ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. নাজমুল ইসলাম

মেডিকেল অফিসার

মেডিসিন বিভাগ, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ


মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার হতো!

আমার এসএসসি পাশের যোগ্যতা ছিল না। স্যারদের কথামত-‘‘ও কোন দিন পাশ করতে পারবে না। ও পাশ করলে আমাদের নাম ঘুরিয়ে রাখবেন।’’ আব্বুকে ডেকে এসব কথা বললেন স্কুলের স্যারেরা।

এইচএসসিতে আমাকে টেস্ট পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। নিজের ফুফু কলেজের টিচার ছিলেন। আব্বুকে ডেকে নিয়ে কয়েকবার অপমান করা হলো। বলা হলো ‘‘কী ছেলে আপনার!লেখাপড়া করে না। হুদাই টাকা নষ্ট করছেন।’’

আমার মনে পড়ে স্পষ্ট, আব্বু কী বলেছিলেন! বাসায় এসে আব্বু বলেছিলেন ‘‘তোমার স্যারেরা হুদাই পেচাল পারে।কামের স্যার না এসব। আমি জানি তুমি পারবে। উনারা না বুঝেই এসব বলছেন।’’

যে ছেলে এসএসসিই পাশ করতে পারবে না! সেই ছেলে আজকে এমবিবিএস ডাক্তার। আমার স্কুলের ইতিহাসে সবথেকে ভালো রেজাল্ট আমার (এখন পর্যন্ত)। বাংলা বাদে সব সাবজেক্টে এ প্লাস পেয়েছিলাম। আমাদের সময়ে নকল বা প্রশ্ন ফাঁস ছিল না। এইচএসসিতেও ভালো জিপিএ পেয়েছিলাম (৪.৭০)।

আমি আমার আব্বুকে নিয়ে লিখি নাই কখনো। আজকে দুই একটা কথা লিখছি। আব্বু সন্তানদের ব্যপারে কারো কথা পাত্তা দিতেন না। খুব আত্মবিশ্বাসী মানুষ। কাউকে অযাচিত কষ্ট দেন না। কিন্তু কেউ অপমান করলে ছাড়েন না। অসম্ভব সাহসী মানুষ। নিজে আমাকে আমার ভুলের জন্য বহু বকেছেন, মেরেছেন। কিন্তু কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে কোন দিন কিছু বলেন নাই। উল্টো ধুয়ে দিয়েছেন তাকে।

সবসময় পিঠ চাপড়িয়ে দিয়েছেন। বলতেন এগিয়ে যাও। ডাক্তারি জীবনে বেশ কয়েকটা চাকরি ছাড়লাম। কারণ সেখানে সন্মানহানী হবার চান্স ছিল। আব্বুকে বলার সাথে সাথে বললেন ‘‘সন্মান বিকিয়ে কিছু করার দরকার নেই।’’

আমার বন্ধু লেভেলে যারা আছেন তাদের একটা কথা আমি খুব বলি, আমি যদি আমার আব্বুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এক ভাগও অর্জন করতে পারি। তাহলে আমাকে কোনদিন পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

বাবাদের মেরুদণ্ড থাকতে হয়। অন্যের কথায় সন্তানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে হয় না। ৩৯ বিসিএসে চেনাজানা প্রায় সবারই বিসিএস হয়েছে। আমার হয়নি। সত্যি বলতে আমার সামাজিক কাজের জন্য সেসময় লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারিনি। একদম পড়িনি। বিসিএস হয়নি জেনে আব্বু ফোন বললেন- ‘‘বাজান নো চিন্তা। বিসিএস হয়নি ভালো হয়ছে।বিসিএস হলে তুমি ডিউটি চুরি করতা।’’

একটা জিপিএ ৫ / বিসিএস/এফসিপিএস ডিগ্রী জীবনের সব কিছু না। জীবনের মুল্য সবথেকে বেশি। আমি যা তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার মধ্যেই জীবনের সাফল্য। বেঁচে থাকতে হবে। বেঁচে থাকার সাহস থাকতে হবে। বেঁচে থাকলে সফলতা আসবেই। আত্মহননে নয়!

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের যে মেয়েটি আত্নহত্যা করলো তিরস্কারের কারণে, মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার, গোল্ডা মায়ার হতে পারতেন। মরে যাওয়াতে সব শেষ।

আমরা বেঁচে থাকবো এই পণ করি। অন্যের তিরস্কারে আমরা সামান্য বিচলিত বোধ বা অন্যের প্রশংসায় সামান্য পুলকিত বোধও করবো না।

জীবন আমার! সিদ্ধান্ত আমার! সে সিদ্ধান্ত হোক মেরুদণ্ড উঁচু করে বেঁচে থাকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

ইন স্টিমের উপরে কাঠবাদামের আকারের অঞ্চলটির নাম "এমাগডেলা"। লিম্বিক সিষ্টেমের দুটি অংশ…

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী…

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

"স্যার আদাব, অপিসি পয়সনিং, পুলিশ কেইস..." মোবাইলে ইমার্জেন্সী চিকিৎসকের ফোন পেয়ে আউট…

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

এফসিপিএস সেকেন্ড পার্টের জন্য তিন বছর ট্রেনিং লাগে। তিন বছর শুনতে যত…

কোন শিক্ষার্থী যেন হতাশায় না ভূগে

কোন শিক্ষার্থী যেন হতাশায় না ভূগে

আমার স্কুলজীবনে,আমার মায়ের কাজ ছিলো,আমার প্রতি স্কুলে প্রত্যেকটা টিচারকে অনুরোধ করা,তা হলো…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর