০২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০২:৫৭ পিএম

উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতায় বাড়ছে নানা রোগ

উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতায় বাড়ছে নানা রোগ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের উত্তরাঞ্চলের সাধারণ কৃষক, দিনমজুর ও সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ কনকনে শীতে অতি কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত নানা রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশির ভাগই আক্রান্ত হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষেরা।

বিশ্বস্ত সুত্রমতে, বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। তারমধ্যে উত্তরাঞ্চলেই এ রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। শীতকালে আসলেই যেন তারা আধমরা হয়ে যায়। এসব দরিদ্র মানুষের প্রায় সবারই বাড়িঘর ভাঙাচোরা। তাদের কাঁচা ঘরের বেড়া দিয়ে হন হন করে হিমেল হাওয়া প্রবেশ করে। এসব মানুষের অধিকাংশই অসহায় দুর্বল। সেই সাথে শীতজনিত নানা রোগের প্রকোপে তারা আর্ত-পীড়িত হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে শীতকালীন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাটাইসিস, ব্রংকিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিস, চামড়ার শুষ্কতা অন্যতম। এসব রোগ থেকে সুরক্ষায় শীত এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা বেশি। স্বাভাবিক শীতকালীন রোগব্যাধির পাশাপাশি তীব্র শীতে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই মানুষের শরীরের তাপ উৎপাদন ক্ষমতা কমতে থাকে। তীব্র শীতে বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর শরীর ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়ে আসে। শরীরে তাপ উৎপাদন কম হওয়ায় হাত-পা কুঁকড়ে যায়। এমনকি শরীর অবশ হয়ে আসতে থাকে। এছাড়া হাঁপানি, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য রোগ তো আছেই। এসব রোগ থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই শীত এড়িয়ে চলতে হবে।

শরীর গরম রাখতে গরম পোশাক পরতে হবে, গরম পানি খেতে হবে। এমনকি গোসলের ক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এসব রোগে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। রুম গরম রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শীতজনিত রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় অ্যাবস্ট্রাক্টিভ রিসপারেটরি ইনফেকশন বা শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যায়। শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত গরম কাপড়সহ হাতমোজা, পা মোজা পরিয়ে রাখতে হবে। সর্বক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। তারপরেও যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, শ্বাসকষ্টে ঘুমাতে না পারে, ঠোঁট-মুখ নীল হয়ে যায়, বুক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ওঠানামা করে তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি