ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী

নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার না হলে মহাবিপর্যয় ঘটবে

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মহা আতংকের নাম। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে এবং রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা নিয়ে মেডিভয়েসের সাথে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরুসাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুন ওবায়দুল্লাহ।


মেডিভয়েস : অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলতে কী বুঝায়?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বলতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলা বুঝায়। প্রায় সব ওষুধই কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা। অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতা কমা বা হারানোর প্রক্রিয়াটি মূলতঃ মানুষের শরীরের মধ্যে কিছু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর ক্ষেত্রে পার্থক্যটা হচ্ছে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে জীবাণুগুলোর মধ্যে।
 

জীবাণুগুলোর সাথে অ্যান্টিবায়োটিকের বারবার দেখা হওয়ার কারণে একসময় জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার সামর্থ অর্জন করে। জীবাণুর বেঁচে থাকার নতুন কিছু কৌশল শিখে ফেলার কারণে ওই ওষুধটা আর তখন আর ঐ জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর থাকে না। এধরনের ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবসগুলোকেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মাইক্রোবস বলা হয়।
 

মেডিভয়েস : কিভাবে বুঝবো আমার শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়েছে কী না?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আমাদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে, মানুষ বা তার শরীর বোধ হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়। আসলে কিন্তু মোটেই তা সঠিক নয়, ধারণাটা ভুল। কোনো মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয় না, রেজিস্ট্যান্ট হয় ব্যাকটেরিয়া।  অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে মানুষ কোন বিশেষ বিশেষ ওষুধের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারে, যেমন: অ্যাজমা, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ইত্যাদির কোন কোন ওষুধের ক্ষেত্রে।
 

মেডিভয়েস : এটাকে মহাবিপর্যয় বলা হয় কেনো?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: এটাকে মহাবিপর্যয় বলার কারণ হলো, আজ থেকে ৭০-৮০ বছর আগে যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ছিলো না, তখন মানুষ সাধারণ রোগ-ব্যাধি যেমন: সর্দি-কাশি- ছোটখাটো কাটাছেড়ায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মারা যেতো। এই সাধারণ রোগগুলোর উপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পেনিসিলিন ও অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মানুষ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে তাদের জীবনযাত্রা নিরাপদ করেছিলো। কিন্তু বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়ার উদ্ভবের ফলে মানুষ ফিরে যাচ্ছে প্রাক-অ্যান্টিবায়োটিক যুগে।

 

সেই যুগে মানুষ মারা যেতো অ্যান্টিবায়োটিক না থাকার কারণে। কিন্তু আগামীদিনে মানুষ মারা যাবে অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে। বিগত ২০ বছরে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হয়নি এবং আগামী ১০ বছরও যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে মানুষকে আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে আর কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। এই ভয়াবহ ভবিষ্যতের আশংকা থেকেই এটাকে মহাবিপর্যয় বলা হয়।


 

মেডিভয়েস : কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন? চিকিৎসার উপায় কী?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: পৃথিবীর সকল মানুষই এই ঝুঁকিতে আছে। কারণ ব্যাকটেরিয়া দেশ, মানুষ, ধনী-গরীব, গায়ের রং এগুলো চিনে না। তবে শিশু, বৃদ্ধ, সার্জারি করা রোগী, ক্যান্সারের রোগী, নোংরা পরিবেশে বসবাসকারী বা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষেরা সাধারনভাবেই একটু বেশী ঝুঁকিতে আছেন।
 

ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে চিকিৎসার প্রধান উপকরণ হলো, নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন। এ ব্যাপারে পৃথিবীর গবেষণাগারগুলোতে খুবই স্থবিরতা বিরাজ করছে। হয়তো আগামী ৬ বা ৭ বছরের মধ্যে দু একটা সত্যিকারের নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হবে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের হাতে থাকা অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে খুব সাবধানে ও বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে হবে। অনেকটা লুকোচুরি খেলার মতো করেই পুরানো অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে সুকৌশল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রয়োগ করে আমাদের আরো কিছুদিন ব্যাকটেরিয়াগুলোকে পরাস্ত করতে হবে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াইটা চলবে।
 

আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইসিইউগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে প্রায়ই কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কোন অ্যান্টিবায়োটিকই কার্যকর নয়। এ অবস্থায় ডাক্তারদের অসহায় অবস্থায় তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছু করার থাকে না। এটা হয়তো বর্তমানে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হচ্ছে, কিন্তু আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটা বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হয়ে যাবে। সে কারণে এখনই খুব সাবধানতার সাথে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা শুরু করতে হবে।
 

মেডিভয়েস : আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা কেমন?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আমাদের দেশে ২ লাখ ৩০ হাজার ওষুধের দোকান আছে। প্রতিদিন তারা যদি দুইজন লোকের কাছেও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করে, তাহলে তারা প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ মানুষকে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছে। এটা হলো বাংলাদেশের মাত্র এক দিনের চিত্র। এই ওষুধের দোকানগুলোকে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ঢাকাতেই যাচ্ছে না, আর ঢাকার বাইরে তো দূরের কথা। সেজন্যে আসলে মানুষকেই সচেতন হতে হবে। অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তির পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাবে না, কারণ এটা হয়তো আমাকে বর্তমানে কিছু সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু আমার বাচ্চার ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ওষুধের দোকান খুলে রাখলেও সাধারণ মানুষ যদি নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে যায়, তবেই শুধুমাত্র আমাদের মতো দেশে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। আবার যে দোকানদার অল্প কিছু মুনাফার জন্যে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করছে সে জানে না যে এটা তাকেও আগামীতে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।  অতএব সমগ্র জাতিকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে।
 

মেডিভয়েস : ডাক্তারদের ভুমিকা কী?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আমরা অর্থাৎ চিকিৎসকেরা বিষয়টা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানি। আর এই জ্ঞানের কারণে আমাদেরকেই দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক সমস্যা আছে যেগুলো যথাযথ এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের জন্যে প্রতিবন্ধক:
 

আমাদের দেশে বড় শহরগুলোর বাইরে যথেষ্ট মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই বিধায় রেজিস্ট্যান্স এর ধরন-প্রকৃতি নিয়ে চিকিৎসকদের ধারণা স্পষ্ট করার সুযোগ কম। সচেতনতার অভাবে সাধারণ জনগণ প্রায় শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে রেজিষ্ট্রার্ড ডাক্তারদের কাছে আসার আগে ফার্মেসিওয়ালার কাছে যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তাররা চিকিৎসা শুরু করার আগেই রোগীর জটিলতা বেড়ে যায়।
 

বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ আনকোয়ালিফাইড প্রেসক্রাইবার আছে। আমাদের দেশে কলম-খাতা থাকলেই প্রেসক্রাইবার হওয়া যায়। ডিগ্রী থাকতে হয় না। আবার আমাদের ডিগ্রীধারী ডাক্তারদের মধ্যেও যে সমস্যা নেই তা নয়। তবে চারপাশের অবৈজ্ঞানিক ও অনৈতিক পরিবেশটাই বেশী ক্ষতি করছে। যদিও দেশের মাত্র শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ রোগী ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহন করে, তবুও আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকাই শুধুমাত্র পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারে।


 

মেডিভয়েস : জনগণ এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা কী?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: রাষ্ট্রের দায়িত্ব তো সবচেয়ে বেশী ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রকে এন্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বিষয়ে আইন তৈরি ও প্রচার করতে হবে। যেমন: প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবে না। এটা যে একটা গর্হিত কাজ তা সাধারণ মানুষকে বুঝাতে হবে।পাশাপাশি জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তারা যদি সত্যিকারের প্রয়োজন ও সঠিক পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না কিনে তাহলে ফার্মেসিওয়ালারা বিক্রি করবে কার কাছে? হিসেব করলে যেকোন একরাতে ঢাকা শহরে দেখা যাবে যে প্রায় শতকরা ২০ ভাগ পূর্ণবয়ষ্ক মানুষ রাত ১২টায় জেগে আছে, ঘুমানোর সমস্যার কারণে, কিন্তু তারা কি ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে? সাধারনভাবে না, কারণ তারা জানে এই ওষুধটি ক্ষতিকর। এটা নিয়ে তারা সচেতন।এ রকম সচেতন হতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে, ঘুমের ওষুধের মতো ওষুধের ক্ষেত্রে ক্ষতিটা তার একান্ত, কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক যদি কার্যকারিতা হারায় তাহলে শুধু তিনি না, তার ভবিষ্যত প্রজন্মও হুমকির সম্মুখীন হবে। এই সচেতনতাই রক্ষা করতে পারে সারা পৃথিবীর মানুষকে।
 

মেডিভয়েস : এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের করণীয় কী হবে?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আমাদের দেশের চিকিৎসকেরা এন্টিবায়োটিক লেখা প্রেসক্রিপশনগুলোর ক্ষেত্রে যদি রোগীকে এক মিনিট করে ভয়াবহতাটুকু ব্যাখ্যা করে দেয়, তাহলেই চিত্রটা এক বছরের মধ্যে পাল্টে যাবে। জনগণকেও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। যখন প্রেসক্রিপশনে লেখা দেখি দিনে তিন বার, সেটা যে আটঘন্টা পর পর, সে বিষয়টা তো সবাইকেই জানতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদজুড়ে যে এন্টিবায়োটিক খেতে হবে, হতে পারে সেটা পাঁচদিন, সাতদিন বা দশদিন, সেটাও তো জানতে হবে।
 

মেডিভয়েস : এটা প্রতিরোধে কোনো আইন আছে কি না, না থাকলে হওয়া প্রয়োজন কি না?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আমাদের দেশের ওষুধ সংক্রান্ত আইনগুলো প্রায় ৭০-৭৫ বছরের পুরনো, ১৯৪০-৪২ সালের আইন। এরপর যে আইনগুলো হয়েছে তাতে এন্টিবায়োটিকের বিষয়টা পরিস্কারভাবে বলা হয়নি। তবে, সর্বশেষ ওষুধনীতিতে ওভার দ্য কাউন্টার, অর্থাৎ দোকান থেকে সরাসরি কেনা যাবে এধরনের ওষুধের একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মানেই হচ্ছে, তালিকার বাইরের ওষুধগুলো প্রেসক্রিপশন অনলি, অর্থাৎ শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিক্রি করা যাবে। এই আইনের প্রয়োগ জরুরি। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট আইন তৈরি করে, লংঘনকারীর সাজাও নিশ্চিত করতে হবে। যিনি বিক্রি করবেন, তাকে সাজা দিতে হবে। গ্রহীতাকে সতর্ক করা যায় কিন্তু সাজা দেয়া যাবে না। তাহলে সাধারণ মানুষেরও সচেতনতা বাড়বে।
 

মেডিভয়েস : আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানতে চাই
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু:আমি শিক্ষক হিসেবে মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং চিকিৎসকদের মাঝে এই সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। বিষয়টা যেন সবসময় নীতিনির্ধারকসহ সবার আলোচনায় থাকে সেটার চেষ্টা করেছি। আমার ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝেও এবিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার চেস্টা করছে। আমার মনে হয়, এখন রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায় থেকে সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহনের সময় এসেছে।
 

মেডিভয়েস : বিভিন্ন ফার্মেসিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: এধরনের অভিযান আসলে সংবেদনশীল একটা বিষয়। কোনটাকে আপনি নকল বলবেন, কোনটাকে নিম্নমানের বলবেন, কোনটাকে ভেজাল বলবেন সেটা আইনে বলা আছে। অন্যান্য দেশে সাধারণত আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে এগুলো করানো হয় না। এটা মূলত ঔষধ প্রশাসনের কাজ। তবে তাঁরা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারে।
 

মেডিভয়েস : মেডিভয়েসকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: মেডিভয়েস স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে সঠিক সময়ে তুলে ধরছে। মেডিভয়েসের সম-সাময়িক কিছু ইন্টারভিউ আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। মেডিভয়েসের নিউজগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক শেয়ার হয়। মেডিভয়েস পাঠকের সেন্টিমেন্ট বুঝে তাদের চাহিদা পূরণ করে স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে আমি মনে করি।
মেডিভয়েসের প্রতি আমার পরামর্শ হলো- মেডিভয়েসকে একটি উন্নতমানের ইন্টাএকটিভ ওয়েব পোর্টালে পরিণত করা গেলে সেটি এদেশের স্বাস্থ্যখাত তথা চিকিৎসকদের জন্যে একটি ভালো উদাহরন হবে। মেডিভয়েস মূলধারার ইলেকট্রনিক মিডিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে। আর, যদিও ব্যয়বহুল, তবুও এখনো প্রিন্ট মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম, তাই সেটা সম্ভব হলে পাঠকের চাহিদা পূরণ করার জন্যে খুবই ভালো হয়।

 

মেডিভয়েস: স্যার, সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
 

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খসরু: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ এই গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে আগ্রহ দেখানোর জন্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নরমাল ডেলিভারি হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে

নরমাল ডেলিভারি হওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে

সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ ব্যাপার আজকাল। মায়েদের গর্ভাবস্থায় কোন জটিল সমস্যা সৃষ্টি…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর