ঢাকা      রবিবার ১৮, অগাস্ট ২০১৯ - ৩, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. রনজিত রঞ্জন রায়

এমবিবিএস, এফসিপিএস (শিশু), এমডি (শিশু নেফ্রোলজি) এফআরসিপি (গ্লাসগো)
চেয়ারম্যান, শিশু নেফ্রোলজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০, বাংলাদেশ।
 

ডা. মো. বেনজামিন

এমবিবিএস, এমডি রেসিডেন্ট ফেইজ- বি
শিশু পুষ্টি ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শাহবাগ, ঢাকা - ১০০০, বাংলাদেশ।


শিশুর স্বাস্থ্যকথা: আদর্শ মা ও পরিবার

শিশু বলতে আমরা জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত বুঝি। তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা ও ব্যবস্থাপত্র বড়দের চেয়ে ভিন্ন।

► “আমাকে একজন আদর্শ মা দাও, আমি আপনাদের আদর্শ জাতি দিব”-- নেপোলিয়ন।

শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়টা মাতৃগর্ভের পূর্বে কিছুটা নির্ধারিত হয়।  যেমনঃ মায়ের পুষ্টি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সাধারণ জ্ঞান, বিবেচনা, বুদ্ধি, অর্থনীতি এর সাথে কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে, সর্বশেষে পারিবারিক, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, শিক্ষা, ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি।

আদর্শ মা একজন শিক্ষিত মা যার স্বাভাবিক সঠিক ওজন ও বয়স।  ২৫-৪৫ বছর বয়সকে সঠিক গর্ভ ধারনের বয়স হিসেবে পরিগনিত করা হয়।  একজন মায়ের স্বাভাবিক উচ্চতা ৫-৬ ফুট ও ওজন ৫৫-৭০ কেজি হতে পারে।  প্রতিটি মেয়ের মেধা অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর বিয়ে দেয়া বাঞ্চনীয়।  মেয়েটি কর্মজীবি হলে ভালো।

একজন মা গর্ভধারনের পর একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে থেকে নিয়মিত পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সন্তান জন্মদান করলে নবজাতক অনেক ধরনের মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারে।  সেই হাসপাতালে সন্তান প্রসব নিরাপদ, যেই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সহ জরুরী ও প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।  একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ বা শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ প্রসবকালীন সময়ে উপস্থিত থাকা নিরাপদ।  যাতে নব জাতকের কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্তা নিতে পারে।  গর্ভবতী মাকে বেশী বিশ্রাম দিতে হবে।  পুষ্টিকর খাবার যেমন ফলমূল, দুধ, মাছ-মাংস, সঠিক মাত্রায় খেতে দিতে হবে।

উচ্চতা অনুযায়ী স্থুল বা পাতলা না থাকায় শ্রেয়।  অতিরিক্ত তেল চর্বি, চিনি, অস্বাস্থ্যকর খাবার, তাই বর্জন করা ভালো।  মায়ের রক্তশূন্যতা, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বা অন্যকোন অসুখ থাকলে তা চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪০ সপ্তাহ গর্ভধারনের পর ৩ কেজি থেকে ৩.৫ কেজি ওজনের নবজাতক নিরাপদ।  কোন প্রকার জঠিলতা ছাড়া প্রসব একটি বড় অর্জন ও সঠিক জীবন শুরুর প্রথম মাইলফলক, যেমনটি করেছিলেন ১৯৬৯ সালে চাঁদে অবতরনকারী নভোচারীরা।  নবজাতকের পৃথিবীতে আগমন ও চাঁদে পা ফেলা দুটোকেই নিরাপদ অবতরন বা শুরু বলা চলে।

বাল্য বিবাহ ও শিশু বয়সে মা হওয়া, যা বর্তমানে প্রায় ৪৭ শতাংশ তা একটি অভিশাপ ও ক্রটিপূর্ণ সামাজিক ধারনা, এর দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ও অর্থ ঝুঁকি ব্যাপক।  সুস্থ্য ও সুশৃঙ্খল পারিবারিক পরিবেশ নিরাপদ মাতৃত্বের সহায়ক।  পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে শ্বাশুড়ী ননদ, স্বামীর দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন প্রয়োজন, অনেক সময় তাদের আচরণ বা দৃষ্টি ভঙ্গি মাকে স্নায়বিক চাপে রাখে।  নিজের মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ীতে যেমন দেখতে চান নিজের ছেলের বউ মাকে ও তেমন রাখবেন।  মনে রাখতে হবে একজন মা বা অন্য নারী বাসায় বেতনবিহীন, ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত অনেক পুরুষের চেয়ে বেশী কাজ করেন।

বুদ্ধি সম্পন্ন মাতা-পিতা শিশুর স্বাস্থ্য সমস্যা সঠিকভাবে শিশু চিকিৎসকের কাছে উপস্থাপন করেন।  যেমন জ্বর ৩ দিন, মাঝে ৭ দিন ভালো ছিল, এভাবে ১/২ মাস ধরে চলছে, সেটাকে সেভাবে উপস্থাপন করবেন, ২ মাস ধরে জ্বর বলা উচিত হবে না।  তাতে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখতে চিকিৎসক বাধ্য হবেন।  হয়ত দেখা গেছে শিশুটির গলায়, সংক্রমণ হচ্ছে, বড় বড় টনসিল লাল হয়ে আছে।

সুতরাং একজন সচেতন মা বা অভিভাবক হিসাবে সঠিকভাবে রোগের ইতিহাস উপস্থাপন করা প্রয়োজন।  এটা একধরণের আর্ট বা শিল্পকর্ম।  অধিক সংখ্যায় নয়, অধিক গুন সম্পন্ন শিশুই নিজের পরিবার, দেশের ও সকলের জন্য কল্যানকর।  শিক্ষিত সৎ মা ও বাবা কর্মঠ, উন্নত, জাতি গঠনে অপরিহার্য।  আজকের শিশুরা আগামী দিনের যুবক-যুবতী, প্রাপ্ত বয়স্ক, যারা দেশের সমস্ত কর্মকান্ড ও ভবিষ্যতের সাথে সংশ্লিষ্ট।

দ্বিতীয় সন্তান গ্রহণে অন্তত: ২ বছরের ব্যবধান হওয়া ভালো।  অধিক সন্তান গ্রহণ মাতৃঝুঁকি ও শিশুমৃত্যু বাড়ায়।

শিক্ষিত কর্মজীবি মা সন্তানের জন্য নিরাপদ, সে অর্থে তিনি অধিক আদর্শ মা।  তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা দরকার তা করতে পারেন এবং কারো চাপিয়ে দেয়া কোন নিম্নস্তরের অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বর্জনও করেন।  তিনি নিজের সন্তানের পরিচর্যা, লালন, পালন, আর্থিক নিশ্চয়তা বিধানে অধিকতর সক্ষম ও যোগ্য।

উন্নত বিশ্বের মানুষেরা সাধারণত সৎ জীবনযাপন করেন, মিথ্যা কথা বলেন না, লেখাপড়া করেন, কাজে ব্যস্ত থাকেন, অভাবগ্রস্ত হন না।  অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন কম সন্তানের পিতামাতা হতে পছন্দ করেন।  তাই তাদের কাছে পৃথিবীর অধিকাংশ সম্পদ, বিদ্যাবুদ্ধি ও শক্তি।

উন্নত বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখলে চোখের দৃষ্টি আরো ব্যাপ্তি লাভ করবে।  ওখানকার ভালো দিকগুলো গ্রহণকরলে আমরা জাতি হিসেবে আরও সমৃদ্ধির দিকে আগাবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর