ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



আসির মোসাদ্দেক সাকিব

ডেন্টাল সার্জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


মশার মতে দেখতে পোকাটি আসলে কী!

ইদানীং মশার মতো দেখতে এক পোকার উপদ্রব বেড়েছে বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায়। অনেকে নতুন কোন রোগের বাহক ভেবে শংকিত। তাই ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য লিখছি।

ঢাকা শহরে হঠাৎ প্রকোপ বাড়াতে সবার ভয় লাগছে, রাজধানী বলে কথা। তাই, দুচারটা কথা বলি। প্রথম কথা হলো এটা মশা না, এরা অনেকটা মাছি বলা যায়। রক্তপায়ী পতঙ্গদের জুলজিতে মিজ (midge) বলা হয়। এই মিজরা দুই রকম। কেউ কেউ অনেক উপরে উড়তে পারে এদের Highland Midge বলে, আবার কেউ কেউ কয়েক ফুট বেশি পারে না এদের lowland midge বলে। পতঙ্গ জগতের শ্রেণিবিন্যাসে মিজদের পরিবারের একটা কঠিন নাম আছ "সেরাওপোগোনিডি" ceraopogonidae। এই পরিবারে ৫০০০ বর্গ আছে।

আমরা এই পোকাকে যারা ভয়ানক কালাজ্বরের বাহক sand fly ভাবছি তাদের জন্য সুখবর হলো স্যান্ড ফ্লাই রা lowland midge এবং অনেকটা এন্ডেমিক। কিন্তু এই কালো পোকা আমাদের "মশা" নামক পরিচিত পোকার মতই highland midge এবং ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে খুব বেশি দেখা গেলেও পৃথিবীর প্রায় সবখানেই আছে। নাটরা ল্যাম্পপোস্টের চারপাশে ঘুরতে থাকা অসংখ্য পোকার ভেতরে একদম সুলভ। কোথাও হাঁটার সময় মাথার উপরে ঝাঁক বেঁধে ঘুরতে থাকা পোকা গুলোও সেরাওপোগোনিডি সেরাওপোগোনিডি পরিবারের ৫০০০ গণের ভেতরে আমাদের এই আলোচ্য পোকা leptoconops গণের অন্তর্ভুক্ত নিরীহ মাছি।

মানুষ এদের কামড়ে বিরক্ত হয়ে নাম দিয়েছে নাট (gnat) এই আলোচ্য কালো সদস্যকে black gnat বলে। এর খুব কাছাকাছি একটা জাতিভাই হলো fungus gnat বা winter gnat। আমরা যেই স্যান্ড ফ্লাই মনে করে এদের দোষারোপ করছি এরা তেমন কিছুই না। তেমন কোন রোগও ছড়ায় না কিন্তু কামড় খুব জ্বালাময়। এগুলো শীতকালে উষ্ণতার সন্ধানে ঘরের ভেতর বেশি আসে আবার গ্রীষ্মকালে তেমন থাকে না। বেচারারা বাঁচার দায়ে রক্তপায়ী হলেও আজ পর্যন্ত বদমাইশি করে কোন রোগ ছড়াইসে বলে ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি।

এই পোকা বহু বছর ধরেই ছিলো আমাদের শহরে কিন্তু ইদানীং উপদ্রব বাড়ার কারণ হলো ঢাকার আশেপাশের এই পোকাদের আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া। এরা ঝোপঝাড়ে, জমির খোপরে থাকতো যা মানুষ দ্বারা নষ্ট হচ্ছে বিল্ডিং বানানোর জন্য ফলে জনবসতিতে ঢুকে পড়া ছাড়া এদের গতি নেই। আপনারা এই পোকা থেকে বাঁচতে চাইলে সাধারণ মশার মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এর দমনের জন্য বিভিন্ন সাইটে একটা সহজ উপায় পাওয়া যায়। এটা ঠিক বেগুন ক্ষেতে পোকা দমনের মতোই। এক গামলায় পানিতে ডিশ ওয়াশিং লিকুইশ ও ভিনেগার মিক্স করে তার মাঝে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘর অন্ধকার করে রেখে দিলেই হলো। এরা আলো আর তাপ পছন্দ করে তাই উড়তে গিয়ে ক্ষার এসিডের মিশ্রণের পৃষ্ঠটানহীন পানিতে পড়েই ডুবে যায়। এটা আমি নিজে পরীক্ষা করিনি তবে বিভিন্ন সাইটে ইফেক্টিভ বলে লেখা আছে। যেহেতু এরা রোগ ছড়ায় না তাই মিজদের নিয়ে বেশি চিন্তা করে লাভ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নাকের এলার্জিতে করণীয়

নাকের এলার্জিতে করণীয়

এলার্জিক রাইনাইটিস অথবা নাকের এলার্জি নাকের একটি এলার্জি জনিত সমস্যা যাতে নাকের…

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

রক্ত জীবন বাচায়,রক্তেই জীবন যায়।  হ্যাঁ, নিজ পরিবারের (বাবা, মা, সন্তান, ভাইবোন)…

গাউট বা গেঁটেবাত

গাউট বা গেঁটেবাত

আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড নামে এক প্রকার উপাদান থাকে। এই…

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যথা হলেই অনেকে মাইগ্রেন ভেবে নেন। এমন ধারণা আমাদের মধ্যে অনেকেরই আছে।…

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ে ডায়াবেটিস শুরু হলে বা প্রথমবারের মত ধরা পড়লে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর