২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৪:২৩ পিএম

১৫৭টি দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে বাংলাদেশী ওষুধ

  • ১৫৭টি দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে বাংলাদেশী ওষুধ
  • ১৫৭টি দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে বাংলাদেশী ওষুধ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের বিস্ময়কর উত্থান ঘটেছে। গত ১০ বছরে ওষুধ রফতানি বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৫৭টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। ২০১৮ সালের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসছে। 

রফতানিকৃত দেশের তালিকায় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, কানাডা, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ পৃথিবীর বড় বড় দেশ। 

দেশের রফতানি আয় বাড়াতে সরকার কয়েক বছর ধরে বর্ষপণ্যের ঘোষণা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর চামড়াকে বর্ষপণ্য হিসেবে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়। চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওষুধ শিল্পকে ২০১৮ সালের ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা করেন। যার ফলে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছর এ খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছর এ খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের ওষুধ রফতানি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ওষুধ রফতানিতে আগের বছরের ৭ কোটি ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৮ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ওষুধ রফতানি হয়েছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে ওষুধ খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি ডলার। স্থানীয়ভাবে দেশের চাহিদার প্রায় শতভাগ উৎপাদন করে রফতানি আয়ে বিশাল অবদান রাখছে এই খাত।  এ জন্য সরকারের নজরদারি বাড়ানো একই সঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।

ওষুধ শিল্প মালিকদের মতে, বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বের ছাড়ের সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও ওষুধ শিল্প বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা আর বিশ্ববাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ওষুধ রফতানিতে এশিয়ার শীর্ষে উঠে আসবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান বলেন, উন্নত দেশগুলোতে ওষুধ রফতানি ট্রেড রিলেটেড এ্যাসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (ট্রিপস) চুক্তি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এ চুক্তির আওতায় রফতানিতে শর্ত শিথিল হওয়ায় স্বল্পন্নোত দেশগুলো উন্নত দেশে সহজ শর্তে ওষুধ রফতানি করতে পারে।

তিনি জানান, সম্প্রতি তুরস্ক, কুয়েত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির চুক্তি করেছে। লাইসেন্সিং চুক্তি করে বাংলাদেশের কারখানায় উৎপাদন করে ওষুধ নিতে চায় জাপানী উদ্যোক্তারাও। বিশ্ব বাজারে আমাদের কদর বেড়েছে। আমরা আশা করছি ওষুধ রফতানি করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পোশাক খাতের কাছাকাছি চলে যেতে পারব। বর্তমান বাজারে রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার ধরতে মনোযোগ দিচ্ছে সবাই।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের যাত্রা শুরু হয় পঞ্চাশের দশকের শুরুতে। একাত্তরে স্বাধীনতার কিছু দিন পর বাংলাদেশ ওষুধ উৎপাদন শুরু করে। তখন সিংহ ভাগই নির্ভর করতে হতো বৈদেশিক আমদানির ওপর। ১৯৮২ সালে ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি হয়। এর ফলে বিদেশী ওষুধ কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া বাণিজ্য থেকে দেশী শিল্প মুক্তি পায়। পরবর্তী সময়ে ‘ওষুধ নীতি ২০১৬’ জারি করা হয়। এরপর ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুধুই গল্পের মতোই।

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’
যৌন হয়রানির শিকার শেবাচিমের নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’

যৌন হয়রানির শিকার শেবাচিমের নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি