর্তমান সরকার সরকারি কর্মচারীদেরে সর্বোচ্চ ভালো রাখছেন। তারাই পারবেন চিকিৎসক দের সামগ্রিক পরিবর্তন। কেবল সিস্টেম বদলানোর আওয়াজ চাই।

সমাজে সবথেকে সৎ অথচ অবহেলিত এই এক প্রজাতি।মনে মনে সবাই চাই সন্তান চিকিৎসক হোক। অথচ এদের ই দোষ গাই।

চিকিৎসক কবিতা লিখলে দোষ। চিকিৎসক কঠোর প্রশাসক হলে দোষ। চিকিৎসক রুগীদের জন্য অবকাঠামো চাইলে দোষ। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছাত্র ছাত্রীদের হোস্টেল মেরামত করতে বললে দোষ।

সময় এসেছে দোষ এর কারাগার থেকে মুক্তি নেবার। সময় হয়েছে আত্মাসম্মানে বলীয়ান হবার। চিকিৎসকের কর্মক্ষেত্র সন্ত্রাস মুক্ত হোক। বাংলাদেশ এর সব চিকিৎসক স্বাধীনতার স্বাদ পাক।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্য বাজেট '১৯: আমার ভাবনা

স্বাস্থ্য বাজেট '১৯: আমার ভাবনা

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে সরকারের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। দেশের দরিদ্র…

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর