কাজের মধ্যেই ছিলাম, আছি ও থাকবো: প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ


চিকিৎসা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।  নমনীয়তা, উদারতা ও ভালোবাসাই তাঁর বৈশিষ্ট্য।  তিনি একাধারে একজন গুণী শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রশিক্ষক। তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরপর তিনবার ডীন নির্বাচিত হন।  হাজারো চিকিৎসক তৈরির এই কারিগর তাঁর চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন গত ৩১ ডিসেম্বর।  দেশের এই প্রতিথযশা চিকিৎসক তার অবসর জীবনের পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন মেডিভয়েসের কাছে।  তা পাঠকদের জন্য ধরা হলো।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহসান হাবিব।

মেডিভয়েস: আপনি চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: প্রতিটা চাকরিজীবীকে অবসরে যেতে হবে। আমার বয়স হয়েছে। একটা সময় তো অবসরে যেতেই হবে। এমনকি দুনিয়া ছেড়েও চলে যেতে হবে। আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমার কোনো কষ্ট হয়নি। আমি সন্তুষ্টি নিয়েই চলে যাচ্ছি। এর কিছু কারণ আছে। আমি আমার প্রতিটা পদক্ষেপেই সফল। আমার অপ্রাপ্তি বলতে কিছু নেই। আমি চিকিৎসক ও শিক্ষক হিসেবে সফল। আমি বেশ কিছু বই লিখেছি যা দেশে ও দেশের বাইরে বেশ জনপ্রিয়।

আমি মেডিসিনের প্রফেসর হিসেবে জেনারেল প্র্যাকটিস করি। রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকি। রোগীদের সাথে আমার কোনো দূরত্ব হচ্ছে না। আমি তাদের সেবা করেই যাব। আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। কিন্তু কাজ তো আমার থেমে থাকবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে আমি চলে গেলেও কাজের কোনো ঘাটতি হবে না। এখানকার পথ আমার জন্য খোলা। আমি আরও এক বছর চাকরির মধ্যে আছি। অন্য প্রফেশনের মানুষরা পুরোপুরি অবসরে যেতে পারেন। কিন্তু ডাক্তাররা তা পারেন না। ডাক্তারদের কোনো অবসর নেই। আমি কাজের মধ্যেই ছিলাম, আছি ও থাকবো।

মেডিভয়েস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: আমার রোগী দেখা অব্যাহত রাখব। লেখালেখি চালিয়ে যাব। মেডিসিন রিলেটেড আরেকটি বই লেখা শুরু করেছি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি বাংলা বই প্রকাশ পাবে। নতুন কোনো চাকরিতে যোগদান করার ইচ্ছা আমার নেই। সবকিছু মিলিয়েই আমি ভালো সময় কাটাতে চাই।

মেডিভয়েস: শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: আমার শিক্ষার্থীরা দেশের প্রায় প্রতিটা মেডিক্যাল কলেজেই সফলতার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করছে। অনেকেই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক হিসেবে আছে। যারা শুধু প্র্যাকটিসের মধ্যে আছে তারাও সম্মানের সাথে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এটা আমার অনেক বড় অর্জন। নিজ হাতে ভালো কিছু শিক্ষক ও ডাক্তার তৈরি করা আমার লক্ষ্য ছিলো। আমি পুরোপুরি এটা করতে না পারলেও অনেকাংশেই সফল। প্রায়ই একটা কথা বলে থাকি যে, আমি আমার যোগ্যতার চেয়েও বেশি পেয়েছি। আমি চাই আমার শিক্ষার্থীরাসহ সকল চিকিৎসক ভালো কাজ করুক। তারাও বিভিন্ন ভাবে সম্মানিত হোক; পুরষ্কার সম্মাননা পাক।

আরেকটা পরামর্শ হলো, চিকিৎসকদের শুধুমাত্র ভালো চিকিৎসক নয়, ভালো মানুষও হতে হবে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় ভালো ডাক্তার হওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবস্থা খুব ভালো নয়। মানুষ এখন ডাক্তারদের ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা করছে। এই নেতিবাচক চিন্তা বদলানোর দায়িত্ব ভবিষ্যৎ ডাক্তারদের উপরই বর্তায়। তরুণ ডাক্তারদের এ দায়িত্ব নিতে হবে। সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। এটা আমাদের পরিবার ও দেশের জন্য ভালো হবে। এটা সকলের কাছে এটা আমার আকুল আবেদন।

মেডিভয়েস: যারা চিকিৎসা পেশায় আসতে চায় তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: মেডিক্যাল প্রফেশনটা অন্য প্রফেশনের চেয়ে একটু আলাদা। যারা আসতে চান তাদেরকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আপনাকে অনেক কষ্ট করার মানসিকতা রাখতে হবে। প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। ভালো মানুষ ও ভালো ডাক্তার উভয়ের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। যেমন: রোগীর সাথে ভালোভাবে কথা বলা, রোগীর কথাগুলো ঠিকমতো শুনা, ভালো আচরণ করা, ঔষধ ভেবেচিন্তে দেয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা অপ্রয়োজনে না দেয়া। ভবিষ্যতে যারা এ পেশায় আসতে চান তাদের মাথায় এ বিষয়গুলো থাকতে হবে। তাহলে আপনারা অবশ্যই সফল হবেন ইনশাল্লাহ।

মেডিভয়েস: যারা মেডিক্যালে সদ্য প্রবেশ করেছে তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: তরুণরা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে মেডিক্যাল আঙিনায় পা রাখেন। যারা সবেমাত্র শুরু করছেন তারা মনে রাখবেন যে, এখানে সচেতনতা ও সততার কোনো বিকল্প নেই। আপনাকে প্রথম থেকেই ভালো পড়াশুনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, আপনাকে রোগী দেখতে হবে। আমি যখন মেডিক্যাল জীবনে প্রথম ওয়ার্ডে ঢুকি তখন এক শিক্ষক ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদেরকে দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এরা কারা চেনো?’ আমরা উত্তরে বললাম ‘রোগী।’ তিনি বললেন, "এরা শুধুমাত্র তোমার রোগী না, এরাই তোমার প্র্যাক্টিকেল লার্নিং মেটেরিয়াল বা হাতেকলমে শিক্ষার উপকরণ।" তাদের দ্বারাই তোমাদের শিক্ষা অর্জন করতে হবে। সুতরাং তাদের সাথে কখনও খারাপ আচরণ করো না। তারা যেনো তোমার থেকে কোনো কষ্ট না পায়। তুমি যত বড় ডাক্তারই হওনা কেন, তাদের মাধ্যমেই তোমাকে হাতে-কলমে শিখতে হবে।

যারা নবীন তারা মনে রাখবেন, শুধু বই পড়ে ডাক্তার হওয়া যাবে না। যে কেউ বাজার থেকে বই কিনে পড়তে পারে। কিন্তু আপনাকে রোগীদের মাধ্যমেই প্রতিথযশা ডাক্তার হতে হবে। কেউ যদি মনে করে, বই পড়বো আর ভালো ডাক্তার হবো সে কোনো দিনই ভালো ডাক্তার হতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, আমি ডাক্তারি পেশায় ঢুকছি। এটাই আমার একমাত্র পেশা। অন্য কোনো পেশায় জড়িয়ে পরা যাবে না। বিশেষ করে, অনেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরেন। এটা কখনোই করবেন না। মেডিক্যাল সায়েন্সে এটা একটা বড় বাঁধা। সবার ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে এটা ঠিক, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি অন্য কাজে সময় ব্যয় করে আপনার প্রফেশনের ক্ষতি করবেন। এটা যেন কেউ না করেন। আপনি যদি এটা করতে পারেন, তাহলে আপনি গর্বিত হবেন, আপনার বাবা-মা গর্বিত হবে, দেশ উপকৃত হবে।

মেডিভয়েস: রোগী এবং চিকিৎসকের সম্পর্কটা কেমন হওয়া উচিত?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: বর্তমানে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা দূরত্ব ও আস্থাহীনতার ভাব সৃষ্টি হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। উভয়ের মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুভাবাপন্ন ও সহযোগিতামূলক হওয়া উচিত। আমি একটা কথা সবসময় বলে থাকি যে, কোনো এক জায়গায় যদি একজন ডাক্তার থাকেন, তাহলে রোগী তার কাছেই আসবে। যদি দু'জন ডাক্তার হয়, তখন রোগী তুলনা করবে তাঁদের মধ্যে কে ভালো। তিনজন হলে আরও তুলনা করবে। ডিগ্রী ও কোয়ালিটি এক হলেও কিন্তু রোগী সবার কাছে যায় না। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, কেউ কেউ রোগী পায় না আবার কারো কারো কাছে রোগীরা সিরিয়াল পাচ্ছে না। এর কারণ হলো, আস্থা ও বিশ্বাস। অনেকে বলে, মানুষ আল্লাহর পরে ডাক্তারকে বিশ্বাস করে। কথাটা ডাক্তারদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

মেডিভয়েস: আপনি মানুষের কাছে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, এটা কিভাবে সম্ভব হলো?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: আমি নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তা মানুষই বিবেচনা করবে। আমার যোগ্যতা ততটুকু আছে কি-না আমি জানি না। তবে যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তা আমার বাবা-মায়ের দোয়া, সহকর্মীদের সহযোগিতা ও আমার প্রতি ছাত্র ছাত্রীদের অগাধ ভালোবাসার কারণে। আমি মনে করি, আমার দ্বারা রোগীরা উপকৃত হয়েছে বলে তারা আমার জন্য দোয়া করেছে। হয়ত কিছু ভুলত্রুটিও হয়েছে। কিন্তু তার কোনোটাই আমি ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি।

মেডিভয়েস: মেডিক্যাল সেক্টরে মিডিয়ার গুরুত্ব কতটুকু? ডাক্তার ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলুন।

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: এটা একটা জরুরি প্রশ্ন। মেডিক্যাল সেক্টরে মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসাসেবার অন্যতম উপাদান জনসচেতনতা তৈরি, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা ছাড়া তা বাস্তবায়ন অসম্ভব। চিকিৎসাক্ষেত্রের সাফল্যগুলো উপেক্ষা করে শুধু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ফলাও করে প্রচার করার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা উচিৎ। প্রচার মাধ্যম যদি সঠিক বিষয়টা প্রচার না করে, তাহলে ডাক্তার ও রোগী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায়ই দেখা যায়, মিডিয়াগুলো ডাক্তারদের নেতিবাচক দিকগুলো বেশি প্রচার করে। আমাদের দেশেই অনেক জটিল রোগের চিকিৎসাসহ শতশত অপারেশন সফলভাবে করা হচ্ছে। কিডনি, লিভার এবং বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, হৃদরোগের বাইপাস, রিং পরানো, নিউরোসার্জারি ইত্যাদি আধুনিক চিকিৎসা উন্নত দেশের মতোই হচ্ছে। আমাদের দেশেও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক আছেন, চিকিৎসায় সফলতাও আছে। কিন্তু সর্বদা যদি দোষ-ত্রুটিগুলো প্রচার করা হয়, ভালো কাজের স্বীকৃতি দেয়া না হয়, তবে অনেকেই উৎসাহ হারিয়ে ভয়-ভীতির মধ্যে কাজ চালাতে বাধ্য হবেন। কর্মক্ষেত্রে ডাক্তাররা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সেগুলোও সঠিকভাবে প্রচার করা দরকার।

কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেই ভুল চিকিৎসা বলে প্রচার করে জনগণের আস্থা নষ্ট করা অনুচিত।  এতে জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হবে। অনেক জটিল রোগ যেমন স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভার নষ্ট, ব্লাড ক্যান্সার বা অন্যান্য অনেক ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য নয়। মুমূর্ষু রোগীদের আই.সি.ইউ তে ভর্তি করা হয়, সেখানেও মৃত্যুর হার বেশি। মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে কেউই বাঁচাতে পারবে না। ডাক্তাররাতো কাউকে জীবন দিতে পারে না। রোগের উপশম করাতে সাহায্য করেন মাত্র। জীবন-মৃত্যু আল্লাহ তায়ালার হাতে।  তাই স্বাভাবিক বা রোগজনিত মৃত্যু হলেই ভুল চিকিৎসা হলো, এভাবে প্রচার করাটা অন্যায়, অযৌক্তিক। শুধু ভুলগুলো যদি সাংবাদিকরা ফলাও করে প্রচার করে তাহলে রোগীরা যাবে কোথায়? এতে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খারাপের পাশাপাশি অবশ্যই ভালো দিকগুলোও তুলে ধরা দরকার। এটা না করলে ডাক্তারদের প্রতি অন্যায় করা হবে। একটু ভুল হলে সেটা প্রচার করে সারা জীবনের গৌরবময় অর্জনগুলো ধুলিস্মাৎ করে দেবেন না। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের তথা মিডিয়া হাউজগুলোর আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তৎক্ষণাৎ খবর প্রকাশ করা হয়, জনগণ সেটাই ঘটেছে বলে বিশ্বাস করে এবং চিকিৎসকের প্রতি অনাস্থা আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ তদন্তের পর দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তারের ভুল ছিলো না। কিন্তু মিডিয়াতো ভুল হিসেবে প্রচার করেই ফেলেছে। এরপর তো আর করার কিছুই থাকে না। মাঝ থেকে একজন চিকিৎসকের জীবন, ক্যারিয়ার ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে যায়। তাই, অন্তত ডাক্তারের ভুল হয়েছে, কোনো অভিযোগ প্রচারের আগে তার যথাযথ মতামত নিন। পরিপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত সংবাদ প্রচার করবেন না। এরকম যদি হয় তাহলে কোনো রোগীর রিস্ক ডাক্তাররা নেবে না। এতে কিন্তু রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।

তাই আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, ডাক্তার এবং রোগীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, এমন নেতিবাচক খবর প্রচারে সতর্ক থাকা উচিৎ। সমাজের অন্য মানুষের মতো ডাক্তারদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে, তা সারা বিশ্বেই হয়। কখনো কখনো ভুল হয়, এটা অস্বীকার যাবে না। ভুল প্রত্যেক প্রফেশনের মানুষেরই হয়। কিন্তু দেখতে হবে এটা কি ইচ্ছাকৃত? এখানে কি তার কোনও অবহেলা ছিলো? নেতিবাচক খবর বেশি প্রচার করলে ডাক্তারদের আন্তরিকতার খবরটুকু অপ্রকাশিত থেকে যায়।  ভুল বুঝাবুঝি আরও বাড়ে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এতে জনগণ শুধু ডাক্তারের উপর আস্থা হারায়না, হারায় মূলত রাষ্ট্র প্রদত্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর, যার খেসারত দিতে হয় আপনার, আমার, আমাদের সকলের এবং সরকারের। তাই এমন খবর প্রচারে মুখরোচক জনপ্রিয়তার চেয়ে দেশ ও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত। চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টিং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পেশার সদস্য হিসেবে আপনিও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

আমি সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আপনাদের কাছে বিনীত আবেদন রাখছি, যে কোনো নেতিবাচক খবর প্রচারের আগে একটু ভাববেন। পাশাপাশি আমাদের বিশাল সফলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোও কিছুটা হলেও তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।

মেডিভয়েস: মেডিভয়েসের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ: মেডিভয়েস সীমিত আকারে কাজ শুরু করলেও এখন অনেক ভালো কাজ করছে। ডাক্তারদের ব্যাপারে ইতিবাচক কথাগুলো বেশ সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরছে। এর প্রচার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মেডিভয়েস সম্পর্কে একটা ভালো আইডিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ জনগণের কাছে মেডিভয়েসকে পৌছাতে আরও বেশি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।