ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:০৮ পিএম

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ক প্রচারণা নিয়ে কিছু কথা

ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ক প্রচারণা নিয়ে কিছু কথা

হঠাৎ চোখে পরলো মহিলারা টপলেস হয়ে নদীতে গোসল করছে, ছেলেরাও একই সাথে গোসল করছে। লং পেট্রোলে গিয়ে মালির এক গ্রামে নাইজার নদীর পারে আচমকা এই দৃশ্য দেখে খানিকটা ইতস্তত লাগলো।

পরে পরিচিত এক মালিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই একবিংশ শতাব্দীতেও এসে এমন অবস্থা কেন? এটা আসলে তাদের সংস্কৃতির অংশ। মুসলিম প্রধান দেশে অপেক্ষাকৃত কম দেখা গেলেও আফ্রিকার অনেক গ্রাম এলাকায় এখনো এটা সাধারণ দৃশ্য।

এবার মালির রাজধানী বামাকোতে এসে এক হাসপাতালে গেলাম৷বসে আছি, অনেক লোক। এক মহিলার বাচ্চা কেঁদে উঠল। ওমনি সবার সামনে মহিলাটি বাচ্চাকে স্তনপান করানো শুরু করল।

আশেপাশের পুরুষদের দিকে নজর দিলাম।কি করে তারা। কিন্তু কেউ সেটাকে কিছু মনে করল না, তাকলোও না সেদিকে।

দুনিয়ার সব মেয়েরই ব্রেস্ট আছে। মানব দেহের একটি অঙ্গ হিসেবে এটিকে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত। তবে যৌন উত্তেজক অঙ্গ হিসেবে ব্রেস্টের যতটা গুরুত্ব, তার চেয়েও এটির বড় গুরুত্ব শিশু খাদ্যের উৎস হিসেবে।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী দুনিয়ার সকল শিশুই যোনীপথে জন্মগ্রহণ করে, আর স্তনপান করে বড় হয়।

অথচ এই দুটি অঙ্গকেই শুধু আমরা যৌনাঙ্গ ছাড়া আর অন্য কিছু হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

কিছুদিন হল সানাই নামক এক নায়িকার ভিডিও, ছবি দিয়ে ফেসবুক সয়লাব। এই মহিলাটি তার ব্রেস্ট কৃত্রিমভাবে প্রতিস্থাপন করে সবার চোখে পরার মত বেশ বড়সর করেছে এবং তা আবার পরোক্ষভাবে প্রদর্শনও করছে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গী করে।

কোন এক সাক্ষাৎকারে এটাকে সে নারীর ক্ষমতায়নের একটা দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অথচ তার সব কথাবার্তায় এমন অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করেছে যে ব্রেস্টকে একটি শারীরিক অঙ্গের চেয়ে যৌনাঙ্গ হিসেবেই সে মনে করে। এটি আসলে পুরো নারী জাতির জন্য লজ্জাজনক।

এখন পর্যন্ত তার এমন কোন এক্টিভিটিস নেই যেখানে যৌন সুড়সুড়িমুলক দেহপ্রদর্শন, অংগভঙ্গি বা কথাবার্তা সে উপস্থাপন করেনি। ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট অনেকেই করে।

একসময়ের পর্নস্টার, এখনকার বলিউড তারকা সানি লিওনও ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করেছিলো। কারণ সেটাই তার আয় রোজকারের মূল উৎস ছিল।

আবার ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে এঞ্জেলিনা জোলি আগেই অপারেশন করে তার ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করে। যাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণে অপারেশন করে ফেলতে হয়, তারাও ইমপ্লান্ট করে সামর্থ্য থাকলে।

প্রয়োজন এক জিনিস, কালচার আরেক জিনিস। এগুলোতে অশ্লীলতা থাকে না। আফ্রিকান দেশগুলোর অনেক জায়গায় কালচার হিসেবে ব্রেস্ট খুবই স্বাভাবিক অঙ্গ, আবার ভারতীয় উপমহাদেশে এটি ট্যাবু অঙ্গ।

আঠারো সালে দক্ষিণ ভারতে যখন ব্রেস্ট ট্যাক্স আরোপ হল, তখন এর বিরুদ্ধে নারীরাই আস্তে আস্তে আন্দোলন শুরু করল, নালেংগি নিজের স্তন কেটে প্রাণ দিল।

সে সময় নিম্নবর্ণের নারীরা তাদের স্তন ঢেকে রাখতে পারত না। কেউ যদি ঢেকে রাখতে চাইতো, তাকে কর দিয়ে ঢেকে রাখতে হত। এটাকেই ব্রেস্ট ট্যাক্স বলা হয়। একেক দেশের একেক নিয়ম, সংস্কৃতি, মুল্যবোধ।

এগুলোকে সম্মান করা উচিত। জাতিসংঘের তিনটি কোরভ্যালুর একটি হল রেস্পেক্ট ফর ডাইভারসিটি। একেক দেশের, একেক জাতির একেক কালচার; সেগুলোকে সম্মান করতে হবে।

ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করে ঐ মহিলা যেভাবে প্রদর্শন করছে, তা আমাদের দেশীয় কালচারের সাথে যায় না।

ফেসবুকে ছোট, বড়- সব ধরণের মানুষ আছে। আর এসব দ্বিতীয় শ্রেণীর কিছু মডেল নামক দেহ প্রদর্শনীরা বিভিন্নভাবে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিনে দিনে আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।

তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া তো দূরে থাক বরং অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা উচিত। এরা নিজেরা খারাপ তো খারাপই, সাথে সাথে অন্যদেরকেও প্রভাবিত করে তাদের পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি