ঢাকা      সোমবার ২৪, জুন ২০১৯ - ১০, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. আনোয়ার সাদাত

বি.ডি.এস, বি.সি.এস, এম.সি.পি.এস (ডেন্টাল সার্জারী), এফ.সি.পি.এস (ওএমএস), এম.এস (ওএমএস) 
সহকারী অধ্যাপক, শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, বরিশাল
(ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারীতে বাংলাদেশের প্রথম ফেলো)
 


ডেন্টিস্ট্রি

ডেন্টিস্ট্রিতে জীবন গঠন

ডেন্টিস্ট্রিতে জীবন গঠন

মেডিভয়েস ডেস্কঃ  উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশের পর শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের একটি নির্দিষ্ট গতিপথের দিক নির্ধারনের সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ পায়। এ সময়টিতে বিষয় নির্ধারন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উক্ত বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য নিজেকে যোগ্য করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার প্রচেষ্টায় নিজেকে সম্পৃক্ত করাও বাঞ্চনীয়। শুধুমাত্র খেয়াল খুশী মত বিষয় নির্ধারণ অথবা অভিভাবকদের ইচ্ছা পূরণ করার মানসিকতা জীবন গঠনে সব সময় ভালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়- এ কথা যেমন সত্য, তেমনি ঐ বিষয় সম্পর্কে যথাযথ ধরণা না নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। প্রতিটি শিক্ষার্থী তথা অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ শুধু একটি বিষয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, বরং ভবিষ্যতে উক্ত বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা অর্জন করে দেশে বা বিদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাও বটে। তাই জীবন গঠনে কিছু দিক নির্দেশনা অনুসরণ করলে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ কিছুটা হলেও সুগম হয়।
বিজ্ঞানে পড়ালেখা করা ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের পর মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। ডেন্টিষ্ট্রি বিষয়টি মেডিকেল শিক্ষার একটি বিষয় যাতে পড়ালেখা করতে হলে শুরুতেই এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন লেভেলে ভর্তি হতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী উভয় প্রকার প্রতিষ্ঠানেই এ সুযোগ রয়েছে, যার ভর্তি পরীক্ষা মেডিকেল পরীক্ষার সাথে সরকার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের ধারনা এই যে, ডেন্টিস্ট্রি হলো শুধুমাত্র দাঁত নিয়ে পড়ালেখা। আসলে তা নয়। এ বিষয়ে মুখ ও মুখগহবরের সকল অংশের সাথে সাথে মেডিকেলের প্রতিটি বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত এবং ঐ সকল বিষয়ে পাঠদান করেন ডেন্টাল ও মেডিকেল উভয় পেশার শিক্ষক ও চিকিৎসকগন। 
ডেন্টিস্ট্রির গ্র্যাজুয়েশন কোর্সে ভর্তির পর একজন শিক্ষার্থীর যে সকল বিষয়ে মনযোগ দেয়া বাঞ্চনীয় সেগুলো হল:
১.    কোর্সের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিষয়ে মনযোগ দেয়া ও যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বেসিক বিষয়ের প্রতি মনযোগের সাথে সাথে ৩য় ও ৪র্থ বর্ষে ক্লিনিক্যাল বিষয়ের পড়ালেখা ও প্রশিক্ষনে অতীব মনযোগী হওয়া বাঞ্চনীয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বই, জার্নাল, ইন্টারনেট এর সাথে সাথে রোগীরাও জ্ঞান অর্জনের উৎস হিসেবে বিবেচিত। ভালো চিকিৎসক হতে হলে থিওরেটিক্যাল জ্ঞানের সাথে রোগীর রোগের লক্ষন সমন্বয় করেও চিকিৎসা প্রদানে সংশ্লিষ্ট থেকে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করলে পেশায় অনেক বেশী সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে "I Hear, I Forget; I See, I Remember; I Do, I Understand"- উক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করা যেতে পারে। 
২.    বি.ডি.এস. পড়ার সময় পরীক্ষায় পাশের লক্ষ্যের সাথে সাথে এ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে ভালো চিকিৎসক হওয়া, শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, বিদেশে বৃত্তি পেয়ে পড়তে যাওয়া, উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করা ও একজন আদর্শবান চিকিৎসক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য নিজের চিন্তা চেতনাকে ধাবিত করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে একাধারে শিক্ষক ও চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন লেভেলে (বি.ডি.এস.) বেসিক ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ে পরিপক্কতা অর্জন ব্যাতিরেকে উচ্চ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট লেভেলে ভালো করা সম্ভব নয়। প্রতিটি শিক্ষা স্তম্ভের জ্ঞান ও প্রশিক্ষনের গুরুত্ব আলাদা। যে কোন একটি স্তম্ভের কোন উপাদনকেই অগ্রাহ্য করে পরবর্তী স্তরে সাফল্য অর্জন আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হলেও অদূর ভবিষ্যতে তার দুর্বলতা উপলব্ধি করা যায়।
৩.    ডেন্টিস্ট্র্রিতে পড়ালেখার পর একজন ডাক্তারকে এক বছরের ইন্টার্নী সম্পন্ন করতে হয়। এ সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডেন্টিস্ট্রির সকল বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন ও প্রশিক্ষন গ্রহনের এটাই একমাত্র সুযোগ। একটি বিষয়ের সাথে আরেকটি বিষয়ের অনেক মিল রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীরা ভুলবসত: উচ্চতর শিক্ষা ও ডিগ্রী অর্জনের জন্য এ সময় পড়ালেখায় মনোযোগী হয় ও প্রশিক্ষণে অবহেলা দেখায়। মনে রাখা প্রয়োজন যে, উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের সময় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ হয় মাত্র। তাই পুরো ইন্টার্নী সময়ে পেশায় যারা শৈথিল্য দেখায় তাদের পক্ষে একজন পরিপূর্ণ চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া শুধু জ্ঞান অর্জন একজন ডাক্তারের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া কাম্য নয়; এর সাথে সাথে তাকে দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া, রোগীর প্রতি চিকিৎসায় মনযোগী হওয়া, চিকিৎসক হিসেবে পরিবেশ ও নিজের সমাজের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অভ্যাস তৈরী করা, তথা পারিপার্শ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে নিজের ভূমিকা রাখার চর্চায় সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এ স্তরে এ সকল বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা, নিজের ভবিষ্যতের ভিত্তিকে দুর্বল করা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইন্টার্নী চলাকালীন প্রতিটি বিভাগে কার্যকালীন সময়ে বিষয়ভিত্তিক রোগ সম্পর্কে অধ্যয়ন করলে রোগীর চিকিৎসা সেবা যেমন উন্নত হয় তেমনি এর মাধ্যমে পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অগ্রসর হওয়া যায়।
৪.    ইন্টার্নী সম্পন্ন করার পর একজন দন্ত চিকিৎসকের কিছু বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। নিজের দেশে প্রতিষ্ঠিত হবার ইচ্ছা না বিদেশে অবস্থান করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ বা প্রতিষ্ঠিত হবার বাসনা; দেশে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করার ইচ্ছা নাকি শুধুই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার পরিকল্পনা; দেশের যে কোন জেলা, উপজেলায় চাকুরী করার মানসিকতা আছে কিনা- এ সব বিষয় মাথায় রাখতে হবে। দেশে বিদেশে নানা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বেসিক সাবজেক্ট না ক্লিনিক্যাল সাবজেক্ট- কোন বিষয়ে ইচ্ছা বা তার সিদ্ধান্ত নেয়া; ক্লিনিক্যাল বিষয়ে পড়ালেখার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ, মানসিকতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের যোগ্যতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এ সব কিছুই বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। একজন নতুন চিকিৎসক ইন্টার্নী সম্পন্ন করে বি.এম.ডি.সি রেজিট্রেশন প্রাপ্তির পর নিজে প্র্যাকটিস করার সুযোগ পায়। তবে উন্নত বিশ্বে ও আমাদের অনেক পার্শ্ববর্তী দেশেও এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনই সেল্ফ প্র্যাকটিস করার ক্ষেত্রে একমাত্র মাপকাঠি হওয়া প্রয়োজন। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হলে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সময়ের যথাযথ সদব্যবহারের বিবেচনায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক একটিভিটির সাথে জড়িত হলে অথবা শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করলে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ হয়।
ইন্টার্নী সময়কালীন প্রশিক্ষণ শেষে যে কোন চিকিৎসক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে পারেন। প্রশিক্ষনার্থী ন্যূনতম ৬ মাস উক্ত প্রশিক্ষন গ্রহন করলে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হন। এক্ষেত্রেও যথাযথভাবে প্রশিক্ষন গ্রহন করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষনার্থীদের এ কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, তাকে উক্ত সময়ে নিজের প্রশিক্ষনের সাথে সাথে ডাক্তার হিসেবে রোগীর চিকিৎসা প্রদান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ও ইন্টার্নী ডাক্তারদের কাজেও সহযোগীতা প্রদান করতে হবে। শুধু নিজের জন্য চিন্তা স্বার্থপরতার সামিল এবং এ ধারনা চিকিৎসা ব্যবস্থার মূলনীতির সম্পূর্ণই পরিপন্থী। এ সময়কার প্রশিক্ষনার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সের প্রশিক্ষনের সাথে সমন্বয় করা যায়। তাই এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে আরো যোগ্য করা সম্ভব। মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রশিক্ষন সময়ে অন্যের উপর নির্ভর না করে বা অপেক্ষায় না থেকে নিজের কার্যপরিধি নিজেকেই তৈরী করে নিতে হবে। 
বিদেশে ডেন্টিস্ট্রিতে উচ্চ শিক্ষার অনেক সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানীতে সুযোগ নেয়া যেতে পারে। বিদেশে পড়ালেখা, প্রশিক্ষন ও স্থায়ীভাবে অবস্থানের মূল সিদ্ধান্ত ডাক্তার হওয়ার পরপরই নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ক্লিনিক্যাল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। নিজের দেশে সময় অতিবাহিত করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরবর্তিতে বিদেশে অবস্থানের সিদ্ধান্ত অবান্তর এবং প্রায় ক্ষেত্রে এটি অসম্ভবও বটে। তবে বেসিক সাবজেক্ট ও কমিউনিটি হেলথ এ সহজে এম.এস.সি. ও পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী নেয়া সম্ভব। তাছাড়া উচ্চতর ডিগ্রী ছাড়াও প্র্যাকটিস এর জন্য লাইসেন্সিং এক্সাম দিয়ে লাইসেন্স নেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। তাই জীবনের শুরুতেই এ প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করলে সহজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। অনেককেই দেখা যায় উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিজ দেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষনে অনীহা দেখায়, যাতে করে ভবিষ্যতে বিপদে পড়া কিংবা সময়ক্ষেপনের সুযোগ রয়েছে। কারন বিদেশে পড়ার সুযোগের পূর্ণ নিশ্চয়তা কখনোই নেই। অপরদিকে যারা নিজ দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় তাদের নিজ দেশের উচ্চতর ডিগ্রী যেমন- ডি.ডি.এস, এম.সি.পি.এস, এফ.সি.পি.এস, এম.এস, এম.ফিল, এম.পি.এইচ, পি.এইচ.ডি এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে খন্ডকালীন সময়ের জন্য বিশেষ কোন টপিক এর উপর যে কোন দেশে প্রশিক্ষণ বা পড়ালেখার সুযোগ করা সম্ভব। তবে নিজ খরচে যে কোন দেশেই এ প্রশিক্ষণ নেয়া যেতে পারে নিজস্ব¦ যোগাযোগের মাধ্যমে, যা এই ইন্টানেটের যুগে খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। প্রশিক্ষণের জন্য এমন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে পছন্দ করা উচিৎ যেখানে রোগীর সংখ্যার আধিক্য ও নিজে হাতে কলমে প্রশিক্ষন গ্রহন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, চায়না ও কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। তবে Basic Subject or Public Health এ পড়ালেখার ক্ষেত্রে England, America এর মত উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে পছন্দের তালিকায় রাখাই শ্রেয়।
প্রতিযোগিতার এ বিশ্বে শুধু পড়ালেখা ও প্রশিক্ষন গ্রহন করে ভাল ডাক্তার হওয়া বা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। Clinical Skill I  Knowledge Building কে Basic Skill হিসেবে ধরা হয়, যা বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বেসিক স্কিল এর পাশাপাশি সফট স্কিল এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যার মধ্যে Communication Skill, Managerial Skill and Continuing Professional Development (CDP)  অন্তর্ভুক্ত। পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে প্রবেশের পর গতানুগতিক ধারায় চলতে থাকলে উপরোল্লিখিত বেসিক স্কিল সীমিত পরিধিতে অর্জন করা সম্ভব। এ সময়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচ্য নীচে উল্লেখিত বিষয়গুলো, যা একজন ডাক্তারকে যেমন নিজের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করে কোর্স সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, তেমনি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার দিকটুকুও কাজে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে:
১.    কোর্সে থাকাকালীন পুরো সময়টিতে নিজের করনীয় নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন প্রথমেই।
২.    পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে শুধু শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বা পাঠগ্রহন পদ্ধতি পৃথিবীর প্রায় সকল দেশে অনুৎসাহিত হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসার সাথে সাথে এ শিক্ষার চর্চায় ব্যবহারিক বিদ্যা অর্জন অনেকখানি সম্ভব যার মাধ্যমে Academic Institute 
এ Patient Service অনেক উন্নত হয়। জ্ঞান অর্জনে সহায়ক সকল শিক্ষা উপকরণ থেকে রোগী ও রোগকে আলাদা করে রাখা যাবে না কোন ভাবেই।
৩.    পূর্ণ প্রশিক্ষনকালীন সময়েই সাধারণ রোগগুলো সম্পর্কে যুগোপযোগী ধারনা রাখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, একজন প্রশিক্ষণার্থী তারা শিক্ষা গ্রহনের পাশাপাশি রোগীর সেবা প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তাই প্রশিক্ষনকালীন সময়ে এরূপ আপডেটেড জ্ঞান না থাকলে রোগীরা তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়, যা মোটেও কাম্য নয়।
৪.    জ্ঞান অর্জনের অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে শুধু পাঠ্য বই জ্ঞান অর্জনের একমাত্র উপকরণ। দ্বিতীয় ধাপে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞান অর্জন বাঞ্চনীয়, যা সম্ভব পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি জার্নাল অধ্যায়ন করার মাধ্যমে। তৃতীয় ধাপের জ্ঞান অর্জন সম্ভব দেশে বিদেশে খ্যাতিমান ব্যক্তির অনুসরণ বা তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভাগে প্রশিক্ষন ও শিক্ষা গ্রহনে নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে, যা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী অর্জনের পর অনুসরণ করা বাঞ্চনীয়।
৫.    প্রশিক্ষনকালীন সময়ে যত বেশী ব্যবহারিক কাজ করা যায় তত বেশী যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব। অনেকে কাজ করে শিক্ষা লাভ ও কাজে ভুল করে শিক্ষা নেয়ার বিষয়টিকে খুব সহজেই মেনে নেন। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একটি বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে নিজের কর্মক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে পারদর্শীতার অনুসরণে কাজ করলে নিজের শিক্ষা যেমন যথাযথ হয়, তেমনি রোগীর স্বার্থও বিবেচিত হয়। শিক্ষা ও গবেষনার জন্য এমন কিছু করা যাবে না, যা রোগীর উপকারে আসে না বা অপকার হয়। এ বিষয়ে প্রত্যেককে Medical Ethics  সম্পর্কে শুধু জানলেই হবে না; বরং তা প্রতিনিয়ত চর্চাও করতে হবে Seminar, Workshop, Symposium এর মাধ্যমে।
৬.খন্ড খন্ড প্রশিক্ষণের চেয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষনের গুরুত্ব অনেক বেশি। শুধু চিকিৎসা প্রদানে যতটুকু শিক্ষা গ্রহন করা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক বেশী সম্ভব প্রতিনিয়ত রোগীর সমস্যা, চিকিৎসার উন্নতি অবনতি পর্যালোচনার মাধ্যমে। Recording এর মাধ্যমে নিজের কাজের পর্যালোচনা করে নিজের স্কিল ডেভেলপ করা ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস এর সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
৭. পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনে যেমন মনযোগী হওয়া প্রয়োজন, তেমনি জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানকে স্থায়ীরূপ দেয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিজের অবদান রাখা এবং সমাজের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া সকলেরই ব্রত হওয়া উচিত। আজকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেকের অনেক প্রচেষ্টায় অর্জিত সাফল্য আমরা অনুসরণ করি। আমাদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুসরনীয় হওয়া প্রয়োজন।‍ Read, Read, Read; Read to Write; Write to Read ’ এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক Journal এ লেখার অভ্যাস এ সময় থেকেই করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ডিগ্রী অর্জনের জন্য একজন শিক্ষার্থীর বছরে ১২০০ ঘন্টা অধ্যয়ন করা প্রয়োজন, যা হিসেব করলে দাঁড়ায় সপ্তাহে ৩০ ঘন্টা ও দিনে ৪ ঘন্টা থেকে ৪.৫ ঘন্টা। তবে এ অধ্যয়ন হতে হবে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে। অধ্যয়নে আনন্দ ও আগ্রহ অনুভব করে তা প্রয়োগের চেষ্টাই শিক্ষাকে পরিপূর্ণ রূপ দান করে। "Students who do best, often just enjoy the subject. So they read, think & talk about it more. They don't necessarily see it as 'Study'. Looking for enjoyment can help to ensure success". 
৮.    সর্বোপরি একজন ডাক্তারকে তার প্রশিক্ষণকালে নিজ কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। শুধু নিজের প্রশিক্ষনের স্বার্থ না দেখে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উন্নয়ন, চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন ও পরিবর্তন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করা উচিৎ, যা একজন সফল বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।
Post Graduate ডিগ্রী অর্জনের পর পড়ালেখা ও প্রশিক্ষন শেষ হয়ে গেছে- এমন ভাবনা একেবারেই ভুল। একটি স্পেশালটিতে প্রবেশের পর তার প্রতি দায়িত্ববোধ বেড়ে যাওয়া উচিৎ এবং সে আলোকে নতনু নতুন বিষয়ের সাথে দেশে বিদেশে উক্ত বিষয়ের উন্নতি সাধন করা প্রয়োজন। এ ধারনার আলোকে নিজেকে সম্পৃক্ত করলে পেশাগত উন্নতির সাথে সাথে নিজের যে উন্নয়ন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শুধু ডিগ্রী অর্জন ও রোগীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে চিকিৎসা সমাজের উন্নয়ন পুরোপুরি সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও জার্নালে প্রকাশনা করা- যার মাধ্যমে গ্লোবাল ভিলেজে নিজেকে, নিজের পেশা ও বিষয়কে কিংবা দেশকে সম্পৃক্ত করা যায়।
উপসংহারে এ কথা বলা যায় যে, শুধুমাত্র গতানুগতিক ধারায় না চলে নিজের মেধা, যোগ্যতা ও আদর্শের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পেশা, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার কথা বিবেচনায় ডেন্টিস্ট্রি অথবা যে কোন বিষয়ে নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করলে নিজের উন্নয়ন যেমন সম্ভব, তেমনি সম্ভব একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা।

ডা: এস. এম. আনোয়ার সাদাত

লেখাটি মেডিভয়েস এর প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর