ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী

ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রেডিওলজিস্ট কার্ডিওলজিস্ট টেকনোলজিস্টরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবে কর্মরত চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টদের রেডিয়েশনের ঝুঁকি এড়াতে পরিধান করতে হয় রেডিয়েশন প্রতিরোধক পোশাক, চশমা ও গ্লাভস। এছাড়াও শরীরে কতটা রেডিয়েশন জমা হচ্ছে, তা পরিমাপে ব্যবহারের কথা বিশেষ ধরনের ব্যাজ। কিন্তু এসব সুরক্ষা উপকরণের পর্যাপ্ত ব্যবহার ছাড়াই এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবে কাজ করায় ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকে, এমনকি আক্রান্তও হচ্ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রেডিয়েশনের প্রভাবে ঢামেক হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক আহমেদ হোসেন ক্যান্সারে ও এক টেকনোলজিস্ট কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের আরেক চিকিৎসক। এর বাইরে অনেকে একই সমস্যায় ভুগছেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী, যে কক্ষে এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান করা হয় সেটা রেডিয়েশন প্রটেকশন হতে হবে। কংক্রিটের ১০ ইঞ্চি দেয়াল থাকবে, যার ওপর লেডের প্রটেকশন দেয়ার পর প্লাস্টার করতে হবে। লেডের প্রটেকশন থাকতে হবে দরজায়ও। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে এসব মানা হলেও বেসরকারি অনেক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই তা মানা হয় না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এক্স-রের কাছাকাছি যারা থাকেন, তাদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ক্রনিক রেডিয়েশনের কারণে ক্যান্সার হয়, এটা বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত। 

ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে রেডিয়েশন প্রতিরোধক পোশাক ও অন্যান্য অনুষঙ্গ ব্যবহার না করার কারণে ঝুঁকি বেশি। এছাড়া দেয়ালে কোথাও ছিদ্র আছে কিনা, বারান্দায় রেডিয়েশন আসে কিনা, এক্স-রে এক্সপোজার নেয়ার সময় সার্বক্ষণিক দরজা বন্ধ থাকে কিনা, তা ঠিকমতো দেখা হয় না। এসব কারণে এ ধরনের পেশায় সম্পৃক্তদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রেডিয়েশন মনিটরিং ব্যবস্থা আণবিক শক্তি কমিশনের আওতাধীন। তাদের উচিত ব্যাজ সরবরাহ ও নিয়মিত তদারকি করা। যত কর্মী তত ব্যাজ না নিলে এক্স-রে মেশিনের নবায়ন না করার প্রথা যদি চালু করা হয়, তাহলেও ঝুঁকি কিছুটা কমবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগে নিয়ম অনুযায়ী আণবিক শক্তি কমিশন রেডিয়েশন ব্যাজ ও টিএলডি ডিভাইস বিভিন্ন হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে লাগিয়ে দিয়ে যেত। নির্দিষ্ট সময় পর সেগুলো রিড করে তার ভিত্তিতে কেউ অতিরিক্ত রেডিয়েশনের মধ্যে আছে কিনা, ওই বিভাগকে তা জানিয়ে দিত। কিন্তু টিএলডি ও ব্যাজ সরবরাহের খরচ বহনের জটিলতায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেটি আর নিয়মিত করছে না আণবিক শক্তি কমিশন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা

সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনীত ধানের…

এক বছর মেয়াদী অনারারি ট্রেনিংয়ের জন্য দরখাস্ত আহবান

এক বছর মেয়াদী অনারারি ট্রেনিংয়ের জন্য দরখাস্ত আহবান

মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অবস অ্যান্ড গাইনী ও শিশু বিভাগে…

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন…

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে আরিফুল ইসলাম। বাবা একজন চা…

বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ পেলেন অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল

বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ পেলেন অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল

দেশের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ ২০১৮ পেয়েছেন…

বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত

বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত

বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে গড়ে ১৭ জন অটিজমে আক্রান্ত। এ…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর