ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২৪ মিনিট আগে
অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায়

অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায়

এমবিবিএস, এফসিপিএস (শিশু), এমডি (শিশু নেফ্রোলজি) এফআরসিপি (গ্লাসগো)
চেয়ারম্যান, শিশু নেফ্রোলজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০, বাংলাদেশ।
 

ডা. মো. বেনজামিন

এমবিবিএস, এমডি রেসিডেন্ট ফেইজ- বি
শিশু পুষ্টি ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগ, ঢাকা - ১০০০, বাংলাদেশ।


৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৩৭

নবজাতকের পরিচর্যা ও যত্ন

নবজাতকের পরিচর্যা ও যত্ন

অসুস্থ নবজাতক বলতে যা বুঝিঃ

১।  যে নবজাতক জন্মের সাথে সাথে নিঃশ্বাস নেয়নি।

২।  বুকের দুধ টেনে খেতে পারে না।

৩।  নড়াচড়া কম করে।

৪।  জ্বর (১০০০) বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (তাপমাত্রা ৯৫০ বা এর নীচে)

৫।  মুখ ও শরীর নীল হয়ে যাওয়া।

৬।  খিচুনী হওয়া।

৭।  পেট ফুলে যাওয়া।

৮।  জন্মের ২৪ ঘন্টার মধ্যে সবুজ কাল পায়খানা না হওয়া।

৯। জন্মের ২৪-৪৮ ঘন্টার পর্যন্ত প্রস্রাব না হওয়া।

১০।  কাশি/ শ্বাস কষ্ট

১১।  শরীরের পেট ও পা পর্যন্ত হলুদ বা জন্ডিস হওয়া।

১২।  অতিরিক্ত বমি।

১৩।  যার ওজন ২.৫ কেজির কম বা ৪.০ কেজির বেশী।

১৪।  জন্ম ৩৭ সপ্তাহের কম সময়ে বা ৪২ সপ্তাহের বেশী।

১৫।  ডায়াবেটিক মায়ের শিশুদের প্রথম সপ্তাহ।

এ সকল নবজাতককে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং এমনকি প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

 সুস্থ্য নবজাতককে জন্মের সাথে সাথে মায়ের শালদুধ পান করাবেন।  কোন মধু, চিনির পানি, কোটার দুধ দেয়া যাবে না।

► জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু মাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করবে।  মায়ের বুকের দুধ যথেষ্ট পাচ্ছে কিনা সেটা বোঝার উপায় হচ্ছে নবজাতক ২৪ ঘন্টায় ৬ বা তার বেশী প্রস্রাব করবে এবং নবজাতক প্রতিদিন ২০-৪০ গ্রাম (মাসে ৬০০-১২০০ গ্রাম) ওজন বাড়বে।  সব নবজাতকই পর্যাপ্ত মায়ের দুধ পায়।  এ বিষয়ে কোন সন্দেহ বা আলোচনা অনুচিত।  প্রথম ২-৩ দিন ১-৩ বার প্রস্রাব করতে পারে।

► নবজাতককে প্রতিদিন সারা শরীর পরিস্কার করে দিবেন।  ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে গোসল করানোর প্রয়োজন নেই।

► নবজাতককে কিছুটা উষ্ণ কাপড়ে জড়িয়ে রাখতে হবে, মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকলে বাচ্চা উষ্ণতা পাবে, যেভাবে ক্যাঙ্গারোর বাচ্চারা

থাকে।

► একজন নবজাতক দিনে ১৮ ঘন্টা ঘুমানো স্বাভাবিক।

► ৬-৮ বার দানাদানা কম পানি যুক্ত পায়খানা করা স্বাভাবিক।

► অনেক নবজাতক রাতে প্রথম ৩ মাস কান্নাকাটি করে, এটা সাধারনত তেমন কোন অসুখ নয়, তবে নাক বন্ধ, রুমে অক্সিজেন কম পেলে, পেটে হাওয়া হলে বা সামান্য কোন অসুবিধার/ অসুস্থ্যতার কারনেও হতে পারে।

► নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি বড় বাচ্চাদের তুলনায় বেশী তাই কোন সমস্যা মনে হলে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, হাসপাতালে যাবেন, জরুরী কিছু মনে হলে জরুরী বিভাগে যাবেন।

► নবজাতকের  জন্মগত  অসুখ  খুজে  বের  করা  প্রয়োজন।  যেমন: থাইরয়েড গ্রন্থি কম কাজ করা, জন্মগত ত্রুটি, হিপজয়েন্ট ডিসপ্লাসিয়া, গ্যালাকটোসেমিয়া, ফিনাইলকিটোনোরিয়া, রেটিনোপেথি অফ প্রিমেচোরিটি।  এগুলোর তখনই চিকিৎসা প্রয়োজন।

► অনেক নবজাতক বিকট শব্দ করে শ্বাস থাকে না। মাথা সোজা করে ঘাড়ে রাখলে আওয়াজ থাকে না, সোজা  শুইয়ে থাকা অবস্থায় বেশী শব্দ করে।  এগুলো দেখতে ভয়াবহ মনে হয়, আসলে এটা সাধারনত শ্বাসনালী নরমের জন্য হয়।  ৩-৬ মাস বয়সের মধ্যে তা চলে যায়।  তার পরও একবার শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ  গ্রহন করা যেতে পারে, যদি কোন খারাপ কিছু অসুখ রয়ে যায়।  তবে কাশি ও দ্রুত শ্বাস নিলে এটা নিউমোনিয়া, তাই জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন।

► অনেক নবজাতকের হাত-পা কিছুটা কাঁপে, ধরলে থেমে যায়, এগুলো খিচুনী নয়।  যদি মায়ের ডায়াবেটিস না থাকে তাহলে এগুলো সমস্যা নয়।

► জন্ডিসঃ ৬০-৮০% নবজাতকের জন্ডিস হয়, তার অধিকাংশ রোদে রাখলে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ভাল হয়ে যায়।  খারাপ ধরনের জন্ডিস হল যা :

১) জন্মের সাথে সাথে বা ১ম দিন জন্ডিস দেখা দেওয়া।

২) প্রায় সারা শরীর ও হাত- পা পর্যন্ত হলুদ।

৩) ১৪ দিন পরেও জন্ডিস থাকা।

৪) জন্ডিসের সাথে অন্যান্য অসুখের লক্ষণ যুক্ত থাকলে।

► মা ও শিশুর রুম, বিছানা, অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসগুলো পরিস্কার থাকা বাঞ্চনীয়, কম মানুষের প্রবেশ ও সংস্পর্শ সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

► নবজাতক স্পর্শের পূর্বেই হেক্সিসল/ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

► নাভিতে স্পিরিট, হেক্সিসল বা কোন মলম লাগানোর বা শেক দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

► যে সকল নবজাতক ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করেছে ও অক্সিজেন দিতে হয়েছে তাদেরকে চক্ষু ও কান পরীক্ষা করাতে হবে।

► বাংলাদেশে ৩২% শিশু ২.৫ কেজি বা তার কম ওজনে জন্মগ্রহণ করে থাকে।  তাদের বিশেষ ভাবে যত্ন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা করতে হবে। তারা বেশী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

► মা ও শিশু একই বিছানায় ঘুমানো ভালো, তবে বিছানাটা বড় হওয়া দরকার এবং কক্ষটি উষ্ণ থাকা, খোলা-আলো বাতাস থাকা ভালো। এসিতে থাকতে অসুবিধা নেই।

► নবজাতকের চর্মে তেল মালিস করার কোন স্বাস্থ্য সম্মত কারণ নাই।

► যেসব নবজাতক জন্মের সাথে সাথে শ্বাস নেয়নি বা খিচুনী হয়েছে, তাদের পরবর্তীতে স্বাভাবিক ঘাড় শক্ত হওয়া, বসতে, দাঁড়াতে দেরি হলে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন এবং তাই তাদেরকে শিশু নিউরোলজি/শিশু বিকাশ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে, থেরাপি নিতে হবে। থেরাপি মানে শিশু যে কাজটি সঠিক বয়সে করতে পারেনি, সেটা করতে সহায়ক ব্যবস্থা।

আরও

► শিশুর স্বাস্থ্যকথা: আদর্শ মা ও পরিবার

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত