ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, জুন ২০১৯ - ৪, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


কেরানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারকীয় হামলার শক্তির উৎস কোথায়?

এসিআর প্রত্যাশী এসিল্যান্ড হাসপাতালে রোগীদের কথা একবারও ভাবে নি- তার এ নিষ্ঠুরতার জবাব কি থানায় সাধারণ ডায়রি?

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ঐ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর বিনা উস্কানিতে হামলা ও লাঞ্ছিত করার বিরুদ্ধে চিকিৎসক সংগঠন ও তার নেতৃত্বের কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলন প্রয়োজন। কেরানীগঞ্জের এসিল্যান্ড মতিউর রহমান ও তার কার্যালয়ের কর্মচারীর চিকিৎসক লাঞ্ছিত করার সাহস বা শক্তির উৎস কোথায়?

৩৬ ঘণ্টা পার হওয়ার পরেও সরকারের পক্ষ হতে আক্রমণকারী এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। “সশরীরে না এলে এবং সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া কোনভাবেই এসিআরের মেডিকেল সার্টিফিকেট দেবেন না- এইমর্মে জনৈক শীর্ষ চিকিৎসক নেতা আহ্বান জানিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে- সে সকল ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন ক্যাডারেরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হবে না– তার নিশ্চয়তা কোথায়? মারমুখী ক্যাডারদের কে ঠেকাবে? চিকিৎসকদের উপর আক্রমণ প্রতিহত করবে কে? যেকোন সিদ্ধান্ত টেকসই বা মজবুত না হলে তার উপর আস্থা রাখা যায় না।

অথচ যে সকল চিকিৎসকরা এসিআর প্রদানের সাথে যুক্ত তারা সকলেই মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন শীর্ষ আমলা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত । তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে এ কর্মসূচি পালন করা অতীতেও যেমন সম্ভব হয় নি, বর্তমানে কতটা পালিত হবে যথেষ্ট সন্দেহ আছে । আরও কঠোর কর্মসূচি আসা প্রয়োজন ছিল।

নেতৃত্বের আন্দোলন বিমুখতা ও অনভ্যস্ততার কারণে কার্যকর কঠোর কর্মসূচি আসেনি। এসিল্যান্ডের ক্ষমতার উৎস-কে ভাঙতে না পারলে অন্য কোথাও, অন্য এসিল্যান্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা ও অসদাচরণ করবে।

রাষ্ট্র ও তার সরকার চিকিৎসকদের দাবীর মুখে জনপ্রশাসন ক্যাডারদের মারমুখী হওয়া ঠেকাতে পারবে না। কারণ সরকার এদের উপর নির্ভরশীল ।স্বাধীন রাষ্ট্রে জনপ্রশাসন ক্যাডারদের মাত্রাতিরিক্ত সুবিধা ভোগ ও ক্ষমতার কারণে পেশাজীবীদের উপর এ হামলা। সরকারের ভাবা প্রয়োজন - অনিয়ন্ত্রিত সুবিধা ও ক্ষমতা যে কোন ক্যাডারকে অধঃপতিত হতে প্রলুব্ধ করে। ক্ষমতান্ধ জনপ্রশাসন ক্যাডার সেদিকেই এগোচ্ছে।

যে ঘটনা প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে বহু মানুষের সামনে হাসপাতালের মত সেবাদানকারী স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হয়েছে তার বিচারের জন্য সাধারণ ডায়রি কেন? নিয়মিত মামলা করার প্রয়োজনে এফ আই আর করা হল না কেন? মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন ঢাকা কেরানীগঞ্জের ইউএইচএফপিও-কে জীবননাশের হুমকির অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের জন্য কোন নির্দেশ দেয় নি।

রোগীদের নিরাপদ পরিবেশের কথা এসিল্যান্ড ভাবে নি তারপরেও তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি করে আপোষ করা হল। সাধারণ ডায়রি আর কখনও নিয়মিত মামলায় রূপান্তর হবে না, আপোষ মীমাংসায় রফা হবে শেষ পর্যন্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

‘দুর্বল পরিকল্পনার কারণে স্বাস্থ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ’ 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫…

স্বাস্থ্য বাজেট '১৯: আমার ভাবনা

স্বাস্থ্য বাজেট '১৯: আমার ভাবনা

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে সরকারের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। দেশের দরিদ্র…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর